পরিবেশ ও বন মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, যারা বিশ্বজিতকে হত্যা করেছে তারা ছাত্রলীগের কর্মী নয়। তারা ছিলো ছাত্রলীগে অনুপ্রবেশকারী। বুধবার দুপুরে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি একথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, চোরাগোপ্তা হামলা, গাড়ি পোড়ানো, জনগণের চলাচলে বাধা সৃষ্টি করা গণতন্ত্রের ভাষা হতে পারে না। বিএনপি চেয়েছিল নৈরাজ্য সৃষ্টি করে লাশের রাজনীতি করবে। সেজন্য তারা বিশ্বজিতের মত সাধারণ মানুষকে দুষ্কৃতিকারী লেলিয়ে দিয়ে হত্যা করেছে। ইতিমধ্যে এদেরকে চিহ্নিত করে গ্রেফতার করার জন্য সরকারের সর্বোচ্চ মহল থেকে আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, বিশ্বজিত্ হত্যাকারীদের দুইজনের পরিচয় ইতিমধ্যে পুলিশ উদ্ঘাটন করেছে। এদের একজন ওবায়দুল কাদের আগে শিবিরের কর্মী ছিল। তার পিতা হাতিয়ার একটি মাদ্রাসার শিক্ষক এবং জামায়াত নেতা। তার বড় ভাই তফছির হোসেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিবিরের নেতা। অপরজন রফিকুল ইসলাম, বাড়ি পটুয়াখালী। সে আগে ছাত্রদল করত। তার বড় ভাই শাহীন যুবদল নেতা। কাজেই এরা সবাই যে অনুপ্রবেশকারী ছিলো এবং ইচ্ছাকৃতভাবে বিএনপি-জামায়াতের স্বার্থ হাসিলের জন্য এমন কাজ করেছে এটা পরিষ্কার।
তারেক-কোকোর পাহাড় সমান দুর্নীতির বিচার করার দাবি যখন গণদাবিতে পরিণত হয়েছে তখন বিএনপিসহ ১৮দলীয় জোট জনগণের জানমালের ওপর আঘাত করে দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টি করছে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া যখন চূড়ান্ত পর্যায়ে তখন জামায়াত-শিবির চক্র ও বিএনপি হিতাহিত জ্ঞানশূন্য হয়ে পড়েছে। তারা মরিয়া হয়ে উঠেছে যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষা করার জন্য।
বিচারপতি নিজামুল হকের পদত্যাগের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, নেদারল্যান্ডসে বসবাসকারী একজন আইন বিশেষজ্ঞের সাথে বিচারপতি নিজামুল হক আইনি পরামর্শের জন্য যে আলাপ করেছেন তা অপরাধ নয়। অপরাধ হতো যদি তিনি সরকার কিংবা আওয়ামী লীগের কারো সাথে আলাপ করতেন। বরং যারা স্কাইপি হ্যাক করে তাদের কথোপকথন প্রকাশ করেছে তারা সাইবার ক্রাইম করেছে। এজন্য তাদের বিচার হওয়া উচিত। বিচারপতি পদত্যাগ করে তিনি বদান্যতার পরিচয় দিয়েছেন। বিচার ব্যবস্থাকে তিনি প্রশ্নের মুখোমুখি করতে চাননি। এজন্য তাকে আমি সাধুবাদ জানাই।
