ফুসফুসের জটিলতায় ভুগছেন দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট নেলসন ম্যান্ডেলা। গতকাল মঙ্গলবার দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ের একটি বিবৃতিতে এ কথা জানানো হয়। খবর বিবিসির।
ম্যান্ডেলা আশঙ্কামুক্ত অভিহিত করে এতদিন বিভিন্ন গণমাধ্যমে বক্তব্য দিয়ে আসলেও গতকালের এই বিবৃতির মাধ্যমে প্রথমবারের মতো ম্যান্ডেলার প্রকৃত শারীরিক অবস্থা সম্বন্ধে বিশ্ববাসীকে অবহিত করলো দেশটির সরকার। প্রসঙ্গত, গত শনিবার রাজধানী প্রিটোরিয়ায় সামরিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয় দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্টকে। তার আরো স্বাস্থ্য পরীক্ষা হবে বলে জানিয়েছে দেশটির সরকার। সোমবার রাতে হাসপাতালে ‘তার ভালো ঘুম হয়েছে’ বলে এক সরকারি বিবৃতিতে জানানো হয়। প্রেসিডেন্ট জ্যাকব জুমার কার্যালয় থেকে প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়, সাবেক প্রেসিডেন্ট ম্যান্ডেলার রাতে ভালো ঘুম হয়েছে এবং তিনি যথাযথ তত্ত্বাবধানে রয়েছেন। তার আরোগ্য কামনা করে পাঠানো বার্তার জন্য জনগণকে ধন্যবাদও জানানো হয় বিবৃতিতে। দক্ষিণ আফ্রিকার প্রতিরক্ষামন্ত্রী নসিভিয়ে মাপিসা-এনকাকুলা হাসাপাতালে নেলসন ম্যান্ডেলার সঙ্গে দেখা করার পর সাংবাদিকদের বলেন, তিনি খুব দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠছেন। সামরিক বাহিনী তার চিকিত্সার দায়িত্বে রয়েছে।
শান্তিতে নোবেল পুরস্কারজয়ী ৯৪ বছর বয়সী নেলসন ম্যান্ডেলা দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্ট। বর্ণবাদ ও অবিচারের বিরুদ্ধে সংগ্রামী এ নেতা জীবনের ২৭ বছর কারারুদ্ধ অবস্থায় কাটিয়েছেন। এরমধ্যে ১৮ বছর তিনি কেপটাউনের উপকূলীয় অঞ্চলের রোবেন দ্বীপে কারারুদ্ধ ছিলেন। ১৯৯০ সালে মুক্তি পাওয়ার পর ১৯৯৪ সালে সব জাতিগোষ্ঠীর অংশগ্রহণে এক ঐতিহাসিক নির্বাচনে তিনি প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। ওই নির্বাচনের মধ্যদিয়েই দক্ষিণ আফ্রিকায় শ্বেতাঙ্গদের শাসন শেষ হয়। ১৯৯৯ সালে রাজনীতি থেকে অবসর নেন নেলসন ম্যান্ডেলা। ২০১১ সালে শ্বাসকষ্টজনিত কারণে এবং এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে তলপেটের ব্যথায় আক্রান্ত হয়ে জোহানেসবার্গে হাসপাতালে ভর্তি হন তিনি। ওই সময় স্বাস্থ্য পরীক্ষায় কোনো গুরুতর সমস্যা ধরা না পড়ায় কয়েকদিন হাসপাতালে থেকে বাড়ি ফিরে যান তিনি। এরপর থেকে ইস্টার্ন কেপ প্রদেশে তার শৈশবের গ্রাম কুনুতে বসবাস করছিলেন এই নেতা।
