বিএনপির একদল উচ্ছৃঙ্খল কর্মীর হামলায় চরমভাবে লাঞ্ছিত হয়েছেন একজন জার্মান স্থপতি। মিজ আনা হেরিংগার নামের আন্তর্জাতিক-ভাবে খ্যাতিমান এই স্থপতি গত সপ্তাহে বাংলাদেশে আসেন জার্মান সরকারের কাজে। জার্মান উন্নয়ন সংস্থা জিআইজেড এর অর্থায়নে একটি প্রকল্প পরিদর্শন শেষে রবিবার ভোরে উত্তরবঙ্গ থেকে তিনি ঢাকা ফিরছিলেন।
সকাল সাড়ে সাতটায় গাবতলী মার্কেটের সামনে দিয়ে মিজ আনাকে বহনকারী গাড়ি ঢাকায় ঢোকার সময় প্রায় ১৫ জন সশস্ত্র যুবক আক্রমণ করে। তারা গাড়িটি থামিয়ে সবগুলো কাঁচের জানালা ভাঙচুর করে। হামলাকারীরা গাড়ি চালককে টেনে হেঁচড়ে বাইরে ফেলে দেয়। ৩৫ বছর বয়সী মিজ আনা প্রাণের ভয়ে কোন মতে গাড়ি থেকে লাফিয়ে পড়ে পালিয়ে যান। ড্রাইভারকে সন্ত্রসীরা ব্যাপক মারধর করে। গাড়িটি আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয় তারা। নাম ও পরিচয় জানার পরও হামলা থামেনি। কোনভাবে প্রাণে রক্ষা পান তিনি। হামলাকারীরা বিএনপির দলীয় প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার বহন করছিল। তারা দলীয় স্লোগানও দেয়।
মিজ আনা গাবতলী থেকে গুলশানে জার্মান
দূতাবাসে ছুটে গিয়ে আশ্রয় নেন। রাষ্ট্রদূতকে পুরো ঘটনার বিবরণ দেন। তিনি বাংলাদেশে আর থাকতে রাজী নন। মানসিকভাবে বিপর্যস্ত অবস্থায় অবশিষ্ট সফর বাতিল করে রবিবার রাতেই জার্মানী ফিরে যান তিনি।
জার্মান দূতাবাস এই হামলার ঘটনায় চরমভাবে ক্ষুব্ধ ও মর্মাহত হয়েছে। জার্মান রাষ্ট্রদূত ড. আলবেখট কনসে স্থপতি আনার উপর হামলার কড়া প্রতিবাদ জানিয়ে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াকে গতকাল সোমবার একটি চিঠি দিয়েছেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কেও চিঠি দিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেছে জার্মান দূতাবাস।
মিজ আনা এই সময়ের একজন খ্যাতিমান স্থপতি। নিউইয়র্ক ও ইতালির ভেনিসের যাদুঘরে তার স্থপত্যকর্ম প্রদর্শিত হয়। সেরা স্থপতি হিসেবে আগা খান পদক পান। টেকসই স্থপত্য কর্মে তিনি বিশ্ব পদকেও ভূষিত। বাংলাদেশে জার্মান সাহায্যপুষ্ট উন্নয়ন কর্মসূচিতে তিনি ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত।
