পিকেটিংয়ের অভিযোগে ঢাবি ছাত্রদলের সাত নেতাকর্মী আটক

আপডেট : ১১ ডিসেম্বর ২০১২, ২২:১৩
বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোটের হরতালের সমর্থনে পিকেটিং শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ছাত্রদলের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদকসহ ৭ নেতা-কর্মী আটক হয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার পুলিশের পৃথক অভিযানে তাদের আটক করা হয়। আটককৃতদের মধ্যে ছাত্রদলের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক মাসুদ খান পারভেজকে রবিবারের অবরোধের ঘটনায় পুলিশের উপর হামলা এবং সহিংসতার অভিযোগে গ্রেফতার দেখিয়েছে পুলিশ। শাহবাগ থানা, বংশাল থানা এবং প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, গতকাল সকাল ৬টার দিকে রাজধানীতে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সামনে থেকে একটি মিছিল বের করে ছাত্রদল। মিছিলে মাসুদসহ ছাত্রদলের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি মইদুল হাসান হিরু, বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান নেতৃত্ব দেন। মিছিলটি চানখাঁরপুল পৌঁছালে পুলিশ লাঠিচার্জ করে। এতে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা বিচ্ছিন্ন হয়ে দৌড় দিলে বিশ্ববিদ্যালয়ের একুশে হলের সামনে থেকে মাসুদ খান পারভেজকে আটক করে বংশাল থানা পুলিশ। সকালে চানখাঁরপুল এলাকায় দুইটি ককটেল বিস্ফোরণ হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। বংশাল থানার ডিউটি অফিসার এসআই আসগর হোসেন জানান, অবরোধের সময় সহিংসতার অভিযোগে মাসুদের বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় মামলা রয়েছে। তাই তাকে শাহবাগ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। অপরদিকে, হরতালে সহিংসতায় জড়িয়ে পড়তে পারে এমন সন্দেহ থেকে গতকাল সকাল ৮টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩ ছাত্রসহ ৬ জনকে বাংলা একাডেমীর সামনের সড়ক এবং দোয়েল চত্বর থেকে আটক করে পুলিশ। আটক ছাত্রদের দাবি, তারা সকালে ক্যাম্পাসে হাঁটতে বের হয়েছিলেন। তারা পিকেটিং করবে এমন সন্দেহ করে পুলিশ তাদেরকে আটক করেছে। অপর তিন আটককৃত দাবি করেছেন, তারা পিকেটার নন, পথচারী। আটককৃতদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা হলেন- খায়রুল আলম শাওন, মোবারক হোসেন, খালেদ। আর অন্য তিন জন হলেন- হাবিব, হাসানুল ইসলাম এবং মাসুম। শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম বলেন, সহিংসতা সৃষ্টি করতে পারে এমন অভিযোগে ঐ ছয়জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের বিষয়ে খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে। নির্দোষ হলে ছেড়ে দেয়া হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর ড. আমজাদ আলী বলেন, পুলিশের সাথে ইতিমধ্যে ছাত্রদের বিষয়ে আলোচনা করেছি। ছাত্ররা নির্দোষ প্রমাণিত হলে তাদেরকে ছেড়ে দেয়া হবে বলে পুলিশ প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।