১২ ডিসেম্বর নরসিংদী মুক্ত দিবস
নরসিংদী
মিত্র ও মুক্তিবাহিনীর তীব্র প্রতিরোধ ও আক্রমণের মুখে সমগ্র নরসিংদী অঞ্চল পাকহানাদারমুক্ত হয় ১২ ডিসেম্বর। স্বাধীনতা যুদ্ধের দীর্ঘ ৯ মাসে নরসিংদী জেলার বিভিন্ন থানায় প্রায় শতাধিক খণ্ডযুদ্ধ সংঘটিত হয়। এসময় পাক হানাদারবাহিনীর নির্মমতার শিকার হয়ে নরসিংদীতে ২৭ জন, পলাশে ১১ জন, শিবপুরে ১৩ জন, রায়পুরায় ৩৭ জন, বেলাবোতে ১৬ জন ও মনোহরদীতে ১২ জনসহ মোট ১১৬ জন বীর সন্তান শহীদ হন। তবে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ নরসিংদী জেলা ইউনিট কমান্ডার মো.আব্দুল মোতালিব পাঠানের মতে মুক্তিযুদ্ধকালে জেলায় ২৩৭ মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন। মুক্তদিবস উপলক্ষে নরসিংদী জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের পক্ষ থেকে এক আলোচনা সভা ও বর্ণাঢ্য র্যালির আয়োজন করা হয়েছে। এতে প্রধান অতিথি থাকবেন মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সেক্টর কমান্ডার, সাবেক সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল (অব.) কে.এম শফিউল্লাহ বীরবিক্রম। অন্যান্যের মধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মাঈনউদ্দিন খন্দকার ও সভাপতি ঢাকা বিভাগ মুক্তিযোদ্ধা সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম আবুল কালাম আজাদ পাটোয়ারী উপস্থিত থাকবেন।
চান্দিনা ও বুড়িচং (কুমিল্লা)
১৯৭১ সালের রক্তঝরা এইদিনে বীর মুক্তিযোদ্ধারা পাক হানাদারবাহিনীর কবল থেকে মুক্ত করে এই চান্দিনাকে। ১১ ডিসেম্বর চান্দিনার মুক্তিযোদ্ধারা মানসিকভাবে দ্বিগুণ শক্তিশালী হয়ে পাকবাহিনীর উপর আক্রমণ চালালে পাক হানাদারবাহিনী ১২ ডিসেম্বর চান্দিনার এতবারপুরে ও ফাঐ মাঠে আত্মসমর্পণ করে মেঘনা নদী দিয়ে গজারিয়া হয়ে পালিয়ে যায়। এই দিবসটি উপলক্ষে চান্দিনা উপজেলা প্রশাসন, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠন আনন্দ র্যালি, আলোচনা সভা, মসজিদে মিলাদ মাহফিল, মন্দিরে প্রার্থনাসহ ব্যাপক কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।
গোবিন্দগঞ্জ (গাইবান্ধা)
১৯৭১ সালের এইদিনে দীর্ঘ ৯ মাসের বিভীষিকাময় দিনের শেষে সবুজের মাঝে রক্তলাল পতাকা উড়িয়ে সামগ্রিক বিজয় ছিনিয়ে আনার ৩দিন পূর্বেই গোবিন্দগঞ্জে ওড়ে বিজয়ের্ পতাকা। মুক্ত হয় গোবিন্দগঞ্জ। দীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর ১১ ডিসেম্বর ভোর রাতে হিলি গাইবান্ধা এবং বোনারপাড়া ও মহিমাগঞ্জ থেকে আসা মুক্তিযোদ্ধাদের ত্রিমুখী আক্রমণে প্রায় দু’শ’ পাকসেনা নিহত হয়। পালিয়ে যায় অন্যেরা। পরদিন ১২ ডিসেম্বর জয় বাংলা শ্লোগানে আকাশ-বাতাস প্রকম্পিত করে মুক্তিযোদ্ধা ও ছাত্র-জনতা হাইস্কুল মাঠে সমবেত হয়ে লাল সবুজ জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে। মুক্ত হয় গোবিন্দগঞ্জ। মুক্তদিবস উপলক্ষে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা পরিষদ অগ্নিবীণা সংগীত নিকেতন, গোবিন্দগঞ্জ থিয়েটার, চাকাসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক, সামাজিক সংগঠন নানা ধরনের কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
