কুমিল্লায় শত কোটি টাকা নিয়ে লাপাত্তা যুগান্তর মাল্টিপারপাস

আপডেট : ১২ ডিসেম্বর ২০১২, ২২:০৪
কুমিল্লা মহানগর, মুরাদনগর, ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকার গ্রাহকের প্রায় শত কোটি টাকা নিয়ে পালিয়েছে ‘যুগান্তর ফাইনান্স এ্যান্ড কমার্স মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লি.’ এর চেয়ারম্যান গোলাম কিবরিয়া ও তার স্ত্রী পরিচালক রিনা সরকার। কয়েকদিন ধরে ওই প্রতিষ্ঠানের প্রধান কার্যালয় এবং শাখাগুলোতে তালা ঝুলছে। ভুক্তভোগী গ্রাহক ও বিনিয়োগকারীরা তাদের বিনিয়োগের টাকা আত্মসাতের ঘটনায় এখন পাগলের মতো খুঁজে বেড়াচ্ছেন ওই প্রতারকদের। প্রতারিত ক্ষুব্ধ গ্রাহকরা প্রতারকদের বাড়িঘরসহ স্বজনদের বাড়িতেও তাদেরকে খুঁজছেন। তারা গ্রাহকের টাকা নিয়ে দেশের বাইরে আত্মগোপন করেছে বলেও ধারণা করছেন অনেকে। গোলাম কিবরিয়া কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও মুরাদনগর থানা কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির সভাপতি হওয়ার কারণে সরল বিশ্বাসে তারা অধিক লভ্যাংশ পাওয়ার আশায় ওই মাল্টিপারপাসে বিনিয়োগ করেছিলেন বলে জানান ভুক্তভোগীরা। ঢাকা মতিঝিল দৈনিক বাংলার মোড়ে স্কয়ার ভবনের ৯ম তলায় গোলাম কিবরিয়া ও তার স্ত্রী রিনা সরকার ‘যুগান্তর ফাইনান্স এ্যান্ড কমার্স মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লি.’ এর চেয়ারম্যান ও পরিচালক সেজে ১৯৯৬ সাল থেকে সাইনবোর্ড লাগিয়ে লোভনীয় অফার দিয়ে বিনিয়োগের জন্য মানুষের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহ শুরু করেন। মুরাদনগর সদরসহ ওই উপজেলার রামচন্দ্রপুর, কোম্পানীগঞ্জ, কুমিল্লা মহানগরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শতাধিক শাখা রয়েছে। ওইসব শাখার সংশ্লিষ্টরা প্রতি মাসে লাখে ২ থেকে আড়াই হাজার টাকা লভ্যাংশ দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে বিনিয়োগ করার জন্য আকৃষ্ট করে গ্রাহক ও বিনিয়োগকারীদের। জানা গেছে, আমানত ও বিনিয়োগকারীদের অধিকাংশই মহিলা ও প্রবাসীর স্ত্রী। ওই আমানতকে কেন্দ্র করে পারিবারিক কলহ বিরাজ করছে। নতুন ফার্নিচার এনে শাখা অফিস সাজানোর অজুহাতে গোলাম কিবরিয়া কৌশলে সবক’টি অফিসের ফার্নিচার বিক্রি করে পরবর্তীতে এতে গোপনে তালা ঝুঁলিয়ে দেয়। বর্তমানে ওইসব শাখা অফিসের সাইনবোর্ডও গোপনে অপসারণ করে নিয়েছে প্রতারকরা। আমানতকারী ফরিদ আলমসহ ২০/২৫ জন ভুক্তভোগী সোমবার জানান, বিনিয়োগের টাকা আত্মসাতের শিকার হয়ে আমরা পথে নেমেছি। প্রতারক গোলাম কিবরিয়া ও রিনা সরকারসহ সংশ্লিষ্ট প্রতারকদের গ্রেফতার ও তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জন্য প্রশাসনের নিকট দাবি জানাচ্ছি।