গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিকে মিডিয়ার সামনে হাজির করা যাবে না

আপডেট : ১১ ডিসেম্বর ২০১২, ২২:২০
গ্রেফতারকৃত বা সন্দেহভাজন হিসেবে আটক ব্যক্তিকে স্বীকারোক্তি প্রদানের জন্যে গণমাধ্যমের সামনে হাজির না করার জন্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে এ আদেশ বাস্তবায়নের প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করতে স্বরাষ্ট্র সচিবকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এক আবেদনের শুনানি শেষে বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী ও বিচারপতি ফরিদ আহমেদের ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল মঙ্গলবার এ আদেশ দেন। আদেশে বলা হয়, গ্রেপ্তারকৃত বা সন্দেহভাজন ব্যক্তি বিচারে নির্দোষ প্রমাণিত হতে পারেন। তাই বিচারের আগে তাকে মিডিয়ার সামনে হাজির করা শুধু মিডিয়া ট্রায়ালই নয়, এটা মিডিয়া কনভিকশনও বটে। এছাড়া গ্রেফতারকৃত বা সন্দেহভাজন হিসেবে আটক ব্যক্তিকে মিডিয়ার সামনে হাজির করে বক্তব্য দেয়া থেকে বিরত থাকতে এবং আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তাদের দায়িত্বের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে কেন নির্দেশ দেয়া হবে না তাও জানতে চাওয়া হয়েছে। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে স্বরাষ্ট্র সচিব, পুলিশের আইজি, র্যাবের মহাপরিচালক ও ডিএমপি কমিশনারকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। যে কোন মামলায় আটক ব্যক্তিকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কর্তৃক গণমাধ্যমের সামনে হাজির করে স্বীকারোক্তি প্রদানের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে এ আবেদন করেন শিক্ষানবিশ আইনজীবী আকিল-উজ-জামান। আবেদনের পক্ষে ব্যারিস্টার একেএম শফিউদ্দিন ও রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি এটর্নি জেনারেল এডভোকেট অমিত তালুকদার শুনানি করেন। এছাড়া সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সহ-সভাপতি এডভোকেট কে এম সাইফুদ্দিন আহমেদ, সাবেক সম্পাদক এডভোকেট শম রেজাউল করিম, এডভোকেট লায়েকুজ্জামান মোল্লা ও এডভোকেট মাইনুল হক প্রমুখ আইনজীবীর বক্তব্য গ্রহণ করেন আদালত। শুনানিতে একেএম শফিউদ্দিন বলেন, এখন যে চর্চা হচ্ছে, তাতে আসামিকে গ্রেফতারের পর সংবাদ সম্মেলন ডেকে তাকে দিয়ে গণমাধ্যমের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করা হচ্ছে। এতে ন্যায়বিচার ব্যাহত হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে আসামি পক্ষ। তাদের সামাজিক মর্যাদা হেয় হচ্ছে। এটা এক ধরনের মিডিয়া ট্রায়ালে চলে যাচ্ছে। তিনি বলেন, কোনো ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার বা আটকের পরে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে দিয়ে সংবাদ সম্মেলন করার ক্ষমতা আইন-শৃংখলা বাহিনীর নেই। আইনের বিধান হচ্ছে, অপরাধ সংঘটিত হলে আইন শৃংখলা বাহিনী সেটা দেখবে এবং দোষীদের বিচারের জন্য সংশ্লিষ্ট আদালতে সোপর্দ করবে। এ পর্যায়ে গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিকে আইন-শৃংখলাবাহিনী মিডিয়ার সামনে হাজির করে এবং স্বীকারোক্তিমূলক বক্তব্য আদায় করে। এটা আইনের দৃষ্টিতে সঠিক কিনা-আদালতের এমন জিজ্ঞাসার জবাবে এডভোকেট কেএম সাইফুদ্দিন বলেন, বিচারাধীন মামলায় কোনো আসামিকে বিচারের আগে মিডিয়ার সামনে হাজির করা এবং তার স্বীকারোক্তিমূলক বক্তব্য আদায় করা আইনগতভাবে সমর্থনযোগ্য নয়। এডভোকেট শ ম রেজাউল করিম বলেন, কোনো অপরাধ সংঘটনের পর অপরাধী গ্রেফতার হলো কিনা সে বিষয়ে মিডিয়া বা জনগণের জানার অধিকার রয়েছে। তথ্য অধিকার আইন অনুযায়ী তথ্য জানার অধিকার সকলের আছে। তবে দেখতে হবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা বা সামাজিকভাবে হেয় করার অসত্ উদ্দেশ্য নিয়ে মিডিয়ার সামনে হাজির করা হয়েছে কিনা। শুনানি শেষে হাইকোর্ট অন্তর্বর্তীকালীন আদেশের পাশাপাশি রুল জারি করেন।