যেসব ব্যাংক কৃষিঋণ বিতরণে তাদের নিজেদের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা থেকে পিছিয়ে রয়েয়ে তাদেরকে আবারো সতর্ক করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একইসঙ্গে আমদানি বিকল্প ফসল উত্পাদন করে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করতে কৃষকদের চার শতাংশ সুদে ঋণ দেয়ার ব্যাপারে বানিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে জোর তাগিদ দিয়েছে। গতকাল বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকের কৃষি ঋণ ও আর্থিক সেবাভূক্তি বিভাগের সঙ্গে বেসরকারি-বিদেশি ব্যাংকের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে এ নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। অবশ্য এর আগেও বিভিন্ন সময় ব্যাংকগুলোকে এ ধরণের নির্দেশ দেয়া হয়েছিল।
সূত্রমতে, চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিক অর্থাত্ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অনেক ব্যাংকই কৃষি ঋণ বিতরণে তাদের লক্ষ্যমাত্রা থেকে অনেক পিছিয়ে রয়েছে। এমনকি কয়েকটি ব্যাংক এখাতে কোন ঋণ বিতরণ করেনি। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, বিদেশি মালিকানাধীন সিটি ব্যাংক এনএ, হাবিব ব্যাংক এবং স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া কৃষি খাতে কোন ঋণ বিতরণ করেনি। যদিও বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়মে বলা হয়েছে প্রত্যেক ব্যাংকে অবশ্যই তাদের মোট ঋণের দুই শতাংশ কৃষি ঋণ বিতরণ করতে হবে। আর কোন ব্যাংক যদি তা করতে ব্যর্থ হয় তাহলে ওই ব্যাংকে জরিমানা করা হবে বলেও কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিভিন্ন সময় জানিয়েছে। অর্থাত্ ঋণ বিতরণে অপারগ ব্যাংকগুলোর কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জমা রাখা অর্থের একটি বড় অংশ কেটে রাখার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে।
এদিকে কৃষকদের মাঝে শুধুমাত্র ঋণ বিতরণ করে দায়িত্ব শেষ না করে উত্পাদিত ফসল কিভাবে সংরক্ষণ করা যায় এবং উত্পাদিত ফসলের মাধ্যমে কিভাবে কৃষক বেশি পরিমান উপকৃত হতে পারে সেদিকে খেয়াল রাখার কথাও বলা হয়। উত্পাদিত ফসলের সংরক্ষণ ও বিপণন ব্যবস্থায় কিভাবে সহায়তা করা যায় তা ব্যাংকগুলোর শাখা ব্যবস্থাপকদের মাধ্যমে পরীক্ষা ও পর্যালোচনা করতে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। অন্যদিকে ব্যাংকগুলো প্রকৃতপক্ষে কৃষি ঋণ বিতরণ করছে কিনা এ সংক্রান্ত পর্যবেক্ষণ করতে বলেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একইভাবে এ সংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণ ও মনিটরিং করতে যাতে সুবিধা হয় সেজন্য ব্যাংকগুলো কৃষি ঋণ বিতরণ ও আদায় সংক্রান্ত বিবরণী প্রতি মাসের ৭ তারিখের মধ্যে কেন্দ্রিয় ব্যাংকে পাঠাতে বলা হয়েছে। গতকাল অনুষ্ঠিত বৈঠকে, কৃষি ঋণ বিতরণের সময় ডাল, তৈলবীজ, মশলা জাতীয় ফসল, ও ভুট্টা চাষে কৃষকদের সিএসআর (কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা) কার্যক্রমের আওতায় বিনামূল্যে ফসলবীজ সরবরাহের জন্য ব্যাংকগুলোকে পরামর্শ দেয়া হয়েছে। যেসব এলাকায় আমদানি বিকল্প দ্রব্য যেমন— ভুট্টা, তৈলবীজ ডাল ও মসলা জাতীয় দ্রব্য বেশি উত্পাদন হয় ওইসব এলাকার কৃষকদের মাঝে ঋণ বিতরণ বাড়ানোর জন্যও ব্যাংকগুলোকে তাগিদ দেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
প্রসঙ্গত, চলতি অর্থবছরে ব্যাংকগুলো কৃষি খাতে ১৪ হাজার ১৩০ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে বেসরকারি ও বিদেশি ব্যাংকগুলো ৫ হাজার ৫২৩ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে বিতরণ করেছে এক হাজার ১৬ দশমিক ৫৬ কোটি টাকা যা লক্ষ্যমাত্রার ১৮ দশমিক ৪১ শতাংশ।
