আজ যেসব এলাকা হানাদার মুক্ত হয়

আপডেট : ১৩ ডিসেম্বর ২০১২, ২১:১০
বান্দরবান ১৯৭১ সালের এই দিনে পাকিস্তানি হানাদার মুক্ত হয়েছিল বান্দরবান জেলা। শহরের জিরো পয়েন্টে (তখনকার এসডিও বাংলোয়) মুক্তিযোদ্ধারা স্বাধীন দেশের পতাকা উত্তোলন করে বান্দরবানকে হানাদার মুক্ত ঘোষণা করা হয়। পতাকা উত্তোলনের সময় মুক্তিযোদ্ধা শফিকুল ইসলাম, শফিকুর রহমান, ইসলাম বেবী এবং বর্তমান সংসদ সদস্য বীর বাহাদুরসহ বেশ কয়েকজন স্থানীয় যুবক উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু দেশ স্বাধীন হলেও বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য প্রাণ দেয়া ভারতীয় নাগরিক ১৯৭১ সালের ৮ম ইষ্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সুবেদার মেজর টিএম আলীর বীর প্রতীক এর কবর সংরক্ষণের কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি। জেলা শহরের বাসস্টেশনস্থ শহীদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিস্তম্ভেও ঠাঁই পায়নি এই বীর প্রতীক খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধার নাম। সিরাজগঞ্জ এইদিনে মিত্র বাহিনী ছাড়াই দেশের একমাত্র জেলা সিরাজগঞ্জ শত্রু মুক্ত হয়। ১৯৭১ সালের ১১ ডিসেম্বর ছোনগাছা মাদ্রাসা মাঠে আমির হোসেন ভুলুর সভাপতিত্বে শৈলাবাড়ী ক্যাম্প আক্রমণের সিদ্ধান্ত হয়। ১২ ও ১৩ ডিসেম্বর সংঘটিত এ যুদ্ধে মুক্তিবাহিনী ও মুজিব বাহিনীসহ বিভিন্ন গ্রুপের কমান্ডারগণ সম্মিলিতভাবে আক্রমণ করে পাকবাহিনীকে পরাজিত করে সিরাজগজ শত্রুমুক্ত করে। এ সম্মুখ যুদ্ধে সুলতান মাহমুদ, শহীদ দিদার, শহীদ ইঞ্জিনিয়ার আহসান হাবিব ও কালু শহীদ হন। চৌহালী (সিরাজগঞ্জ) আজ সিরাজগঞ্জে রক্ত স্নাত চৌহালী মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালে এই দিনে যমুনা নদী বিধৌত চরাঞ্চলের মুক্তিযোদ্ধাদের প্রবল গুলি বর্ষণের মুখে পড়ে লাশ নিয়ে পিছু হঠে হানাদার বাহিনী। বরাবরের মত এ দিবসটি উদযাপনে এবারো গ্রহণ করা হয়নি কোন পদক্ষেপ। দোহাজারী (চট্টগ্রাম) আজ দক্ষিণ চট্টগ্রামের দোহাজারী পাক হানাদার মুক্ত দিবস । ’৭১ সালের এই দিনে মিত্র ও মুক্তি বাহিনীর সাথে তুমুল যুদ্ধে টিকতে না পেরে পাক হানাদার বাহিনীর সৈন্যরা পরাজিত হয়ে দোহাজারী ত্যাগ করে পালিয়ে গেলে দোহাজারী হানাদার মুক্ত হয় । স্বাধীন বাংলাদেশের সর্ব প্রথম পতাকা উড়িয়ে বিজয়ের উল্লাস ঘোষণা করেন তত্কালীন ১৫৪ নং গ্রুপের ডেপুটি কমান্ডার ও বর্তমান চন্দনাইশ উপজেলা কমান্ডার জাফর আলী হিরু । পাঁচবিবি (বগুড়া) আজ পাঁচবিবি হানাদার মুক্ত দিবস। ৭১’ এর ১৪ ডিসেম্বর বীর মুক্তিযোদ্ধারা পাঁচবিবির আকাশে উড়িয়েছিলো স্বাধীন বাংলাদেশের বিজয় পতাকা। পাঁচবিবিতে মুক্তিবাহিনীর সৈন্যরা ১২ ডিসেম্বর উপজেলার বৃহত্তম শাখা যমুনা নদীর উপর মাউরিতলা সেতু ডিনামাইট দিয়ে উড়িয়ে দেয়। পরাজয় নিশ্চিত আঁঁচ করে ১৩ ডিসেম্বর থেকেই হানাদার বাহিনী পিছু হটতে শুরু করে। আমতলী (বরগুনা) আজ আমতলী মুক্ত দিবস। অবস্থা বেগতিক দেখে ওসি রইস উদ্দিন ও তার সঙ্গীরা সাদা পতাকা উত্তোলন করে ১৪ ডিসেম্বর সকালে আত্মসমর্পণ করে। রায়গঞ্জ (সিরাজগঞ্জ) ১৯৭১ সালের এই দিনে স্বাধীনতাকামী বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে তুমুল লড়াইয়ে পরাজিত হয়ে রায়গঞ্জ থানা থেকে হানাদার বাহিনী পালিয়ে যায়। তদানীন্তন থানা ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুবুর রহমান স্বাধীন বাংলার পতাকা উত্তোলন করে ১৪ ডিসেম্বর রায়গঞ্জ থানা হানাদার মুক্ত ঘোষণা করেন। দিবসটি উপলক্ষে প্রতি বছর এইদিনে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড ও রাজনৈতিক সামাজিক সংগঠন বিশেষ কর্মসূচি পালন করে। মোরেলগঞ্জ (বাগেরহাট) ১৯৭১ সালের এই দিনে মোরেলগঞ্জ পাক হানাদার মুক্ত হয়। একইদিনে সুন্দরবন ও জিউধরা ইউনিয়নের ঢালী বাড়ি ক্যাম্প থেকে সাব-সেক্টর কমান্ডার সম কবির আহমেদ মধুর নেতৃত্বে হাজার হাজার মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিকামী জনতা মোরেলগঞ্জ সদরের রায়ের বিল্ডিং, কবিরাজের বিল্ডিং, শম্ভু বাবুর বিল্ডিং , কুঠিবাড়ির বিল্ডিংয়ে স্বাধীনতা পতাকা উত্তোলন করে। বধ্যভূমি ঘোষণার দাবি। চৌমুহনী (নোয়াখালী) বেগমগঞ্জ থেকে মহান মুক্তিযুদ্ধকালে পাক বাহিনী ও দোসর রাজাকার বাহিনী অসংখ্য নারী পুরুষ হত্যা করে চৌমুহনী শহরের চৌরাস্তার উত্তরে কালাপোলের নিচে ফেলে দিত। স্বাধীনতার ৪১ বছর পরও স্থানটি বধ্যভূমি হিসাবে ঘোষিত হয়নি। সর্বমহল থেকে উক্ত স্থানটি বধ্যভূমি হিসাবে ঘোষণার দাবি উঠেছে।