কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং অবৈধ রোহিঙ্গা বস্তিতে চলছে নীরব দুর্ভিক্ষ। প্রায় ৫০ হাজার অসচ্ছল রোহিঙ্গা নাগরিক তাদের জীবন-জীবিকার অন্বেষণে প্রতিদিন ভোরে কাজের সন্ধানে বস্তি ছেড়ে শহর বন্দর গ্রাম থেকে গ্রামান্তর হাট-বাজারে ছুটে চললেও এদের নিয়ন্ত্রণ করার কেউ নেই। মাঝে-মধ্যে পুলিশ যাত্রীবাহী গাড়ি তল্লাশি চালিয়ে হাতেগোনা কয়েকজন রোহিঙ্গাকে আটক করে পুশব্যাক করলেও বৃহত্তর রোহিঙ্গার অংশ থেকে যাচ্ছে ধরা ছোঁয়ার বাইরে। ফলে স্থানীয় নাগরিক জীবন-যাপনে বিরাজ করছে নানামুখি সমস্যা, দুর্ভোগ ও বিড়ম্বনা। বিশেষ করে শ্রমের বাজার রোহিঙ্গাদের নিয়ন্ত্রণে চলে যাওয়ার প্রেক্ষিতে স্থানীয় খেটে খাওয়া অসহায় পরিবারগুলোকে পোহাতে হচ্ছে মানবেতর দিনযাপন।
জানা গেছে, ২০১০ সালে সীমান্তের নাফ নদী অতিক্রম করে প্রায় ৫০ হাজার রোহিঙ্গা স-পরিবারে অনুপ্রবেশ করে উখিয়ার কুতুপালং রেজিষ্ট্রার্ড শরণার্থী শিবিরের পার্শ্বস্থ বনভূমির সৃজিত বাগানে। তারা বাগানটি ধ্বংস করে ঝুপড়ি বেঁধে আশ্রয় নিয়েছে। উখিয়া বনরেঞ্জ কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা বন কর্মীদের নিয়ে রোহিঙ্গাদের দখলীয় বন বাগান উদ্ধার করতে গেলে রোহিঙ্গারা বনকর্মীদের উপর হামলা চালিয়ে ইট পাটকেল নিক্ষেপ করে। ঘটনাস্থলে বিট কর্মকর্তাসহ ৫ জন বনকর্মী আহত হয়। পরবর্তীতে তত্কালীন জেলা প্রশাসকের নিদের্শক্রমে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুদ করিম পুলিশ বাহিনীর সহযোগীতায় অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর একাধিকবার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। এসময় বিদেশি সাহায্য সংস্থার চাপে অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গাদের অস্থায়ীভাবে আশ্রয় দিলেও তাদের খাদ্যসহ যাবতীয় সাহায্য-সহযোগিতা না করার জন্য রোহিঙ্গাদের সেবায় নিয়োজিত এনজিওগুলোর প্রতি নির্দেশ প্রদান করেন জেলা প্রশাসন। তথাপিও সরকারের অনুমতিক্রমে এম.এস.এফ.হল্যান্ড ও এসিএফ ওই সব অবৈধ রোহিঙ্গাদের চিকিত্সা, সুপেয়পানি ও সেনিটেশন সুবিধা দিয়ে আসছে।
এদিকে সরকারি ও বেসরকারিভাবে কোন প্রকার সাহায্য-সহযোগিতা না পাওয়ার সুবাদে বর্তমানে ওই রোহিঙ্গা বস্তিতে নীরব দুর্ভিক্ষ চলছে বলে বস্তিতে বসবাসরত রোহিঙ্গাদের অভিমত। রবিবার কুতুপালং অবৈধ রোহিঙ্গা বস্তি ঘুরে দেখা যায় অপরিচ্ছন্ন নোংরা পরিবেশে রোহিঙ্গারা দৈনন্দিন জীবন-যাপন করছে। ঝুপড়িতে বসবাসরত মরজান বিবি (৫৫) নামের এক বৃদ্ধ মহিলা জানালেন, বড় ছেলে নবী হোছন (২৮) মালয়েশিয়া যাওয়ার কথা বলে নিখোঁজ হয়ে গেছে বছর দেড়েক আগে। বর্তমানে তার বউ তিন ছেলে-মেয়ে নিয়ে অনাহারে-অর্ধাহারে দিনযাপন করতে হচ্ছে। পাশের ঝুপড়ির বৃদ্ধ হাকিম আলী (৬০) জানালেন, দিনেরবেলায় ভিক্ষা করে যা পাই তা দিয়ে কোন রকম বেঁচে আছি। বস্তির রোহিঙ্গা মহিলা কুলসুমা বেগম (৩৫) জানান, এখানে কোন এনজিও বা বেসরকারি সংস্থার লোকজন সাহায্য করতে এলে পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে। এ ভয়ে সাহায্য-সহযোগিতা করতে কেউ এগিয়ে আসে না।
