মধুপুরে পাঁচ গারো মুক্তিযোদ্ধা তালিকা থেকে বাদ

আপডেট : ১২ ডিসেম্বর ২০১২, ২১:৫৮
টাঙ্গাইলের মধুপুরে পাঁচ গারো মুক্তিযোদ্ধা তালিকা থেকে বাদ পড়ায় সরকারি সাহায্য-সহযোগিতা ও ভাতা পাচ্ছেন না। ফলে এসব মুক্তিযোদ্ধা এখন মানবেতর জীবনযাপন করছেন। মাতৃতান্ত্রিক গারো সমাজের রীতিনুযায়ী বিয়ে করে ভিন্ন জনপদে চলে আসায় তারা মুক্তিযোদ্ধা তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন বলে জানা গেছে। জানা যায়, নগেন্দ্র দিবা (৭০), শৈলেন মারাক (৬৫), রঞ্জিত সাংমা (৬৪), সজীব সাংমা (৬০) এবং ফালগিন মারাক (৬৩) একাত্তরে ১১ নং সেক্টরে যুদ্ধ করেন। মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক জেনারেল আতাউল গনি ওসমানীর স্বাক্ষরিত মুক্তিযোদ্ধা সনদপত্র লাভ করেন। এদের মধ্যে রঞ্জিত সাংমা গারো সমাজের রীতি অনুযায়ী ১৯৭৫ সালে বিয়ে করে মধুপুর উপজেলার থানারবাইদ গ্রামে চলে আসেন। সেখানেই স্ত্রী ও ৪ সন্তান নিয়ে ৩৭ বছর ধরে বাস করছেন। মাতৃতান্ত্রিক গারো সমাজে পুত্র সন্তান বাবা-মার সম্পত্তি পায় না। সুতরাং বিয়ের পর শ্বশুর বাড়িই গারো যুবকদের নিজ বাড়িতে পরিণত হয়। এমতাবস্থায় রঞ্জিত সাংমা নিজ গ্রামে খুব একটা না যাওয়ায় উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা তালিকা হালনাগাদকরণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হন। পরবর্তীতে মধুপুর উপজেলা কমান্ডে যোগাযোগ করলে তাকে নিজ উপজেলায় নাম লেখাতে বলা হয়। কিন্তু নিজ এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা না হওয়ায় সেখান থেকেও তাকে বঞ্চিত করা হয়। এভাবে এক যুগ ধরে চলছে টানাহেঁচড়া। নেত্রকোনার দুর্গাপুরের সজীব সাংমা ১৯৭৩ সালে মধুপুর উপজেলার থানারবাইদে বিয়ে করে ঘরজামাই হয়ে আসেন। তিনিও একই কারণে মুক্তিযোদ্ধা তালিকা হালনাগাদকরণে ব্যর্থ হন। একইভাবে ঘরজামাই হয়ে আসা নগেন্দ্র দিবা (৬১), শৈলেন মারাক (৬৩) এবং ফালগিন মারাকও (৬৬) মুক্তিযোদ্ধার তালিকা থেকে বাদ পড়েন। এ পাঁচ মুক্তিযোদ্ধার কোন জমিজমা নেই। দিনমজুরী করে সংসার চালান। অর্থাভাবে সন্তান-সন্ততি ও নাতিনাতনিরা স্কুলে যায় না। মধুপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের নেতৃবৃন্দ জানান, এদের তালিকা হালনাগাদ করার জন্য মন্ত্রণালয়ে কাগজপত্র পাঠানো হয়েছে। যাচাই-বাছাই শেষে সিদ্ধান্ত আসবে বলে আশা করা যাচ্ছে।