বিশ্বকাপ ২০১৯
স্পোর্টস রিপোর্টার
২০১৭ সালের আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ভুলটা আবার করতে চায় না ইংল্যান্ড। বরং দেশের মাটিতে অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপ ট্রফিটা জিতে নিয়েই নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিতে মরিয়া ইয়ন মরগ্যানের দল। এবারের বিশ্বকাপের অন্যতম ফেবারিট দল স্বাগতিক ইংল্যান্ড। দু’বছর আগে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতেও তারা ফেবারিট ছিল। কিন্তু কার্ডিফের স্লো উইকেটে পাকিস্তানের বিপক্ষে সেমিফাইনালে হেরে তাদের স্বপ্নের অপমৃত্যু ঘটে।
সেই আসরের স্মৃতিচারণা করে অধিনায়ক ইয়ন মরগ্যান ব্রিটিশ গণমাধ্যম ডেইলি মেইলকে বলেন, ‘২০১৭ সালের সেই সেমিফাইনালের পর ড্রেসিংরুমে ফিরে আমরা দু’টি বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছি। প্রথমত আমরা একটা ভালো দলের বিপক্ষে হেরেছি, আর নিজেদের প্রশ্ন করেছি যে উইকেটটা কি আদৌ আমাদের মনমতো ছিল? এরপর থেকে ওরকম উইকেটে আমরা অনেকবার খেলেছি। সিডনিতে খেলেছি, ওয়েলিংটনে খেলেছি। প্রতিবারই আমরা আগের চেয়ে ভালো খেলেছি।’
মরগ্যান মনে করেন গেল দুই বছরে নিজেদের অনেকটাই পাল্টে ফেলেছে ব্রিটিশরা। তিনি বলেন, ‘আমরা মাঠে গিয়ে নিজেদের খেলাটা খেলতেই পছন্দ করি। গেল কয়েকটা বছরে আমরা এই নিজেদের খেলার ধরনে পরিবর্তন এনেছি। আক্রমণাত্মক খেলা বাদ দিয়ে ইতিবাচক, চৌকস খেলার চেষ্টা করেছি।’
গত শনিবার থেকে শুরু হয়েছে ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ ক্যাম্প। সেখানে প্রাথমিক দলে থাকা ১৫ জন অংশ নিয়েছেন। সাথে ছিলেন জোফরা আর্চার ও ক্রিস জর্ডানও। ২৩ মে’র মধ্যে ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসিকে নিজেদের চূড়ান্ত দল জানিয়ে দিতে হবে দলগুলোর। বিশ্বকাপ শুরু হবে আগামী ৩০ মে। শেষ হবে ১৪ জুলাই। খেলা হবে ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের ১১টি ভেন্যুতে। এই ১১টি ভেন্যুর মধ্যে লর্ডস ছাড়াও আছে এজবাস্টন, ওল্ড ট্রাফোর্ড, হেডিংলি, ট্রেন্ট ব্রিজ, সাউদাম্পটন, কার্ডিফ, চেস্টার লি স্ট্রিট, টওন্টন ও ব্রিস্টল। টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হবে ৪৬ দিনে।
ক্রিকেট ইতিহাসের প্রথম তিনটি বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হয়েছিল এই ইংল্যান্ডে। এরপর সর্বশেষ ১৯৯৯ সালের বিশ্বকাপেরও আয়োজক ছিল ইংল্যান্ড। এবার আবার বিশ্বকাপ ফিরছে তার আঁতুড়ঘরে। ক্রিকেটের আঁতুড়ঘর হওয়ার পরও অবশ্য আজ অবধি ৫০ ওভারের বিশ্বকাপ জেতা হয়নি ইংল্যান্ডের। সম্বল কেবল একটা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ট্রফি। এবার আর সেই আক্ষর রাখতে চান না মরগ্যান। যদিও ফেবারিট তকমাতে খুব একটা উচ্ছ্বসিত নন মরগ্যান। বরং তিনি নিজেদের সেরাটা দিতে বাড়তি পরিশ্রমে মনোযোগ দিচ্ছেন। বললেন, ‘সেই চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সময় থেকেই তো আমরা ফেবারিট। কিন্তু আমরা সেমিফাইনাল থেকে বাদ পড়ে যাই। এটা নিয়ে আমরা কথা বলেছি। আমরা আসলে ফেবারিটদের মতোই খেলতে চাই। সবাই বেশ নির্ভার আছে। আমরা যে ফেবারিট, এই ব্যাপারটার সাথে আমরা অভ্যস্ত হয়ে গেছি। ফলে এখন এটা না ভেবে আমাদের পরিশ্রম করার দিকে মনোযোগ দিতে হবে। আশাকরি আমরা চাপটা সামলাতে পারবো।’
২০১৫ সালের বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব থেকেই বাদ পড়েছিল ইংল্যান্ড। এরপরই যেন নিজেদের আমূল পাল্টে ফেলে দলটি। সেই সময়ের পর থেকে ৮২টি ওয়ানডে খেলে ৫৩টিই জিতেছে ইংলিশরা। এবার এই পারফরম্যান্সকে বিশ্বকাপের মঞ্চে নিয়ে যাওয়ার পালা। বিশ্বকাপের আগে প্রস্তুতিটাও মোক্ষম হচ্ছে মরগ্যানদের।
আগামী তিন মে ডাবলিনে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে একটা ওয়ানডে খেলবে তারা। এরপর পাকিস্তানের বিপক্ষে একটা টি-টোয়েন্টি ও পাঁচটি ওয়ানডে খেলবে। বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের প্রথম ম্যাচ আগামী ৩০ মে, দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে।
