রাজধানীতে আওয়ামী লীগের হরতালবিরোধী মিছিল-সমাবেশ

আপডেট : ১১ ডিসেম্বর ২০১২, ২২:২৩
বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোট ডাক দিলেও গতকাল মঙ্গলবারের হরতালে রাজপথ ছিল মূলত আওয়ামী লীগের দখলে। হরতালের নামে সহিংসতা ও নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি প্রতিহত করতে ভোর থেকেই দলটির নেতা-কর্মীরা রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে সতর্ক অবস্থানে ছিল। দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় বঙ্গবন্ধু এভিনিউ, মগবাজার, মৌচাক, মালিবাগ, মিরপুর, গাবতলী, মহাখালী, তেজগাঁও শিল্প এলাকা, কাওরান বাজারসহ নগরীর শতাধিক স্থানে হরতালবিরোধী মিছিল-সমাবেশ করেছে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ অন্যান্য সহযোগী সংগঠন। কিছু মিছিলে স্থানীয় সংসদ সদস্যদের নেতৃত্ব দিতে দেখা গেছে। তবে কোথাও হরতাল সমর্থনকারীদের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ কিংবা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। সকাল থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা হরতাল বিরোধী মিছিল নিয়ে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় প্রাঙ্গণে আসতে থাকেন। বেলা বাড়ার সাথে সাথে পুরো বঙ্গবন্ধু এভিনিউ লোকে লোকারণ্য হয়ে যায়। সাড়ে ১০টার দিকে দলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী মাহবুব-উল-আলম হানিফ সেখানে উপস্থিত হন। এরপর সেখানে হরতাল বিরোধী বিশাল সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। মিছিলগুলোতে বিরোধী দলের ডাকা হরতালকে অবৈধ ঘোষণা দিয়ে নাশকতার দায়ে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে গ্রেফতারের দাবি জানানো হয়। স্থানীয় সংসদ সদস্য কামাল আহমেদ মজুমদারের নেতৃত্বে সকাল ১০টার দিকে মিরপুর ১০ নম্বরে হরতালবিরোধী মিছিল হয়। আরেক সংসদ সদস্য আসলামুল হক আসলামের নেতৃত্বে হরতালের বিপক্ষে মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা বের করা হয়। সকাল ১০টা ২০ মিনিটে সরকারি বাঙলা কলেজ ছাত্রলীগ হরতালবিরোধী মিছিল বের করে। এর আগে সকাল সোয়া ৯ টার দিকে ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের নেতৃত্বে সোনারগাঁ?ও হোটেলের সামনে থেকে একটি হরতালবিরোধী মিছিল বের হয়। মিছিলটি বাংলামোটর এলাকা প্রদক্ষিণ করে। এ সময় রাস্তায় কিছুটা যানজটের সৃষ্টি হয়। তেজগাঁও শিল্প এলাকায় মোটরসাইকেল ও ট্রাক শোভাযাত্রা বের করা হয়। এছাড়া সকালে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে মোটরসাইকেল মহড়া দেয় ছাত্রলীগ। এসময় তাদের হাতে বাঁশের লাঠি ও ইট দেখা গেছে। এ ব্যাপারে মগবাজার এলাকার এক ছাত্রলীগ কর্মী বলেন, জামায়াত-শিবির অতর্কিত হামলা করতে পারে। তাই নিজেদের নিরাপত্তার কথা ভেবে ইট-পাটকেল হাতে রেখেছি। মহাখালীতে সকাল ৯টার দিকে তিতুমীর কলেজ ছাত্রলীগ হরতাল বিরোধী মিছিল বের করে। সকাল থেকেই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, কবি নজরুল ও সোহরাওয়ার্দী কলেজ ছাত্রলীগ দফায় দফায় হরতাল বিরোধী মিছিল করে। মিছিলগুলো পুরান ঢাকার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। অন্যদিকে যুবলীগ নেতাকর্মীরা যাত্রবাড়ী, সায়েদাবাদ, মাতুয়াইলসহ বিভিন্ন এলাকায় হরতাল বিরোধী মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা বের করে। আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ এ বিষয়ে বলেন, আওয়ামী লীগ কর্মীদের নিজ নিজ এলাকায় থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। যাতে বিরোধী দল আন্দোলনের নামে বেপরোয়া হয়ে কোন কিছু না করতে পারে। তাদের হাতে লাঠিসোটা থাকা প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটা ঠিক নয়। তবে কেউ অতি উত্সাহী হয়ে কিছু করলে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দেয়া আছে।