শহীদ বুদ্ধিজীবী ড. জি.সি দেবের পৈতৃক বাড়িটিও গত ৪১ বছর ধরে বেদখল। প্রশাসনিক জটিলতা এবং প্রভাবশালীদের কারণে বাড়িটি অবৈধ দখলমুক্ত করা সম্ভব হয়নি। মরণোত্তর স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত ড.জি সি দেবের পৈতৃক বাড়ি সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার লাউতা ইউনিয়নের নন্দিরফল গ্রামে। আজ ১৪ ডিসেম্বর, শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস। দিবসটি এলেই জি সি দেবের বাড়ি উদ্ধারের বিষয়টি আলোচনায় উঠে আসে। কিন্তু দিবসটি চলে গেলেই বাড়িটি উদ্ধারে আর কেউ কথা বলে না।
ড. জি সি দেবের বাড়িতে দখলদার হিসাবে রয়েছে পরেশ, কালাচান্দ, মুকুল, আতাই মিয়া ও ছমিকউদ্দিন। এরা সকলেই স্থানীয় এক জনপ্রতিনিধির মদদপুষ্ট বলে অভিযোগ রয়েছে। নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক এক দখলদার জানায়, ড. জি সি দেবকে তারা চেনেন না। ড. জি সি দেবের বাড়ির সামনে স্থাপিত লাউতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে দেখা গেছে তারাও তাঁর সম্পর্কে কিছুই জানে না। স্কুলের আঙ্গিনায় ড. জি সি দেব স্মৃতি ফলকটি বিবর্ণ, ধূলিমলিন। এলাকার সত্তরোর্ধ্ব এক বৃদ্ধ আশা প্রকাশ করে বলেন, শেষ বয়সে যেন জি সি দেবের বাপের ভিটাটা দখলমুক্ত হয়েছে দেখে যেতে পারি। স্থানীয়রা জানান, ড. জি সি দেব স্মৃতি রক্ষা কমিটিসহ বেশ কয়েকটি সংগঠন কয়েক দফা উদ্যোগ নিয়েও ড. জি সি দেবের বাড়িটি দখলমুক্ত করতে ব্যর্থ হয়েছে। কারণ তাদের কারো উদ্দেশ্যই সত্ ছিলো না। ড. জি সি দেব স্মৃতি রক্ষা পরিষদের সদস্য সচিব ছরওয়ার হোসেন বলেন, অবৈধ দখল উচ্ছেদে আমাদের আন্দোলন স্তব্ধ করে দেয়া হয়েছে।
সূত্র মতে, স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে ড. জি সি দেবের বাড়ির ২ দশমিক ৪৭ একর ভূমি ইউনিয়ন তহশীলদার এবং ভূমি জরিপের সাথে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অবৈধভাবে শত্রু সম্পত্তির আওতায় নিয়ে যান। প্রায় ২০ বছর পূর্বে ভূমি কর্মকর্তারা এটি বন্দোবস্ত প্রদান করেন। বিগত সেটেলমেন্ট জরিপেও একই ধারায় বাড়িটি রেকর্ডভুক্ত হয়। স্থানীয় সংসদ সদস্য ও শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের এ.পিএস দেওয়ান মাকসুদুল ইসলাম আউয়াল ইত্তেফাককে জানান, বাড়িটি দখলমুক্ত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে স্থানীয় প্রশাসনকে ইতিমধ্যে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। লাউতা ইউপি চেয়ারম্যান এম এ জলিল এ বিষয়ে জানান, বাড়িটি অবৈধ দখলদাররা দীর্ঘদিন থেকে দখল করে রেখেছে। দখল মুক্ত করতে আমরা সকলের সহযোগিতা চাচ্ছি।
