ঢাকা প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়

টেক্সটাইল ট্যালেন্ট হান্ট ২০১২ এর সেরা পাঁচ

আপডেট : ১১ ডিসেম্বর ২০১২, ১৭:৫৭
বাংলাদেশে জাতীয় পর্যায়ে অনেক কিছুরই প্রতিযোগিতা হয়, যেমন- সেরা সুন্দরী, সেরা কণ্ঠশিল্পী, সেরা রাঁধুনী আরো কত কি। তেমনি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের নিয়ে আয়োজন করা হয় ‘টেক্সটাইল ট্যালেন্ট হান্ট’। বাংলাদেশ টেক্সটাইল টুডের পৃষ্ঠপোষকতায় ৩য় বারের মত আয়োজিত ‘টেক্সটাইল ট্যালেন্ট হান্ট ২০১২’-এর সেরা পাঁচে এসেছে ঢাকা প্রকৌশল বিদ্যালয় (ডুয়েট) এর ছাত্র মোঃ পলাশ হোসেন, মোঃ আইয়ুব আলী ও এম. এ. সাকিব এবং টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র মোঃ আবুল হাসনাত এবং সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটির ছাত্র মোঃ সেলিম আজাদ দিদার। প্রতিযোগিতায় ১ম হওয়া মোঃ আবুল হাসনাত বলেন, ‘এ প্রতিযোগিতা আমাদের মধ্যে নতুন কিছু সৃষ্টি করার জন্য আগ্রহ সৃষ্টি করেছে। আমরা প্রত্যেকেই গত কয়েক মাস ধরে নতুন কোন বিষয় নিয়ে গবেষণা করেছি। আমরা সবাই চেষ্টা করেছি টেক্সটাইল সেক্টরকে কি করে আরও উন্নত করা যায়।’ প্রতিযোগিতায় ১ম রানারআপ হওয়া মোঃ পলাশ হোসেন বলেন, ‘তিন বছর আগে যখন এ রকম একটি প্রতিযোগিতা শুরু হয় তখনই আমি স্বপ্ন দেখেছিলাম যে আমি একদিন সেরা পাঁচে থাকবো, সবার সামনে আমি আমার প্রজেক্ট পেপার উপস্থাপন করব। সেই লক্ষ্যে আমি গত এক বছর ধরে কাজ করেছি। আমি আমার প্রজেক্টে চেষ্টা করেছি কিভাবে সময়, পানি ও এনার্জি সেভ করে ডাইং করা যায়। সেজন্য আমি ব্লিচিং প্রসেস বাদ দিয়ে কাপড় ডাইং করার চেষ্টা করেছি এবং কত পার্সেন্ট পর্যন্ত সেড ডাইং করা সম্ভব তা দেখিয়েছি। এটা যদি ফ্যাক্টরিতে প্রয়োগ করা যায় তাহলে এতে করে আমাদের গ্যাস ও ইলেকট্রিসিটি সাশ্রয় হবে।’ এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করা প্রত্যেকেই নতুন নতুন টপিক নিয়ে কাজ করেছে। এ বিষয়ে টেক্সটাইল ট্যালেন্ট হান্ট-এর সদস্য সচিব ও বাংলাদেশ টেক্সটাইল টুডের সম্পাদক এস. এম. তারেক আমিন বলেন, বাংলাদেশের বৈদেশিক আয়ের শতকরা ৭৮% আসে বস্ত্রখাত থেকে। তাই এই সেক্টরকে কি ভাবে আরো উন্নয়ন করা যায় সেটা ভেবেই এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করা। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা প্রথমে রেজিষ্ট্রেশন করে, তাদের মধ্য থেকে লিখিত পরীক্ষার মাধ্যমে সেরা ৫০ জন শিক্ষার্থী বেছে নেয়া হয়। তারপর তাদের ট্রেনিং ও গ্রুমিং করানো হয়, এবং এর পরবর্তীতে তাদের তিন মাসের সময়ের মধ্যে একজন সুপারভাইজারের তত্ত্বাবধানে থেকে কোন একটি নির্ধারিত বিষয়ের উপর প্রজেক্ট পেপার তৈরি করে জমা দেয়। সেখান থেকে সেরা ১৫ জনকে বাছাই করা হয়। তারপর তাদের বিচারক প্যানেলের সামনে মৌখিক পরীক্ষার জন্য উপস্থিত হতে হয়। সেখান থেকে ফাইনাল রাউন্ডের জন্য সেরা ৫ জনকে নির্বাচিত করা হয়। এই সেরা ৫ জন বিচারক প্যানেল এবং দর্শকদের সামনে প্রত্যেকেই তাদের নিজ নিজ প্রজেক্ট পেপারের উপর প্রেজেন্টেশন করে। এ প্রতিযোগিতার মূল উদ্দেশ্য হলো শিক্ষার্থীদের মাঝে গবেষণার আগ্রহ সৃষ্টি করা। সত্যিইতো আজকের এই তরুণেরাই আগামীদিনের নেতৃত্ব দিবে। আমাদের দেশের এই টেক্সটাইল সেক্টরকে আরো সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে হাসনাত, পলাশ, আইয়ুবেরা।