আজ ভয়াল ২৯ এপ্রিল

আপডেট : ২৮ এপ্রিল ২০১৯, ২১:২৪

কক্সবাজার প্রতিনিধি

আজ ভয়াল ২৯ এপ্রিল। ১৯৯১ সালের এই দিনে স্মরণকালের ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস কক্সবাজারের দ্বীপাঞ্চলসহ উপকূলীয় এলাকা তছনছ করে ধ্বংসযজ্ঞ সৃষ্টি করে। রাতের অন্ধকারে মুহূর্তের মধ্যে লণ্ডভণ্ড হয়েছিল উপকূলীয় এলাকা।

প্রশাসনের হিসাব মতে, ভয়াল এই ঘূর্ণিঝড়ে উপকূলীয় ১৯ জেলার ১০২ থানা ও ৯টি পৌরসভায় ১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৮২ জন নিহত, ১২ হাজার ১২৫ জন নিখোঁজ, ১ লাখ ৩৯ হাজার ৫৪ জন আহত হন। মাছ ধরার ট্রলার, নৌকা, বৈদ্যুতিক খুঁটি, গাছপালা, চিংড়িঘের, স্কুল-মাদ্রাসা, পানের বরজ, লাখ লাখ গবাদি পশু, ব্রিজ কালভার্ট ভেঙে গিয়ে ক্ষতি সাধিত হয় কয়েক হাজার কোটি টাকার। তাই ২৮ বছর পরও অতীতের স্মৃতিচিহ্ন মুছে ফেলতে পারেনি উপকূলবাসী। সবচেয়ে বেশি প্রাণহানী ঘটে কক্সবাজারের দ্বীপ উপজেলা মহেশখালীর উপদ্বীপ ধলঘাটা-মাতারবাড়ি, পেকুয়ার মগনামা ইউনিয়ন, কুতুবদিয়ার প্রায় পুরো উপজেলা এবং সদরের বৃহত্তর গোমাতলী এলাকায়।

এতকিছুর পরও কক্সবাজারের উপকূলে পর্যাপ্ত ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র নেই। বিদ্যমান ৫ শতাধিক আশ্রয় কেন্দ্রের অধিকাংশ ব্যবহার অনুপযোগী। শুধু সাইক্লোন সেল্টার নয়, উপকূলের ২৫০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ এখনো চরম ঝুঁকিতে রয়েছে।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক (ভারপ্রাপ্ত) মো. আশাফুল আফসার বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ আশ্রয় কেন্দ্রগুলোর সংস্কার ও অবৈধ দখল উচ্ছেদে কার্যক্রম চলছে। এছাড়াও নতুন আরো কেন্দ্র স্থাপনের জন্যও উচ্চপর্যায়ে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। দিবসটি পালনে দিনব্যাপী শোক শোভাযাত্রা, মিলাদ ও নিহত এবং নিখোঁজদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে মোনাজাতসহ নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে ২৯ এপ্রিল ১৯৯১ স্মৃতি পরিষদ, কুতুবদিয়া ফাউন্ডেশনসহ নানা সংগঠন।