অবরোধের সময় পুরানো ঢাকায় বিশ্বজিত্ দাস হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের মধ্যে গণমাধ্যমে যাদের নাম ও ছবি প্রকাশ ও প্রচার হয়েছে, তাদেরকে ২৪ ঘন্টার মধ্যে গ্রেফতারের নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। জড়িতরা যাতে দেশ ছেড়ে পালাতে না পারে সেজন্যও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সরকারকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আদালতের এ নির্দেশ নৌ, স্থল ও বিমান বন্দর কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্টদের অবহিত করতে পুলিশের আইজিকে নির্দেশ দিয়েছে আদালত। জড়িতদের গ্রেফতারের বিষয়ে আগামী ১৩ ডিসেম্বর আদালতকে অবহিত করতে বলা হয়েছে। ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী দায়েরকৃত এক আবেদনের শুনানি শেষে বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী ও বিচারপতি ফরিদ আহমেদের ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল মঙ্গলবার এ আদেশ দেন। আদেশে জড়িতদের কেন গ্রেফতারের নির্দেশ দেয়া হবে না- তার কারণ জানতে চেয়ে রুল জারি করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র সচিব, পুলিশের আইজি, র্যাবের মহাপরিচালক, ঢাকা রেঞ্জ পুলিশের উপ-মহাপরিদর্শক, ঢাকা জেলা প্রশাসক, ডিএমপি কমিশনারসহ দশ জনকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
বিশ্বজিত্ দাস হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতারের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেন সাপ্তাহিক সপ্তবর্ণা পত্রিকার সম্পাদক নাজিম আহমেদ। আবেদনে হত্যাকাণ্ডে জড়িত রফিকুল ইসলাম, মীর মো. নুরে আলম, মাহফুজুর রহমান, ওবায়দুল কাদের, এমদাদুল হকের নাম আসামি হিসাবে এজাহারভুক্ত করা, নিহত বিশ্বজিত্ দাসের মা-বাবা ও পরিবারকে পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ প্রদানের নির্দেশনা চাওয়া হয়। আবেদনকারীর পক্ষে এডভোকেট ইউনুস আলী আকন্দ ও রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি এটর্নি জেনারেল এডভোকেট অমিত তালুকদার শুনানি করেন। এছাড়া আইনজীবী ব্যারিস্টার একেএম শফিউদ্দিন, এডভোকেট কেএম সাইফুদ্দিন আহমেদ ও এডভোকেট শম রেজাউল করিমের বক্তব্য শোনে আদালত।
শুনানিতে একেএম শফিউদ্দিন বলেন, গণমাধ্যমে যাদের নাম এসেছে তাদের বিচারের মুখোমুখি করা উচিত। এদের বাইরে আরো লোক জড়িত থাকতে পারে। জড়িতদের কোনভাবেই ছাড় দেয়া ঠিক হবে না। কারণ অবরোধের সময় বাসা থেকে বের হয়ে নিরীহ বিশ্বজিত্ দাস নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। যা কোনভাবেই মেনে নেয়া যায় না। কেএম সাইফুদ্দিন বলেন, এটা মর্মান্তিক ঘটনা। এ ঘটনায় জড়িতদের ফাঁসি হওয়া উচিত। শম রেজাউল করিম বলেন, বিশ্বজিত্ হত্যাকাণ্ডের ভিডিও ফুটেজ দেখে আমি স্তম্ভিত। মিডিয়ায় জড়িতদের ছবি প্রকাশ পেয়েছে। এদেরকে চিহ্নিত করা কোন সমস্যা নয়। তিনি বলেন, জড়িতরা ছাত্রলীগ, যুবলীগ বা ছাত্র শিবির যে সংগঠনেরই হোক না কেন, কেউই আইনের ঊধের্" নয়। জড়িতদের বিচারের মুখোমুখি করতে হবে।
শুনানির এক পর্যায়ে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় কাউকে গ্রেফতার করা হয়েছে কিনা তার সঠিক তথ্য আদালত জানতে চাইলে ডেপুটি এটর্নি জেনারেল অমিত তালুকদার জানান, এখনও কেউ গ্রেফতার হয়নি। এরপর আদালত উপরোক্ত আদেশ দেয়।
