গত রবিবার রাজধানীতে ১৮ দলীয় জোটের অবরোধ কর্মসূচি চলাকালে বোমাবাজ সন্দেহে গণপিটুনিতে বিশ্বজিত দাসের মৃত্যুর ঘটনাকে হত্যাকাণ্ড দাবি করে খুনিদের বিচার চেয়েছেন তার স্বজনরা। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছে না তার পরিবার ও গ্রামের মানুষ। তাদের একটাই দাবি : মানুষরূপী ওই হত্যাকারীদের বিচার করতেই হবে। আর কোনো বিশ্বজিতকে যেন ওদের রাজনীতির নিষ্ঠুরতার বলি না হতে হয়!
স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে রবিবার রাত সাড়ে ৭টার দিকে বিশ্বজিতের মৃতদেহ তার গ্রামের বাড়ি নড়িয়া উপজেলার মশুরা গ্রামে নিয়ে আসা হয়। মৃতদেহ গ্রামে পৌঁছলে স্বজনরা কান্নায় ভেঙ্গে পরেন। গ্রামের সাধারণ মানুষসহ বিশ্বজিতের বন্ধুরা বিলাপ করতে থাকেন। রাত সাড়ে ১০টার দিকে স্থানীয় রাধাগোবিন্দ মন্দিরের পাশের শ্মশানে তার শেষকৃত্যানুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। এ সময় হাজার হাজার মানুষ অশ্রুসজল নয়নে তাকে চিরবিদায় জানান।
পারিবারিক সূত্র জানায়, বিশ্বজিত ভোজেশ্বর উচ্চ বিদ্যালয়ে নবম শ্রেণী পর্যন্ত পড়ালেখা করেছেন। আর্থিক অনটনে পড়ালেখা আর এগোয়নি। ২০০৬ সালে বড় ভাই উত্তম দাসের কাছে দর্জির কাজ শেখা শুরু করেন। পরে উত্তম তাকে শাখারি বাজারে ‘আমন্ত্রণ টেইলার্স’ নামে একটি দর্জির দোকান খুলে দেন।
বিশ্বজিতের বাবা অলন্ত দাস বলেন, আমি কিছু দিন যাবত্ অসুস্থ। আমাকে ঢাকায় নিয়ে চিকিত্সা করানোর কথা ছিল বিশ্বজিতের। রাজনীতির শিকার হয়ে আমার আগে তাকেই চলে যেতে হলো। তিনি বলেন, আমার আরেক ছেলে ঢাকায় থাকে। আমি এখন তার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন।
ভাই উত্তম দাস বলেন, আমাদের পরিবারের অনেক বড় ক্ষতি হয়ে গেল। কি অপরাধ ছিল আমার ভাইয়ের? কেন তাকে এভাবে রাজনীতির বলি হতে হলো? আমরা এখন কি করব ভেবে পাচ্ছি না। তিনি বলেন, এখন আবার আমাদের কি হয়- এটা ভেবে আমরা আতঙ্কিত। আমরা অসহায় হয়ে পড়েছি। এক প্রশ্নের জবাবে উত্তম বলেন, আমরা কারো বিরুদ্ধে মামলা করব না। এখন রাষ্ট্র যদি আমাদের পাশে দাঁড়ায়! তবে তিনি ভাইয়ের হত্যাকারীদের দ্রুত বিচার দাবি করেছেন।
বিশ্বজিতের চাচাতো ভাই রবিন দাস বলেন, সে কোনো রাজনৈতিক দলের কর্মী ছিল না। নিরীহ ও শান্ত স্বভাবের ছিল। তিনি অভিযোগ করেন, বিশ্বজিতের মৃতদেহ দেখার জন্য বিএনপির মহাসচিব ও ঢাকার সাবেক মেয়র ছাড়া প্রশাসন বা সরকারি দলের কেউ এখন পর্যন্ত তাদের খোঁজ নেন নি।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ নড়িয়া উপজেলা শাখার সভাপতি রতন কুমার দে বলেন, আমাদের দাবি নিষ্ঠুর এ হত্যাকাণ্ডের বিচার হোক। হত্যার দৃশ্য সবাই দেখেছে। তারপরেও খুনিদের রক্ষার চেষ্টা করলে মানুষ তা মেনে নিবে না।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হাসান রাঢ়ী বলেন, আমি যতদূর জানি বিশ্বজিত কোনো রাজনৈতিক দলের কর্মী নয়। তার পরিবার আওয়ামী লীগের সমর্থক। তবে যারা তাকে হত্যা করেছে, যে দলেরই হোক না কেন তাদের বিচার হওয়া উচিত।
