দেশকে সংঘাতের পথে ঠেলে দেবেন না :খালেদা জিয়া

আপডেট : ১০ ডিসেম্বর ২০১২, ২২:৫৪
বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার গতকাল এক বিবৃতিতে সরকারকে হুঁশিয়ার করে দিয়ে বলেছেন, জুলুম-পীড়ন করে জনগণের ন্যায্য অধিকার ও দাবিকে কখনো নস্যাত্ করা যায় না। সংঘাতময় পরিস্থিতির দিকে দেশকে ঠেলে দেবেন না। বেগম জিয়া অনতিবিলম্বে মির্জা আলমগীরের নিঃশর্ত মুক্তি ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান। তিনি বলেন, অন্যায়-অত্যাচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাবার ন্যায়-সঙ্গত অধিকার জনগণের আছে। তাই সকল অন্যায়ের প্রতিবাদ জানাতে এবং নিজেদের অধিকার আদায় করতে এই বিজয়ের মাসে সোচ্চার হোন। আজ সারাদেশে শান্তিপূর্ণভাবে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল পালনের মাধ্যমে জনগণের আন্দোলনকে পরবর্তী ধাপে উন্নীত করুন। ইনশাআল্লাহ্ নিপীড়িত জনগণের বিজয় অনিবার্য এবং অতি নিকটবর্তী। পরম করুণাময় আল্লাহ আমাদের সকলের সহায় হোন। খালেদা জিয়া বলেন, বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে আবারো মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে। আমার সঙ্গে বাংলাদেশে সফররত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা রবার্ট ও ব্লেকের পূর্ব নির্ধারিত বৈঠকে যোগদানের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেয়ার প্রাক্কালে তাঁকে আটক করে গোয়েন্দা পুলিশের কার্যালয়ে নেয়া হয়েছে। আমাদের পার্টির অন্যতম যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদকেও একই মিথ্যা মামলায় আসামি করা হয়েছে। আমি এ ধরনের ঘৃণ্য কার্যকলাপের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। তিনি বলেন, দেশ পরিচালনায় সম্পূর্ণ ব্যর্থ সরকার গণতন্ত্রের নাম-নিশানা মুছে ফেলতে বর্তমানে নগ্ন ফ্যাসিবাদী চেহারায় আবির্ভূত হয়েছে। গণবিচ্ছিন্ন এই সরকার খুন, গুম, হামলা, জুলুম, নির্যাতন, চক্রান্ত, গ্রেফতার ও মিথ্যাচারের মাধ্যমে বিরোধীদলকে নিশ্চিহ্ন, ভিন্নমত দমন এবং দেশবাসীকে ভয় দেখিয়ে ক্ষমতায় টিকে থাকতে চাইছে। সংবিধান স্বেচ্ছাচারী কায়দায় তছনছ করে ডেকে এনেছে সংকট ও চরম শাসনতান্ত্রিক নৈরাজ্য। খালেদা জিয়া বলেন, দেশের সচেতন ও বিবেকবান সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ এই সরকারের চরম ব্যর্থতা, অপশাসন এবং শাসকদলের সীমাহীন অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে তাদের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। সরকার ক্ষমতায় থেকে কারচুপির নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নেয়ার অসদুদ্দেশ্যে নির্বাচনকালীন নির্দলীয়-নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে দিয়েছে। বিরোধীদলের নিয়মতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে তারা কেবল প্রশাসনিক প্রতিবন্ধকতাই আরোপ করছে না, দলীয় সন্ত্রাসীদের নামিয়ে সশস্ত্র হামলাও চালাচ্ছে। আমাদের ডাকা রাজপথ অবরোধ কর্মসূচি চলাকালে গতকাল রবিবার রাজপথে অবস্থানরত বিরোধী দলের নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষের ওপর তারা আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছে। প্রকাশ্যে জনতার ওপর গুলি চালিয়েছে। আমাদের দলের প্রাক্তন এমপি নাজিমুদ্দিন আলম তাদের গুলিতে মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন। তারা আইনজীবীদের ওপর হামলা করেছে। একটি সভ্য দেশ এভাবে চলতে পারে না।