বাটেক্সপোয় বিদেশীদের আনাগোনা কম

আপডেট : ১৩ ডিসেম্বর ২০১২, ২০:২২
তৈরি পোশাক উত্পাদক ও রফতানিকারকদের সবচেয়ে বড় আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী বাটেক্সপো শেষ হচ্ছে আজ শুক্রবার। তিন দিন ব্যাপী এ প্রদর্শনী শুরু হয় গত বুধবার। এবারের মেলায় বিদেশী ক্রেতা-দর্শনার্থী প্রত্যাশার তুলনায় কম দেখা যাচ্ছে। হরতালসহ উত্তপ্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে তুলনামূলক বায়ার কম বলে মনে করছেন এ খাতের উদ্যোক্তারা। তবে আজ শেষ দিন মেলায় উপস্থিতি বাড়বে এবং বেশ কিছু স্পট অর্ডারও পাওয়া যাবে বলে মনে করছেন মেলা আয়োজকরা। গতকাল মেলা প্রাঙ্গন ঘুরে দেখা গেছে, দেশী বিদেশী বেশ কিছু নতুন পণ্য ও মেশিনারিজের স্টল থাকলেও ক্রেতা বা দর্শনার্থী কম। তবে আয়োজকরা জানিয়েছেন, বাটেক্সপো কেনাবেচা মূল উদ্দেশ্য নয়। নতুন পণ্য ও এক্সেসরিজ সম্পর্কে ক্রেতাদের ধারণা দিতেই এই প্রদর্শনী। বিজিএমইএ’র সাবেক সভাপতি ও এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ইএবি) সভাপতি আব্দুস সালাম মুর্শেদী বলেন, আর কয়েকদিন পরই খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের বড় ধর্মীয় উত্সব বড় দিন উদযাপন হবে। তারা এখন এই নিয়ে ব্যাস্ত। এছাড়া ঢাকায় অনেক বায়ারদের অফিস থাকায় অর্ডার দেয়ার কাজটা তাদের প্রতিনিধিরা করবে। ফলে বায়াররা সশরীরে বাটেক্সপোতে না অসলেও অর্ডার যথারীতি হবে বলে মনে করেন তিনি। তবে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, হরতালের কারণে অনেকে আসতে পারেন নি। এছাড়া সমপ্রতি আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুরে তাজরীন গার্মেন্টস কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় বিদেশের ক্রেতাদের কাছে একটি নেতিবাচক বার্তা গেছে। এর প্রভাবেও ক্রেতাদের উপস্থিতি কম হওয়ার কারণ বলে মনে করছেন কেউ কেউ। গতকাল বাটেক্সপোর সমাপনী অনুষ্ঠানে বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ড. ওসমান ফারুক বলেন, ‘আমার জানা মতে জার্মানী ও ফ্রান্সের ২০ জন ক্রেতা আসার কথা থাকলেও আসেন নি। এটিকে এই খাতের জন্য অশনি সংকেত হিসেবে ধরে নিতে হবে’। গতবছরের বাটেক্সপোতে রেডিস্টক এ্যাপারেলসহ ছয় কোটি ৬৩ লাখ মার্কিন ডলারের স্পট অর্ডার পাওয়া গিয়েছিল। মেলায় তৈরি পোশাক, কাপড়, পোশাক তৈরির বিভিন্ন মেশিনারিজ কোম্পানিসহ অন্যান্য ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ শিল্প প্রতিষ্ঠানসহ দেশী বিদেশী ১৩৮টি প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে। এর মধ্যে ব্যাংকিং ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানও ছিল। প্রথা অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধী দলীয় নেত্রী এ মেলার যথাক্রমে উদ্বোধন ও সমাপনি ঘোষনা করেন। এ বছর এটি ছিল বাটেক্সপোর ২৩ তম আয়োজন। ১৯৮৯ সাল থেকে নিয়মিতভাবে এই প্রদর্শনী আয়োজন করে আসছে বিজিএমইএ।