দেখা হয় নাই

গোকুল মেধ

আপডেট : ১৩ ডিসেম্বর ২০১২, ১৮:১২
বাংলাদেশ জুড়েই ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে অসংখ্য প্রাকৃতিক আর মনুষ্যনির্মিত দর্শনীয় স্থান। মূলত এই স্থানগুলোর কথা মাথায় রেখেই প্রতি শুক্রবারের আয়োজনে থাকছে একটি করে দর্শনীয় স্থানের বিবরণ। আর আজ এতে প্রকাশিত হলো বগুড়ার গোকুল মেধ-এর কথা। প্রাচীন বাংলার প্রথম রাজধানী খ্যাত বগুড়ার পৌণ্ড্রবর্ধন (বর্তমানে মহাস্থানগড়)। এই নগরীতে একসময় যেসব গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ছিল এর মধ্যে একটি হলো ‘বেহুলা-লক্ষ্মীন্দরের বাসর ঘর’ বা গোকুলের মেধ। বগুড়া শহর থেকে মাত্র ১০ কি. মি. উত্তরে এবং ঐতিহাসিক মহাস্থান গড়ের ২ কি. মি. দক্ষিণে গোকুল, পলাশবাড়ী এবং রামশহর গ্রামের মাঝামাঝি স্থানে এ স্থাপনার অবস্থান। লোক কাহিনীর নায়ক-নায়িকা বেহুলা-লক্ষ্মীন্দরের নামানুসারে স্থাপনাটির নামকরণ করা হয় বেহুলা লক্ষ্মীন্দরের বাসর ঘর। বেহুলার বাসর ঘর মূলত একটি উঁচু ইটের স্তূপ। এর উচ্চতা প্রায় ১৩ মিটার (৪৫ ফিট)। ১৯৩৪-৩৬ সালের প্রত্নতাত্ত্বিক খননের ফলে এখানে বিভিন্ন মাপের ১৭২টি কুঠরী আবিষ্কৃত হয়। প্রত্নতাত্ত্বিক খনন কালে একটি নর-কঙ্কাল, একটি ইটের নির্মিত গোলাকার গর্ত, একটি শিলাখণ্ড, ষাঁড়ের প্রতিকৃতি উত্কীর্ণ একটি স্বর্ণ পত্র পাওয়া যায়। তবে এই স্তূপের সমতল শিরোদেশে প্রথম নির্মাণ যুগে খ্রিস্টীয় ৬/৭ শতকে একটি বৌদ্ধ উপাসনালয় নির্মিত হয়েছিল। পরবর্তীতে সেন আমলে খ্রিস্টীয় ১১/১২ শতকে এ ধ্বংসাবশেষে একটি বর্গাকৃতির শিব মন্দির নির্মিত হয়েছিল। ঐতিহাসিকগণের ধারণা স্থাপনাটি একটি বৌদ্ধ মঠ। আবার অনেকের মতে পৌণ্ড্রবর্ধনের শাসকেরা বহিঃশত্রুর আগমন এবং গতিবিধি লক্ষ্য করার জন্য এই উঁচু ঢিবি নির্মাণ করেছিলেন। এইতো গেল ইতিহাসের কথা। বেহুলার বাসর ঘর নিয়ে নানা চমকপ্রদ কাহিনী রচিত সহ চলচ্চিত্রও নির্মিত হয়েছে। সেই সাথে গ্রাম বাংলার মানুষের মুখে এখনও সেই কিংবদন্তির নায়ক-নায়িকা বেহুলা লক্ষ্মীন্দরের চমকপ্রদ কাহিনী শোনা যায়। এ ছাড়া বেহুলার বাসর ঘর সম্পর্কে প্রাপ্ত কিছু তথ্য থেকে জানা যায়, একসময় ভারত বর্ষের বিভিন্ন স্থানে বৌদ্ধ ধর্ম প্রচারের লক্ষ্যে অসংখ্য বৌদ্ধ মঠ নির্মিত হয়েছিল বেহুলার বাসর ঘরও সে ধরনের একটি মঠ বা বৌদ্ধ ধর্মের প্রচার কেন্দ্র হতে পারে। বিখ্যাত পর্যটক ইবনে বতুতা, হিউয়েন সাং তাদের ভ্রমণ কাহিনীতে গোকুলের মেধকে বৌদ্ধ মঠ হিসেবে উল্লে¬খ করেন বলে জানা যায়। আবার কোনো কোনো ঐতিহাসিক গ্রন্থে গোকুলের মেধকে একটি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র হিসেবে উল্লে¬খ করে বলা হয়েছে যে, পৌণ্ড্রবর্ধন রাজধানীকে (বর্তমানে মহাস্থানগড়) বাইরের শত্রুর গতিবিধি লক্ষ্য করার জন্য এটি নির্মাণ করা হয়েছিল।