অর্পিত থেকে মুক্তি চাই

আপডেট : ১৪ ডিসেম্বর ২০১২, ২০:৪২
১৯৬৫ সালে পাক-ভারত যুদ্ধের পরে তত্কালীন পাকিস্তান সরকার হিন্দুদের বিক্রি করে যাওয়া সম্পত্তিকে ‘শত্রু সম্পত্তি’ হিসাবে ঘোষণা করেন। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, একাত্তরে এ দেশের বীর বাঙালিরা পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে স্বাধীনতা সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ে একদিন দেশ হানাদারমুক্ত করে। দেশের হিন্দু-মুসলমানরা ফিরে পায় বাংলাদেশ। তারপরেও কেন হিন্দুদের বিক্রি করা সম্পত্তি শত্রু সম্পত্তি বা অর্পিত সম্পত্তি ঘোষিত হয়ে থাকবে? যাঁরা এদেশ ছেড়ে ভারতে গিয়েছিলেন তাঁরা তো জায়গা-জমি বিক্রি করেই গেছেন। তাহলে ঐ সম্পত্তি (বিক্রি করা) কেন হবে অর্পিত? যাঁরা সম্পত্তি কিনেছেন তাঁদের দলিল আছে, দখল আছে, সবই রয়েছে তারপরও অর্পিত তথা শত্রু সম্পত্তি করে বছরের পর বছর যুগের পর যুগ ধরে চলছে কত না হয়রানি কত না নিপীড়ণ। পিরোজপুরের আমোদ রঞ্জন গুহ (চিনু গুহ) বললেন, ১৯৭৩ সালে ২২ হাজার টাকা দিয়ে ভারতে চলে যাওয়া বিশ্বেশ্বর দাসের কাছ থেকে প্রায় ১ বিঘা জায়গা কিনলাম। ১৯৭৬ সালে শুনলাম এ সম্পত্তি শত্রু সম্পত্তি বা অর্পিত সম্পত্তি হিসেবে ঘোষিত হয়ে গেছে। হিন্দু বলেই কি শত্রু সম্পত্তি হবে? এ কেমন আচরণ? দেশ থেকে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে ঠিকই তাড়ালাম। কিন্তু তারপরেও যে রয়ে গেলো পাকিস্তানিদের প্রেতাত্মারা। এদের কারণেই আজ আমাদের ভোগান্তি। এক সময় জড়িয়ে পড়লাম মামলা-মোকদ্দমায়। এ পর্যন্ত এর পেছনে ৬ থেকে ৭ লাখ টাকা খরচ হয়ে গেলো। তারপরেও কেনা সম্পত্তি কেন আমার হলো না!! চিনু বাবুর বয়স এখন ৯৫ বছর। তিনি বলেন, মরণের আগে শুনে যেতে চাই, ১৯৭৩ সালে কেনা সম্পত্তি আমারই। তিনি আরো জানান, শহরে তাঁর এক কাকার একতলা বিল্ডিংসহ সম্পত্তি ছিল, তাও ১৯৬৫ সালে শত্রু সম্পত্তি হিসেবে ঘোষিত হওয়ার পরে দখল হয়ে গেলো! পিরোজপুরের গোটা এলাকা তো এক সময় ছিল রায়েরকাঠির জমিদারদেরই। তাঁদের বাড়িঘর জায়গা-জমি দখল করে নিয়ে যান তত্কালীন পাকিস্তান সরকার। জমিদারদের জায়গায় গড়ে উঠেছে কত না স্কুল-কলেজ-স্থাপনা। যাঁর জায়গায় স্কুল-কলেজ স্থাপিত হলো তাঁর নামটুকু স্কুল-কলেজের সঙ্গে জুড়ে দেয়াই যথার্থ ছিল। এ কতৃজ্ঞতা বোধটুকু কেনইবা আমরা ভুলে গেলাম। এদিকে যাঁরা ভারতে চলে যাওয়ার সময় জায়গা-জমি বিক্রি করে চলে গিয়েছিলেন তা কেনইবা হবে অর্পিত সম্পত্তি? চিনু গুহ কি মৃত্যুর আগে জেনে যেতে পারবেন, তাঁর কেনা সম্পত্তি অর্পিত নয়? ঢাকা