ইউরোপের বৃহত্তম ব্যাংক এইচএসবিসিকে অর্থ পাচার সংক্রান্ত অভিযোগের নিষ্পত্তির জন্য যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃপক্ষকে ১৯০ কোটি ডলার জরিমানা দিতে হচ্ছে। গতকাল মঙ্গলবার সকালেই এ সংক্রান্ত একটি ঘোষণা আসার কথা । এ ধরনের সমঝোতার ক্ষেত্রে এটিই এ পর্যন্ত দেয়া সর্বোচ্চ পরিমাণ অর্থ।
ব্রিটিশ এই ব্যাংকটির বিরুদ্ধে অভিযোগ, এই ব্যাংকের মাধ্যমে ইরানে শত শত কোটি ডলার পাচার করা হতো। অথচ ইরান আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার মধ্যে রয়েছে। এই নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ইরানে অর্থ পাচারে এই ব্যাংকটি জড়িত থাকার কারণে এই জরিমানা করা হয়। এছাড়া এই ব্যাংকের মাধ্যমে মেক্সিকোতে মাদক চক্রের কাছে অর্থ পাচার করা হতো বলে অভিযোগ রয়েছে। একটি আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কর্মকর্তার মতে, এইচএসবিসিকে ১২৫ কোটি ডলার খেসারত হিসাবে এবং বাকি ৬৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার দিতে হবে সাধারণ জরিমানা হিসাবে। এইচএসবিসির বিরুদ্ধে ‘ব্যাংক গোপনীয়তা আইন’ ভঙ্গ এবং শত্রু দেশের সঙ্গে লেনদেন করার অভিযোগ আনা হবে। আল জাজিরার প্রতিনিধি অ্যালান ফিশার ওয়াশিংটন ডিসি থেকে বলেন, বড় ধরনের এ জরিমানা সত্যিকার অর্থে ব্যাংকটির বিরুদ্ধে একটা বিশাল চপেটাঘাতের শামিল। পাশাপাশি অন্যান্য ব্যাংকের প্রতিও এটা একটা সতর্ক বার্তা। লন্ডনভিত্তিক এই ব্যাংকটির তরফ থেকে বলা হয়, তারা এ সংক্রান্ত তদন্ত কাজে সবধরনের সহযোগিতা করছেন। তবে তদন্তের স্বার্থে তা প্রকাশ করা যাচ্ছে না। এর আগে চলতি বছরের শুরুতে মার্কিন সিনেটের তদন্তে অর্থ পাচারের সঙ্গে এইচএসবিসির সম্পৃক্ততার প্রমাণ মেলে। মাদক চোরাচালানিরা এইচএসবিসি ব্যাংকের মাধ্যমে শত শত কোটি ডলার পাচার করছে বলে অভিযোগ আনা হয়। এছাড়া ব্যাংকটির বিরুদ্ধে মার্কিন অনুমোদন আইন ভাঙারও অভিযোগ রয়েছে। গত নভেম্বর মাসে অর্থ পাচারের দায়ে ১৫০ কোটি ডলার জরিমানা দিতে হতে পারে বলে আশঙ্কা করেছিল ব্যাংকটির কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনার আগে মার্কিন অনুমোদন নিয়ম ভাঙার জন্য যুক্তরাজ্যভিত্তিক স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংককে ৩০ কোটি ডলার জরিমানা করেছিল মার্কিন কর্তৃপক্ষ।
