শিশুসহ তরুণীকে ঘিরে রহস্য, বিপাকে পুলিশ

আপডেট : ১০ ডিসেম্বর ২০১২, ২২:৫৩
বয়স আনুমানিক সাত মাস। গায়ের রং ফর্সা। গোলগাল মুখ, খাটো করে ছাঁটা চুল। পরনে হালকা ধূসর রংয়ের জামা, কালো প্যান্ট। নাম পান্না। ওর চোখের মায়াবি আবেদন, মন কাড়ে। কথা না বলতে পারলেও মুখের অভিব্যক্তি ‘আমার মাকে এনে দাও’। কিন্তু কোথায় তার জন্মদাতা মা, বাবা অথবা স্বজন? পুলিশ পড়েছে বিপাকে। খুঁজছে নগরীর এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্ত। নগরীর কোন থানায় গত কয়েকদিনে শিশু নিখোঁজ হওয়া নিয়ে কেউ সাধারণ ডাইরিও করেনি। এ মেয়ে শিশুটি রয়েছে রাজধানীর তেজগাঁও থানা সংলগ্ন ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে। গত ৮ ডিসেম্বর জনৈক পথচারী তাসলিমা নামে এক তরুণীসহ শিশুকে ভাটারা থানায় দিয়ে যায়। পুলিশ তাসলিমার কথামতো রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় খোঁজাখুঁজি করে কোন স্বজনের সন্ধান দিতে পারেনি। শেষটায় ভাটারা থানা পুলিশ তাসলিমা ও শিশু পান্নাকে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে হস্তান্তর করে। তাসলিমার বাড়ি কিশোরগঞ্জ জেলার পাকুন্দিয়ায়। তাসলিমা জানিয়েছে, এক সময় সে ঢাকার বনানী এলাকার একটি বাসায় কাজ করতো। কয়েক মাস আগে তার অভিভাবকরা তাকে বাড়ি নিয়ে যায়। আর তার মতের বিরুদ্ধে গত ২৬ নভেম্বর তাকে বিয়ে দেয়। এ অবস্থায় গত ৬ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার সে বাড়ি থেকে পালিয়ে ঢাকায় আসে। কিন্তু ঢাকায় আসার পর কোথায় যাবে, কোথায় উঠবে; এ অবস্থায় এক ট্যাক্সিচালক তার সহায়তায় এগিয়ে আসেন। ঐ ট্যাক্সিচালক ঐ রাতেই তার গাড়িতে করে ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে তার ভাইয়ের বাসায় নিয়ে যান। তাসলিমা জানায়, ঐ বাসায় যাওয়ার পর তাকে নিয়ে ট্যাক্সিচালকের ভাই ও তার স্ত্রীর মধ্যে তুমুল ঝগড়া হয়। এ অবস্থায় তাসলিমা তাদের শিশুকন্যা পান্নাকে নিয়ে বাসা থেকে বেরিয়ে পড়ে। এরপর শিশুটিকে নিয়ে বনানী এলাকায় গিয়ে তার পুরনো মনিবের (যে বাসায় কাজ করতো) বাসা খুঁজতে থাকে। কিন্তু ঐ বাসা সে আর খুঁজে পায়নি। এ অবস্থায় জনৈক পথচারী তাদেরকে ভাটারা থানায় দিয়ে যান। ভাটারা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সৈয়দ জিয়াউজ্জামান বলেন, থানায় তাসলিমার কথামতো ঐদিনই যাত্রাবাড়ী এলাকায় খোঁজাখুঁজি করা হয়েছে। কিন্তু তাসলিমা বাসা চিহ্নিত করতে পারেনি। তার কথাবার্তাও কিছু এলোমেলো বলে মনে হয়। ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) রওনক জাহান বলেন, তাসলিমার ঠিকানামত তার গ্রামের বাড়িতে যোগাযোগ করা হয়েছে। তার স্বজনরা জানিয়েছে, তাসলিমা কিছুটা মানসিক ভারসাম্যহীন। এসি আরও জানান, তাসলিমার কথাবার্তায় তার মধ্যে খারাপ মনোভাব রয়েছে, এমনটা মনে হয় না। তবে শিশুটির নাম পান্না এটা তাসলিমা জানিয়েছে। শিশুটিকে বাসা থেকে নিয়ে আসার প্রসঙ্গে তাসলিমা কোন ধরনের তথ্য দিতে পারেনি। পরে গোটাটাই নিয়ে তৈরি হয়েছে রহস্য। তাসলিমার কথা অনুযায়ী রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানায় যোগাযোগ করা হয়েছে। কিন্তু শিশু হারানো নিয়ে কেউ জিডি করেনি। পান্নার ব্যাপারে কেউ কোন তথ্য পেলে অথবা পিতামাতা, অভিভাবক, আত্মীয়-স্বজনকে সহকারী পুলিশ কমিশনার, ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টার (তেজগাঁও থানা সংলগ্ন), তেজগাঁও, ঢাকা ঠিকানায় অথবা ফোনঃ ৯৯৯-২৬৩৪, ৯১১০৮৮৫, মোবাইলঃ ০১৭৪৫৭৭৪৪৮৬-৭ নম্বরে যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন এসি রওনক জাহান।