পশু জবাই আইন মানা হচ্ছে না পশ্চিমের জেলাগুলোতে। হাট-বাজরে যত্রতত্র নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ছাগল-গরু জবাই ও মাংস ছাড়ানো হয়। পশু জবাই আইনে বলা আছে নির্দিষ্ট কসাইখানা থাকতে হবে। উপবে ছাউনিসহ পাকা চাতাল থাকবে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশে গরু-ছাগল জবাই ও মাংস ছাড়াতে হবে। যারা মাংসের ব্যবসা করবে তাদেরকে সুস্বাস্থ্যের ডাক্তারি সনদপত্র নিয়ে লাইসেন্স করতে হবে। গ্রামীণ হাট-বাজারগুলো ঘুরে দেখা গেছে, দু’-একটি ছাড়া কোথাও কসাইখানা নেই। হাটের পাশে ফাঁকা জংলা জায়গা কসাইখানা হিসাবে ব্যবহার করা হয়। কাদা-মাটির ভেতর পশু জবাই চলে। জবাইয়ের পর পশুর রক্ত ও বর্জ্য ফেলে রাখা হয়। এভাবেই বছরের পর বছর পশু জবাই হয়ে আসছে। রক্ত ও বর্জ্য খাওয়ার জন্য রোগাক্রান্ত কুকুরের দল জবাই করা পশু ঘিরে থাকে। মাগুরার লাঙ্গলবাঁধ হাটে দেখা যায়, গড়াই নদীর পাড়ে নোংরা স্থানে গরু-ছাগল জবাই করা হচ্ছে। চারিদিকে বর্জ্য ছড়ানো ছিটানো। কুকুরের দল জবাইকৃত গরু-ছাগলের চারিপাশে ঘুরঘুর করছে। হাটের কসাইরা জানান, তারা কসাইখানার জন্য হাট কমিটিকে বার বার বলেছে। কিন্তু কোন কাজ হয়নি। একই চিত্র ঝিনাইদহের হলিধানি হাটে। রাস্তার পাশে জঙ্গলের মধ্যে গরু-ছাগল জবাই করা হচ্ছে বছরের পর বছর ধরে। বর্জ্য একই স্থানে ফেলে রাখা হয়। পরের হাটে আবার তার ভেতর পশু জবাই করা হয়। শৈলকুপা পৌরসভার কসাইখানা থাকলেও সেটি এখন ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। পৌরসভার আবর্জনা ফেলা হয় পাশে। জবাই করা পশুর বর্জ্যও ফেলা হয় পাশে। দুর্গন্ধ ছড়ায়। কসাইরা অভিযোগ করেন, পৌর কর্তৃপক্ষকে জানিয়েও কোন লাভ হয়নি। রুগ্ন গরু-ছাগল জবাই করা হয় বলে অভিযোগ উঠলেও দেখার কেউ নেই। কসাইরা জানান, হাতে গোনা দু’-একটি হাট বাজার ছাড়া যশোর, ঝিনাইদহ, মাগুরা, কুষ্টিয়া ও চুয়াডাঙ্গা জেলার সব স্থানে একই অবস্থা। ঝিনাইদহ জেলা প্রাণিসম্পদ অধিকর্তা ডাক্তার কনাই লাল স্বর্ণকার বলেন, আইনে বলা আছে নির্দিষ্ট কসাইখানা থাকতে হবে। পশু জবাইয়ের আগে ও পরে একজন ভেটরিনারি সার্জন পরীক্ষা করবেন। কিন্তু লোকবলের অভাবে তা সম্ভব হচ্ছে না। তিনি জানান, জবাইকৃত পশুর বর্জ্য ফেলে রাখায় নানান ধরনের ব্যাকটেরিয়ার সৃষ্টি হচ্ছে। কুকুরের কারণে রোগ সংক্রামণের ঝুঁকি থেকে যায় বলে তিনি জানান।
