রাজীবপুরের চরের নারীদের জীবনচিত্র

আপডেট : ১২ ডিসেম্বর ২০১২, ২১:৫৩
মোমেনা (৪৫), মেহেরজান (৪৬), আনোয়ারা বেগম (৩৫), খালেদা বেগম (৩৪), হাওয়া বেগম (৪২), আম্বিয়া খাতুন (৩৪)-এরা সবাই শ্রমজীবী মহিলা। বিভিন্ন চরে এদের নিবাস। এরা মাটি কাটার কাজসহ দিনমজুরি করে জীবন চালায়। কিন্তু কাজ না থাকায় এখন চরের কাশিয়া কেটে তা বাজারে বিক্রি করে। যে সামান্য টাকা পাওয়া যায় তা দিয়ে চাল-ডাল কেনে। কুড়িগ্রাম জেলার মূল ভূখণ্ড থেকে বিশাল ব্রহ্মপুত্র নদ দ্বারা বিচ্ছিন্ন রাজীবপুর ও রৌমারী উপজেলা। এ দুই উপজেলার বিভিন্ন চরে মোমেনাদের বসবাস। একদিকে প্রকৃতির নির্মমতা, অপরদিকে বেঁচে থাকার সোনালী স্বপ্নের হাতছানিতে তারা এক চর থেকে আরেক চরে আশ্রয় নেয়। কিন্তু প্রমত্তা নদী সেখানেও হানা দিয়ে এদের করে সর্বহারা। একেকটি পরিবার ১২/১৫ বার নদী ভাঙ্গনের শিকার হয়ে নিঃস্ব থেকে নিঃস্বতর হয়েছে। গত ক’দিন আগে কথা হয় শ্রমজীবী ওই সব নারীর সাথে। চায়না বেগম (২৫) বাস করে নালিতাখাতা চরে। স্বামী হাছেন আলী। বিয়ে হওয়ার ৩ বছরের মাথায় যৌতুকের জন্য স্বামী তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। সেই থেকে মা’র কাছেই থাকছে। তার ভাষ্য, ‘এহন কাম-কাজ নাই। তাই চরের ছোন (কাশিয়া) তুলছি। এগুলান রমনা হাটে বেচমু। ৭০ থেকে ৮০ ট্যাহা বেচন যাবো।’ আম্বিয়া খাতুনের স্বামী আব্দুল বারেক ঢাকায় রিকশা চালায়। ঘরে একটা ছেলে সন্তান রয়েছে। ‘বেডাটাকে মুই ইসকুলোত পাঠাই। জায়গা-জমি নাই। দু’হাত দিয়া কাজ করে খাই’ জানালো আম্বিয়া। রাশেদা বেগম ৫ সন্তানের মা। স্বামী অসুস্থ হয়ে বিছানায় পড়ে আছে। সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে তার এ খাটুনি, জানায় সে। মেহেরজানের সমস্যা আরো জটিল। ৪ মেয়ে ৩ ছেলে নিয়ে তার সংসার। স্বামী মরে গেছে অনেক আগে। দুই ছেলের বিয়ে হয়েছে। তারা আলাদা খায়। ৩ মেয়ের বিয়ে হলেও ভাগ্যের ফেরে ২ মেয়ে আজ বিধবা। ভাতের জন্য শেষ বয়সে মেহেরজানকে কাজের জন্য বাইরে যেতে হয়। অথচ এক সময়ের ছিল গৃহস্থ পরিবারের বউ। আজ শুধু বাঁচার তাগিদে তারা মানুষের বাড়িতে বাড়িতে কাজ করছে। কোদালকাটি ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম জানান, তার ইউনিয়নে নারী শ্রমিকের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। টিআর, কাবিখার উন্নয়নমূলক কাজে নারীদের দিয়ে কাজ করানো হয়। তাছাড়া তাদের দৈনিক হাজিরা একটু কম দিলেও চলে। কাজও করে সন্ধ্যা পর্যন্ত।