শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

শাকসু অচলের ১৫ বছর

আপডেট : ১১ ডিসেম্বর ২০১২, ১৭:৫৮
দেশের প্রথম বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে খ্যাত শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবি) কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ শাকসুর কার্যক্রম নেই এক যুগেরও বেশি সময় ধরে। ১৯৯১ সালে প্রতিষ্ঠিত এ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের কার্যক্রম নেই এক যুগেরও বেশি সময় ধরে। সাধারণ শিক্ষার্থীরা শাকসু নির্বাচন আয়োজনের দাবি দীর্ঘদিন ধরে করে আসছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, শাকসুর সর্বশেষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৯৭ সালের ২৫ আগস্ট। ওই নির্বাচনে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের পূর্ণ প্যানেল বিজয়ী হয়েছিল। তখন ভিপি নির্বাচিত হন কামরুল হাসান কাবেরী ও জিএস পদে আব্দুল্লাহ আল মামুন। বিজয়ী ছাত্র নেতাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রত্ব শেষ হয়ে গেছে প্রায় পনের বছর পূর্বেই। এখনও দুই বছর মেয়াদি কমিটি বহাল রয়েছে। নিয়মতান্ত্রিকভাবে শাকসু নির্বাচন যথাসময়ে অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীরা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসলেও এ বিষয়টি কৌশলে এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ধারণা, শাকসুর নির্বাচন অনুষ্ঠানের উদ্যোগ নেয়া হলে নির্বাচনকে ঘিরে ছাত্র সংগঠনগুলোর বিবদমান অভ্যন্তরীণ কোন্দল মাথা চাড়া দিয়ে উঠতে পারে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশকে বিঘ্নিত করতে পারে। ছাত্র সংগঠনগুলোর অতীত কর্মকাণ্ড পর্যালোচনা করলে এমন আশংকা একেবারেই উড়িয়ে দেয়া যায় না। সাধারণ শিক্ষার্থীরা এই বিষয়টি নিয়ে মাথা ঘামাতে নারাজ। তাদের বক্তব্য, নির্বাচনী সিডিউল ঘোষণার সময় নির্বাচনী কঠোর নীতিমালা থাকলে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হলে ছাত্র সংগঠনগুলোর গ্রুপিং, কোন্দল এতে কোনো প্রভাব ফেলবে না। এদিকে অনেক পূর্ব থেকেই শাকসু নির্বাচনের ব্যাপারে সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো জোর দাবি জানিয়ে আসছিল। কিন্তু বিভিন্ন সময় বিভিন্ন জটিলতার কারণে শাকসু নির্বাচন সম্ভব হয়নি। ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের কার্যক্রম না থাকলেও ক্যাম্পাসের বাইরে দলীয় কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। শাকসু নির্বাচন প্রসঙ্গে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের আহবায়ক এস এম জাহাঙ্গীর বলেন, সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের ন্যায্য দাবি প্রশাসনকে অবহিত করার জন্যই ছাত্র সংসদ কার্যকর হওয়া উচিত। আমরা ইতিপূর্বে প্রশাসনকে অনুরোধ করেছি নির্বাচন দেয়ার জন্য। অন্যান্য ছাত্র সংগঠনের সাথে আলোচনা চলছে। অচিরেই আমরা বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করবো, যাতে প্রশাসন শাকসু নির্বাচন দিতে বাধ্য হয়। এ ব্যাপারে শাবির ছাত্রশিবিরের সভাপতি হোসাইন আহমদ জানান, যোগ্য নেতৃত্ব তৈরির জন্য ছাত্র সংসদ সচল করা সময়ের দাবি। আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষে। ছাত্র সংসদ যেহেতু শিক্ষার্থীদের নিয়ে কাজ করে, তাই এর নির্বাচন হওয়া জরুরি বলে মনে করি। নির্বাচন হলে সঠিক নেতৃত্বের মাধ্যমে ছাত্রদের দাবি-দাওয়া পূরণে শাকসু অগ্রণী ভূমিকা রাখবে। বামধারার ছাত্র সংগঠনগুলোর কমিটি থাকলেও তাদের সাংগঠনিক অবস্থান খুবই নড়বড়ে। যদিও এক সময় বাম সংগঠনগুলোর শক্ত অবস্থান ছিল। সাধারণ শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবি-দাওয়াসহ যে কোনো ইস্যুতে জোরালো ভূমিকা চোখে পড়তো ছাত্র ইউনিয়ন, জাতীয় ছাত্রদল, ছাত্রফ্রন্ট ও ছাত্র ফেডারেশনের। শাকসুর নির্বাচনের দাবিতে জাতীয় ছাত্রদল ক্যাম্পাসে গণস্বাক্ষরের কর্মসূচি পালন করছে। এ প্রসঙ্গে এ সংগঠনটির সভাপতি প্রদীপ দত্ত বলেন, আমরা প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি অচিরেই শাকসু নির্বাচন দেয়ার জন্য। শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক পন্থায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের সাথে আলাপ- আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত জানাতে সংসদের ভূমিকা অপরিহার্য বলে মনে করি। মহাজোট সরকারের তিন বছরের মাথায় ছাত্রলীগের হামলায় ইসলামী ছাত্রশিবির আবাসিক হল ছেড়েছে। ক্যাম্পাসের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ এখন ছাত্রলীগের হাতে। অপরদিকে বাম সংগঠনগুলোর এক্ষেত্রে জোর তত্পরতা থাকলেও তাদের নড়বড়ে অবস্থান থাকার কারণে ভালো ভূমিকা রাখতে পারছে না। বড় দুই ছাত্র সংগঠন ছাত্রদল ও ছাত্রলীগও শাকসু সচল করার জন্য যাবতীয় পদক্ষেপ নেয়ার জন্য তাদের মতামত দিয়েছে। তাদের এমন মনোভাবের ফলে শাকসু নির্বাচনের অনিশ্চয়তা অনেকটা কেটে যাবে বলে সবার ধারণা। শামসুজ্জামান চৌধুরী সুমন জানান, ছাত্রদের স্বার্থের জন্যই শাকসু নির্বাচন চাই। এ ব্যাপারে আমরা প্রশাসনকে যথাযথ পদক্ষেপ নেয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়েছি। এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও শাকসুর কোষাধ্যক্ষ ড. হিমাদ্রী শেখর রায় বলেন, প্রশাসন চায় শাকসু প্রতিনিধি থাক। শাকসু নির্বাচনের পক্ষে এটা হওয়া উচিত বলে মনে করি। সকল সংগঠন যদি এ ব্যাপারে আগ্রহ দেখায় তবেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। শাকসুর মাধ্যমে ক্যাম্পাস সঠিক নেতৃত্ব ফিরে পাবে। শাকসুর মাধ্যমেই ছাত্র অধিকারের সব দাবি প্রশাসনের কাছে তুলে ধরা হবে। যার মাধ্যমে ক্যাম্পাসে সুস্থ রাজনীতি ফিরে আসবে এবং ছাত্রদের অধিকারের প্রতি সচেষ্ট হবে এমনটি প্রত্যাশা করছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা।