লন্ডনের ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়ামের প্যাভিলিয়নে থাবা বাগিয়ে থাকা একটি ডাইনোসরকে, জানা ডাইনোসরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে প্রাচীন বলে শনাক্ত করেছেন গবেষকরা। ডাইনোসরটিকে ২৪ কোটি ৫০ লাখ বছরের পুরানো বলে মনে করা হচ্ছে। কয়েক দশক ধরে মিউজিয়ামের সংগ্রহে থাকা একটি রহস্যময় ফসিলের নমুনা নিয়ে গবেষণার পর বিজ্ঞানীরা এমন ধারণা করছেন। এর আগে জানা সবচেয়ে পুরনো ডাইনোসর থেকে এ প্রজাতির ডাইনোসরগুলো আরো এক থেকে দেড়কোটি বছর আগে জীবিত ছিল বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।
আফ্রিকার দক্ষিণাঞ্চলীয় নায়াসা হ্রদ (বর্তমান নাম মালাউয়ি) ও ফসিলের নমুনা সংগ্রহকারী কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের রেক্স প্যারিঙ্গটনের নামানুযায়ী ডাইনোসর প্রজাতিটির নাম রাখা হয়েছে নাইয়াসাসাউরাস প্যারিঙ্গটোনি। ১৯৩০ সালে ওই হ্রদের তীরের একটি এলাকা থেকে নমুনাটি সংগ্রহ করেছিলেন প্যারিঙ্গটন। নাইয়াসাসাউরাস প্যারিঙ্গটোনি আকারে একটি বড় কুকুরের সমান।
১৯৫০-এর দশকেও এই ফসিলের নমুনাটি নিয়ে গবেষণা করা হয়েছিল, কিন্তু তখন এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্তে আসা যায়নি, তাই এ বিষয়ে কোনো গবেষণাপত্রও প্রকাশ করা হয়নি। তারপর থেকেই ফসিলের নমুনাটি নিয়ে একটি রহস্য তৈরি হয় বলে জানান গবেষক পল ব্যারেট। এরপর থেকে ফসিলের প্রাণীটি একটি ‘রূপকথার প্রাণী’তে পরিণত হয় বলে জানান তিনি। প্রথম দিকের এ ডাইনোসরটি দুই পায়ে দাঁড়াতে পারতো বলে মনে করেন গবেষকরা। লেজ থেকে মাথা পর্যন্ত এটি দুই থেকে তিন মিটার লম্বা ও ওজন ২০ থেকে ৬০ কেজি ছিল বলে জানিয়েছেন তারা। ডাইনোসরটির আরো ফসিল খুঁজে পেতে তাঞ্জানিয়ার মালাউয়ি হ্রদ এলাকায় নতুন অভিযান পরিচালনা করা হবে বলে জানিয়েছেন গবেষকরা।
