কক্সবাজারে পর্যটন ব্যবসায় মন্দাভাব

আপডেট : ১৩ ডিসেম্বর ২০১২, ২১:১৯
মৌসুমের অর্ধেক সময় পেরিয়ে গেলেও জমছে না পর্যটন নগরী কক্সবাজার। ফলে হোটেল ব্যবসাসহ পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা এখনও লোকসান গুণে যাচ্ছেন। এই সংকট উত্তরণে স্থানীয় হোটেল মোটেল ব্যবসায়ীরা ১০ দফা দাবিতে আন্দোলন শুরু করেছেন। ১৪ ডিসেম্বরের মধ্যে তাদের এই দাবি মানা না হলে হরতাল অবরোধের মত কঠোর আন্দোলনের হুমকি দেয়া হয়। এসব দাবির মধ্যে রয়েছে ঢাকা-চট্টগ্রাম থেকে আসা দূরপাল্ল¬ার বাসগুলোকে শহরের হালিডের মোড় পর্যন্ত যাত্রী ওঠা-নামার সুযোগ, কমিউনিটি পুলিশিং পুনর্বহাল, মাদক নিয়ন্ত্রণে আরো কঠিন পদক্ষেপ, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে পুলিশি অভিযান জোরদার, রেল ও গ্যাস লাইন সমপ্রসারণ, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার পর্যন্ত সড়ক চার লেইনে উন্নীতকরণ, কক্সবাজার-চট্টগ্রাম সড়কে বিআরটিসি বাস বৃদ্ধি, পর্যটন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নির্মাণ ও কর্মশালা পরিচালনা, পৌরসভার গৃহীত প্রকল্পসমূহের দ্রুত বাস্তবায়ন অন্যতম। এ ব্যাপারে কক্সবাজার হোটেল-মোটেল গেস্ট হাউস মালিক সমিতির সভাপতি ওমর সোলতান জানান, গত ঈদুল ফিতরের পর থেকে কক্সবাজারে পর্যটন মৌসুম শুরু হয়েছে। এখন পর্যটনের ভরা মৌসুমেও হোটেল-মোটেলের হাজার হাজার কক্ষ খালি পড়ে আছে। জেলা রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির সভাপতি ও হোটেল-মোটেল গেস্ট হাউস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম সিকদার জানান, গত ৭ মাসে শহরের হোটেল-মোটেলসমূহের পাঁচ ভাগ কক্ষও ব্যবহূত হয়নি। হোটেল ও রেস্তোরাঁ মালিকরা দিনের পর দিন লোকসান গুণছেন। এমনকি তারা কর্মচারীর বেতন এবং বিদ্যুত্ বিল দিতেও হিমশিম খাচ্ছেন। উপরন্তু পৌরসভা, ইনকাম ট্যাক্সসহ সরকারের বিভিন্ন বিভাগ করের জন্য চাপ দিচ্ছে। হোটেল-মোটেল গেস্ট হাউস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আরো জানান, পর্যটন খাতের সংকট উত্তরণে কক্সবাজার হোটেল মালিকদের দাবি বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেয়া হয়েছে। স্মারকলিপির অনুলিপি পর্যটন মন্ত্রণালয়, পুলিশ সুপার, জেলা আওয়ামী লীগ ও বিএনপি’র সভাপতি ও সম্পাদক, প্রেসক্লাব সভাপতি এবং পরিবহন কর্তৃপক্ষকেও প্রদান করা হয়েছে। তিনি জানান, ১৪ ডিসেম্বরের মধ্যে দাবি মানা না হলে ১৭ ডিসেম্বর সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে হরতাল ও ধর্মঘটসহ কঠোর আন্দোলনের ডাক দেয়া হবে।