দাকোপে নদীতে বাঁশের পাটা দিয়ে অবৈধ মাছ চাষ

আপডেট : ১২ ডিসেম্বর ২০১২, ২১:১৯
সারাদেশে সরকারি খাস খাল ও নদী ইজারা বন্ধ থাকলেও দাকোপ উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও কতিপয় প্রভাবশালী ব্যক্তি সরকারি লিজ বা ইজারা ছাড়াই অবৈধভাবে কামারগোদা নদীতে আড়াআড়িভাবে বাঁশের পাটা দিয়ে মাছ চাষ শুরু করেছেন। ফলে এলাকার কৃষকরা তাদের হাজার হাজার বিঘা জমিতে আগামী বোরো ফসল ও রবিশস্য নিয়ে হতাশ হয়ে পড়েছে। এছাড়া নদীনির্ভর শতাধিক দরিদ্র জেলে পরিবার মাছ শিকার করতে না পেরে মানবেতর জীবনযাপন করছে। সরেজমিনে এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলার কামারখোলা ইউনিয়নের শত শত কৃষক কামারগোদা নদীর মাধ্যমে তাদের হাজার হাজার বিঘা জমিতে পানি সরবরাহ ও সেচ করে বোরো ধান উত্পাদন করে আসছিলেন। কিন্তু বর্তমানে নদীতে বাঁশের পাটা দেয়ার কারণে তারা জমিতে পানি সরবরাহ ও সেচ দিতে পারেন না। এতে এলাকার কৃষকরা ভীষণ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বোরো মৌসুমে কৃষকরা ধান ও রবিশস্য চাষ করে পূর্বেকার ক্ষতি পুষিয়ে নেয়ার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করলেও কামারগোদা নদীর বাঁশের বাঁধের কারণে পানি সরবরাহ ও সেচ দিতে না পেরে কৃষকরা হতাশ হয়ে পড়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করে বলেন, কয়েকজন জনপ্রতিনিধি ও প্রভাবশালী ব্যক্তি লিজ বা ইজারা না নিয়েই জবরদখল করে নদীতে আড়াআড়িভাবে বাঁশের পাটা দিয়ে মাছ চাষ শুরু করেছেন। শতাধিক জেলে পরিবার দীর্ঘদিন এই নদীতে মাছ ধরে জীবিকানির্বাহ করলেও এখন মাছ ধরতে পারছে না। বাধ্য হয়ে দরিদ্র জেলে মাছ ধরার নৌকা ও জাল বিক্রি করে অন্যের জমিতে মজুরি খেটে চলেছেন। জয়নগর গ্রামের কৃষক লুত্ফর রহমান সানা, ফকিরডাঙ্গা গ্রামের কৃষক রণজিত্ রায় জানান, প্রাকৃতিক দুর্যোগে এ অঞ্চলের মানুষ বোরো ফসল উত্পাদনে বার বার প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হন। এ অঞ্চলে বোরো ও রবিশস্য চাষে অনাবৃষ্টি সমস্যা হওয়ার কারণে সেচ নিয়ে কৃষকদের বিপাকে পড়তে হয়। কৃষকরা চাষাবাদে কামারগোদা নদীর উপর নির্ভরশীল। কামারগোদা নদীই শত শত কৃষকের ভরসা। তারা বলেন, কামারগোদা নদী দখল নেয়ার জন্য স্থানীয় ইউপি মেম্বর সুশংকর বাছাড় ওরফে চেকন, মন্টু লাল রায় ও আমজাদ হোসেন গাজীসহ এলাকার কয়েক প্রভাবশালী ইজারা ছাড়াই জোর করে নদীর বিভিন্নস্থানে বাঁশের পাটা পেতে মাছ চাষ করছেন। এলাকাবাসী এ অবস্থা থেকে উদ্ধার পেতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। নদীতে অবৈধ বাঁশের পাটা পেতে মাছ চাষকারী কামারখোলা ইউপি মেম্বর সুশংকর বাছাড়, মন্টু লাল রায় বলেন, কামারগোদা নদীতে এলাকার লোকজন সম্মিলিতভাবে সমাজভিত্তিক মাছ চাষ করছে। নদী ইজারার জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করা হয়েছে। দাকোপ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল হালিম বলেন, কামারগোদা নদী কোন ব্যক্তিকে মাছ চাষ করার জন্য ইজারা বা লিজ প্রদান করা হয়নি। যদি কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান নদীতে সরকারের অনুমতি ছাড়া বাঁশের পাটা পেতে মাছ চাষ করে থাকেন তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।