দুবলা জেলে পল্লীতে রাজস্ব আদায়ে দুর্নীতি

আপডেট : ১২ ডিসেম্বর ২০১২, ২১:৪৮
সুন্দরবন তীরবর্তী দুবলা জেলেপল্লীতে বিগত বছরের সকল রেকর্ড ভঙ্গ করে চলতি শুঁটকি মৌসুমে শুরু হয়েছে লুটপাট ও সরকারি রাজস্ব ফাঁকির মহোত্সব। ফাঁড়ির ওসি ও এফজি কৌশলে লুটেপুটে খাচ্ছে রাজস্ব নামের আদায়ের মোটা অংশ। শুঁটকি মৌসুমে এখানে কোটি কোটি টাকার অবৈধ লেনদেন চলে। এ ছাড়া এ কারণে সুন্দরবনের সম্পদের ক্ষতি হচ্ছে প্রায় ৮ থেকে ১০ কোটি টাকা। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বঙ্গোপসাগরের কোল ঘেঁষা ওই দুবলা টহল ফাঁড়ির অধীনে ৮/১০টি জেলে পল্লী রয়েছে। প্রতি বছর সেপ্টেম্বর মাসের মাঝামাঝি থেকে জেলে পল্লীতে শুরু হয় শুঁটকি মৌসুম, চলে ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি পর্যন্ত। এ পাঁচ মাসে ওই জেলে পল্লীগুলোতে চলে কোটি কোটি টাকার লেনদেন। শুঁটকি মৌসুমে সাগরে মাছ আহরণ, জেলেদের অবস্থান, শুঁটকি প্রক্রিয়াসহ নানা খাতে বন বিভাগকে দিতে হয় নির্দিষ্ট হারে সরকারী রাজস্ব। অভিযোগ উঠেছে, রাজস্ব আদায়ে নিয়োজিত বনকর্মীরা সরকারকে ফাঁকি দেয় । প্রতি ফিসিং বোট পাস-পারমিটের জন্য সরকারি ধার্যকৃত রাজস্ব, মৌসুমে অবস্থানের জন্য জনপ্রতি রাজস্ব, বনসংলগ্ন এলাকায় বসতি স্থাপনের জন্য রাজস্বসহ নানা খাতে যে পরিমাণ রাজস্ব আদায়ের বিধান রয়েছে বন বিভাগ তার কয়েকগুণ বেশী রাজস্ব আদায় করছে। কাগজে-কলমে এর কোন সঠিক হিসাব দেখানো হয় না। চলতি মৌসুমে বনরক্ষীরা উেকাচের বিনিময়ে বিপুলসংখ্যক জেলেদের কর্তন নিষিদ্ধ সুন্দরী গাছ (কাকড়া) কাটার সুযোগ দিয়েছে। সূত্র অভিযোগ করেছে, মাত্র ৫ মাসের শুঁটকি মৌসুমে জেলে পল্লী থেকে বিভিন্ন খাতে বৈধ-অবৈধ মিলিয়ে অন্তত ৮ থেকে ১০ কোটি টাকা আদায় করা হয়। তবে কাগজে-কলমে রাজস্ব দেখানো হয় মাত্র দেড় থেকে সোয়া দু’কোটি টাকা। জেলে পল্লীতে বনবিভাগের আরেকটি শুভংকরের ফাঁকি হচ্ছে শুঁটকি করা মাছ সরবরাহের সময়। মাছ ট্রলারে সরবরাহের সময় ওজন অনুযায়ী বন বিভাগকে সরকারি রাজস্ব দিয়ে থাকে। এক্ষেত্রে মত্স্যজীবীরা কাগজে-কলমে যে পরিমাণ মাছ দেখায় তার চেয়ে ২ থেকে ৩ গুণ মাছ বেশি সরবরাহ করে । আর এজন্য বনরক্ষীদের নির্দিষ্ট পরিমাণ উেকাচ দিয়ে থাকে। বন বিভাগের সূত্র মতে, গোটা সুন্দরবনের মধ্যে দুবলা জেলে পল্লীর টহল ফাঁড়ির রাজস্ব আয় সবচেয়ে বেশি। দুবলায় কর্মরত বন কর্মকর্তারা নানা কৌশল দেখিয়ে রাজস্ব আদায় লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব নয় বলে আগেভাগে প্রপাগাণ্ডা চালায়। জেলে পল্লী থেকে আদায়কৃত অর্থের এক-তৃতীয়াংশ রাজস্ব আয় দেখানো হলেও বাকি বিপুল পরিমাণ অর্থ বনবিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী রেশিও অনুযায়ী ভাগ-বাটোয়ারা করে নেন। সূত্র আরো অভিযোগ করেছে, এ ফাঁড়ির ইনচার্জ ফরেস্ট রেঞ্জার এর আগে একবার ও তার সহযোগী এক ফরেস্ট গার্ড দু’বার এখানে কর্মরত ছিলেন।