কুমিল্লায় ৩৭ শহীদের গণকবর

আপডেট : ১২ ডিসেম্বর ২০১২, ২১:৫০
১৯৭১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর নারকীয় হত্যাযজ্ঞ চালায় কুমিল্লা সদর উপজেলার পাঁচথুবী ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর গ্রামের একটি বাড়িতে। ঐ বাড়ির পুরুষ, নারী ও শিশু ২১ জনসহ ৩৭ জনকে হত্যা করে হানাদার বাহিনী। বাড়ির পাশেই দেয়া হয় শহীদদের গণকবর। স্বাধীনতার ৪১ বছরেও ঐ গণকবরের স্মৃতি রক্ষায় সরকারিভাবে নেয়া হয়নি কোন উদ্যোগ। ওই পরিবারের একমাত্র বেঁচে যাওয়া হিরণ মিয়া এখন অটোরিক্সা চালিয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছে। একাত্তরের ১১ সেপ্টেম্বর পাক সেনাদের একটি দল মুক্তিযোদ্ধাদের খোঁজে বের হলে এলাকায় আতংক ছড়িয়ে পড়ে। দিনমজুরের কাজের জন্য ভিন্ন এলাকা থেকে আসা লোকজনসহ অনেকে প্রাণে বাঁচার জন্য আশ্রয় নেয় কৃষ্ণপুর গ্রামের আবদুস ছোবাহানের বাড়িতে। পার্শ্ববর্তী বামইল গ্রামের রাজাকার ছোবান পাক সেনাদের লেলিয়ে দেয় ঐ বাড়িতে, শুরু হয় হত্যাযজ্ঞ। পাক সেনারা ঐ বাড়ির একই পরিবারের পুরুষ, নারী ও শিশুসহ ১৪ জনকে হত্যা করে। এছাড়া ঐ বাড়িতে আশ্রয় নেয়া কৃষ্ণপুর, ধনঞ্জয় ও মাঝিগাছা গ্রামের ৩৭ জনকে হত্যা করে পাক সেনারা। এদের মধ্যে ১৬ জনের পরিচয় পাওয়া যায়নি। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় রক্তাক্ত লাশের স্তূপে পড়ে থাকা ৮ বছরের শিশু হিরণ মিয়া প্রাণে বেঁচে যায়। পরদিন ১২ সেপ্টেম্বর মুক্তিযোদ্ধারা গোপনে ঐ বাড়িতে এসে গণহত্যার শিকার শহীদ ৩৭ জনের লাশ ঘরের পার্শ্বে গর্ত করে গণকবর দেয়। বেঁচে যাওয়া গুলিবিদ্ধ শিশু হিরণের পিতা-মাতা ও ভাই-বোনসহ ৭ সদস্যের পরিবারের ৬ জনকে পাক সেনারা হত্যা করে। শহীদ আবদুল লতিফের একমাত্র ছেলে হিরণ মিয়ার বয়স এখন ৪৮ বছর। স্ত্রী, ৪ সন্তান অটোরিক্সা চালিয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন। এলাকার লোকজন জানান, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কেন্দ্রীয় প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মাহমুদ হাছান ব্যক্তিগত অর্থায়নে ২০০১ সালের ১৬ জুন ঐ গণকবরের চিহ্ন রক্ষায় স্মৃতিফলক স্থাপন করেন।