চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট) অপূর্ব স্থাপত্যশৈলীতে মাথা উঁঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে গৌরবময় ইতিহাসের শহীদ মিনার। আকার, অবস্থান ও মহান শহীদদের স্মৃতিচিহ্ন সম্বলিত এই নবনির্মিত শহীদ মিনার অনিন্দ্য সুন্দর রূপ ধারণ করেছে। প্রায় ৫৭ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই শহীদ মিনারটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন হচ্ছে মহান বিজয়ের মাসে।
নবনির্মিত শহীদ মিনার সম্পর্কে চুয়েটের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, মহান বিজয়ের মাসে অনিন্দ্য সুন্দর স্থাপত্যকলা সম্বলিত এই শহীদ মিনার যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছে। এটি চুয়েটের সার্বিক অগ্রগতি ও সৌন্দর্যের চিত্র তুলে ধরছে। চুয়েট পরিবার এখন অপূর্ব স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত এই মিনারে মহান শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করবে।
শহীদ মিনারের নকশাকারক ও চুয়েটের স্থাপত্য বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মু. মোস্তাফিজ আল-মামুন এ সম্পর্কে বলেন, চুয়েটের নবনির্মিত শহীদ মিনার পথ দেখানো মহান ভাষা আন্দোলনের চিত্রপট তুলে ধরেছে। এখানকার ত্রিকোণাকার ল্যান্ডস্ক্যাপের মধ্যে আছে একটি চতুর্ভূজাকার মূল প্লাটফরম। এই প্লাটফরমের একদিকে রয়েছে একটি ৩০ ফুট উচ্চতা বিশিষ্ট কালো রংয়ের স্তম্ভ, এটি একুশের মহান শহীদদের শোকের রং ধারণ করেছে। মাঝে রয়েছে একটি লাল কিউব (ঘনক)-এটি শহীদদের রক্ত রঞ্জিত হওয়ার চিত্র তুলে ধরেছে। এই লাল কিউবের উপরে দণ্ডায়মান একটি সাদা কলামের নিচে দুইটি সাদা কিউব-যা প্রকাশ করেছে মুষ্টিবদ্ধ উদীয়মান তরুণ শক্তিকে।
তিনি আরো বলেন, পিছনের টেরাকোটায়ও ফুটিয়ে তোলা হয়েছে ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস চিত্র। একেবারে পিছনে ২৪ ফুট উচ্চতার সাদা দেয়ালে রয়েছে একটি চতুর্ভূজ আকৃতির জানালা-যা আমাদের নতুন সম্ভাবনার স্বপ্ন এঁকে দেয়। এছাড়া শহীদ মিনারে রয়েছে লাল ইটের শিল্পকর্ম, প্রকৃতির চিত্র। রাখা হয়েছে আলোকমালা ও পানির ফোয়ারার ব্যবস্থাও।
