ও বউ ধান ভানে রে, ঢেঁকিতে পার দিয়া, ঢেঁকি নাচে বউ নাচে, হেলিয়া দুলিয়া—ঢেঁকি নিয়ে গ্রামীণ কবিয়ালের কবিতার অংশ এটি। এমন অনেক কবিতা-গান রয়েছে ঢেঁকিকে নিয়ে লেখা। কিন্তু কালের বিবর্তণে আর যান্ত্রিক সভ্যতার আগ্রাসনে গ্রাম বাংলার ঢেঁকি আজ বিলুপ্তির পথে। এক সময় ধান থেকে চাল তৈরির একমাত্র মাধ্যম ছিল ঢেঁকি। আর ঢেঁকি ছাঁটা চাল ছিল শরীর ও স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী। গ্রামের মেয়েরা পালাক্রমে ঢেঁকিতে ধান থেকে চাল তৈরির সময় নানা গান-গীত পরিবেশন করত। যা কেবলই স্মৃতি। গ্রামে এক সময় নতুন ধান ওঠাকে কেন্দ্র করে নবান্ন উত্সব হত। সেই উত্সবে পরিবারের শিশু-কিশোররা কত না আমোদ-আহলাদে ধেই ধেই করে নাচতো আর গাইতো। উহ্ ! সে কি আনন্দ ! তৈরি হত নানা উপাদেয় বাহারী সাজের রকমারি পিঠা। বাড়ি বাড়ি পিঠা তৈরির ধুম পড়ে যেত। আর ঝি-জামাইদের সে পিঠায় আপ্যায়ন করা হত। ঢেঁকিনির্ভর তত্কালীন জীবন ছিল কত না মধুর ! সেই ঢেঁকি আর ঢেঁকি ছাঁটা চাল আজ আর নেই।
ডিজিটাল যুগের আগামী প্রজন্ম ঢেঁকি কি তা চেনে না বললেই চলে ? ঢেঁকি একটা বড় কাঠের গুঁড়ি দিয়ে তৈরি করা হয়। অন্তত ৬ ফিট লম্বা। যার অগ্রভাগের মাথার কাছাকাছি দেড় ফিট লম্বা মনাই। মনাইয়ের মাথায় পরানো থাকে লোহার রিং; যাকে আঞ্চলিকভাবে চুরন বলে। চুরন বার বার আঘাত করে ধানের খোসা ছিলে চাল বের করে। ঢেঁকির পেছনের লেজ বিশিষ্ট চেপ্টা অংশে এক বা দু’জন পা দিয়ে তালে তালে চাপ।
