হকিং ও সার্নের সর্বাধিক অর্থমূল্যের পুরস্কার লাভ

আপডেট : ১২ ডিসেম্বর ২০১২, ২২:৩০
বিশ্বের বিজ্ঞান জগতের সবচেয়ে দামি পুরস্কার লাভ করেছেন বিখ্যাত বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং ও বর্তমান বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিজ্ঞান গবেষণাগার সার্ন। ব্ল্যাকহোল নিয়ে কাজের জন্য হকিং এবং হিগস-বোসন সংক্রান্ত গবেষণার জন্য সার্ন এই পুরস্কার পেয়েছে। রাশিয়ার মিলনার ফাউন্ডেশন মঙ্গলবার এই পুরস্কারের কথা ঘোষণা করে। খবর রয়টার্সের। ২০১৩ সালের ৩০ মার্চ সুইজারল্যান্ডের সার্ন (ইউরোপিয়ান অর্গানাইজেশন ফর নিউক্লিয়ার রিসার্চ) গবেষণাগারে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পুরস্কারটি দেয়া হবে। ‘ফান্ডামেন্টাল ফিজিক্সপ্রাইজ’ নামের এই পুরস্কারের অর্থমূল্য ৩০ লাখ ডলার। এই অর্থ নোবেল পুরস্কারের জন্য দেয়া অর্থের দ্বিগুণেরও বেশি। আগের বছরগুলোতে নোবেল পুরস্কারের জন্য ১৫ লাখ ডলার দেয়া হলেও চলতি বছর থেকে পুরস্কারের অর্থমূল্য কমিয়ে ১২ লাখ ডলার করা হয়েছে। এক সময়ের পদার্থবিজ্ঞানী ও পরবর্তী সময়ের সফল উদ্যোক্তা রাশিয়ান ধনকুবের ইউরি মিলনার ফাউন্ডেশনটির প্রতিষ্ঠাতা। অগ্রবর্তী বিজ্ঞানীদের মূল্যায়নে বর্তমান বিশ্ব ব্যর্থ হচ্ছে এমন ধারণা থেকে, বিজ্ঞানী ও বিজ্ঞান প্রতিষ্ঠানগুলোকে মূল্যায়নের জন্য চলতি বছর ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে তিনি এই পুরস্কার প্রবর্তন করার সিদ্ধান্ত নেন। ব্ল্যাকহোল বা কৃষ্ণগহ্ববর থেকে কীভাবে বিকিরণ নির্গত হয় তার ব্যাখ্যা দেয়ার জন্য এবং মহাকর্ষের কোয়ান্টাম গবেষণায় অবদান ও প্রাথমিক মহাবিশ্বের কোয়ান্টাম বলবিদ্যার বর্ণনা দেয়ার জন্য ব্রিটেনের পদার্থবিজ্ঞানী হকিংকে এই পুরস্কার দেয়া হয়েছে বলে মিলনার ফাউন্ডেশন প্রকাশিত বিবৃতিতে জানানো হয়েছে। কৃষ্ণগহ্বর থেকে নির্গত বিকিরণকে হকিংয়ের নাম অনুসারে ‘হকিং বিকিরণ’ বলা হয়। পুরস্কার লাভের পর হকিং বলেন, পুরস্কার পাওয়ার আশায় পদার্থবিজ্ঞানীরা গবেষণা করে না, আগে জানা নেই এমন কিছু আবিষ্কার করে কেবল আনন্দ পাওয়ার জন্য। তারপরও বিজ্ঞানে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ একজন বিজ্ঞানীকে পুরস্কার দেয়া হয় যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গার্ডিয়ান সংবাদপত্রে পাঠানো এক ইন্টারনেট বার্তায় তিনি জানিয়েছেন, এই পুরস্কার পাওয়ায় তিনি গভীর অনুপ্রেরণা ও সম্মানিত বোধ করছেন। এক ধরনের মোটর নিউরন রোগে আক্রান্ত হকিং পুরোপুরি অচল হয়ে পড়েন। তারপরও বিশেষ কম্পিউটারের সাহায্যে তিনি এখনো গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রায় অর্ধশতাব্দী আগে প্রাথমিক কণিকাদের ভর সরবরাহকারী হিসেবে তাত্ত্বিকভাবে কল্পিত ‘হিগস-বোসনে’র মতো একটি প্রাথমিক কণিকা আবিষ্কার করায় বিজ্ঞান গবেষণা প্রতিষ্ঠান সার্নের গবেষকদেরও একই পুরস্কার দেয়া হয়। এই পুরস্কারের অর্থ সার্নের ওই গবেষণায় নেতৃত্বদানকারী সাতজন বিজ্ঞানী ভাগ করে নেবেন।