বরগুনার বেতাগীতে বন্যাসহিষ্ণু আমন ধান চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছে কৃষক। এ জাতের ব্রি ধান-৫১, ব্রি ধান-৫২ ধান চাষ করে বাম্পার ফলন পেয়েছে তারা। ভাল ফলনে কৃষকের ঘরে ঘরে এখন আনন্দের বন্যা। পোকা-মাকড় আক্রমণ ও উত্পাদন খরচ কম হওয়ায় এ ধানের প্রতি আগ্রহ বেড়েছে কৃষকদের।
অতিবৃষ্টি,অনাবৃষ্টি ও বন্যায় এ উপজেলায় প্রতি বছরে ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সাধিত হয়। অনেক ক্ষেত্রেই কৃষকরা এ ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে পারে না। দুর্যোগ কবলিত এসব কৃষকদের কথা মাথায় রেখে আন্তর্জাতিক ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট নতুন জাতের ব্রি ধান-৪০,৪১, ৪৬,৫১, ৫২ উদ্ভাবন করে। উপজেলা কৃষিবিভাগ জানায়, দেড় লাখ জনসংখ্যা অধ্যুষিত বেতাগী উপজেলায় আমন মৌসুমে ১০ হাজার ৯শ’ হেক্টর জমিতে উচ্চ ফলনশীল বিভিন্ন উন্নত জাতের ধান আবাদ করা হলেও উদ্ভাবনকৃত এ ধান অন্য ধানের তুলনায় অনেকটা আলাদা। আন্তর্জাতিক ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট-ইরি বাংলাদেশের কনসালটেন্ট ড. খায়রুল হাসান বাশার বলেন, তবে ব্রি ধান- ৫২ আপেক্ষাকৃত নিচু ও বন্যা কবলিত হয়ে প্লাবিত হলেও এ ধানের চারা ১৫-২০ দিন পানিতে তলিয়ে থাকলেও কোন ক্ষতি হয় না।
হোসনাবাদ ইউনিয়নের কৃষক খলিলুর রহমান জানান, অতিবৃষ্টি ও বন্যার পানিতে বেশ কিছুদিন ধরে এ ধান পানিতে ডুবেছিল। দীর্ঘদিন পানিতে ডুবে থাকায় পাতায় পচন ধরলেও অবাক করার মত বিষয় হলো,পচে থাকা পাতার গোড়া থেকে নতুনভাবে আবার চারা গজানো শুরু করে।
ফুলতলা গ্রামের কৃষক মহারাজ খান বলেন, হেক্টর প্রতি ৬ মে.টন ধান পেয়েছি। যা স্থানীয় জাতের চেয়ে দ্বিগুণ।
বন্যাসহিষ্ণু ধান আবাদে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে আন্তর্জাতিক ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট ও ইউএসআইডের অর্থায়নে সাসটেইনেইবেল রাইটস সীড প্রডাকশন ডেলিভারী-এস.আর.এস.পিডি প্রকল্পের সহযোগিতায় স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ইনটেগ্রেটেড ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন-ইজওয়ার উদ্যোগে চলতি বছরে বেতাগী উপজেলায় ৮ হাজার ৬শ’ জন কৃষকের মাঝে ২১ হাজার ৫শ’ কেজি বীজ বিনামূল্যে সরবরাহ করা হয়
