অভাবের তাড়নায় লেখাপড়া বেশি দূর এগুতে পারিনি। জীবন-জীবিকার তাগিদে প্রথমে রিক্সা চালিয়ে আমার পরিবার চালাতাম। দীর্ঘ এক যুগ পূর্বে রিক্সা চালানো বাদ দিয়ে বাধ্য হয়ে জীবন বাঁচানোর তাগিদে কৃষি কাজে সম্পৃক্ত হয়েছিলাম। প্রায় এক যুগ ধরে এই কৃষি কাজ দিয়েই চলছে আমার জীবন সংগ্রাম। ভাগ্যটা বদলাতে কৃষি কাজের এক পর্যায়ে সবজি চাষ শুরু করি। সবজি চাষের বদৌলতে আজ আমার ভাগ্য অনেকটা বদলে গেছে। এ বছর আমি শিম চাষ করছি। আগে যেখানে আমার পরিবারে আর্থিক অভাব-অনটন লেগেই থাকতো, বর্তমানে সেখানে আর্থিক অভাব-অনটন অনেকটাই কেটে গেছে—কথাগুলো ইত্তেফাককে বলছিলেন সুনামগঞ্জ জেলার বিশ্বম্ভপুর থানার পাখিজান গ্রামের আবুল আলিমের ছেলে সবজি চাষি মকবুল মিয়া (৪০)। সপরিবারে তিনি সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার শাহজিরগাঁও গ্রামের ইলিয়াস মিয়ার বাড়িতে পাঁচ সদস্যের পরিবার নিয়ে বসবাস করছেন।
চাষি মকবুল বলেন, গত বছর শীত মৌসুমে এক একর জমিতে শুধু শিম চাষ করে প্রায় এক লক্ষ টাকা আয় করেছি। তাই এ বছর পাঁচ একর জমিতে শিম চাষ করি। এতে ফলন ভাল হয়েছে। আশা করছি, গত বছরের তুলনায় এ বছর আরো বেশি টাকা আয় হবে। এলাকার কয়েকজনের কাছ থেকে প্রায় পাঁচ একর জমি বর্গা নিয়ে ভাদ্র মাস থেকে শিমের চারা রোপণ করা শুরু করি। এজন্য বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে প্রায় এক লক্ষ টাকা ধার করেছি।
তিনি জানান, তার শিম বাগানে প্রায় চারজন শ্রমিক প্রতিদিন কাজ করছেন। প্রতিদিন সকালে-বিকালে শিম গাছ থেকে শিম তুলে বাজারে এনে বিক্রি করেন। শিম আবাদ করতে তিনি কখনও কৃষি অফিসের পরার্মশ নেননি বলে দাবি করেন। উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা মো. খায়রুল আমিন বলেন, উপজেলায় এ বছর প্রায় ৩ হাজার ৭০০ হেক্টর জমিতে সবজি চাষাবাদ করার জন্য নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু এ পর্যন্ত প্রায় আড়াই হাজার হেক্টর জমিতে শীতকালীন সবজি চাষাবাদ হয়ে গেছে। এতে ভাল ফলনও হয়েছে।
