৭০ হাজার একর জমির সেচ সংকট নিরসন

আপডেট : ১৪ ডিসেম্বর ২০১২, ২১:০৮
চলতি ইরি-বোরো মৌসুম থেকে কক্সবাজারের চকরিয়া ও পেকুয়া উপজেলার প্রায় ৭০ হাজার একর জমির চাষাবাদে আর সেচ সংকট থাকছে না। মাতামুহুরী নদীর বাঘগুজারা ও পালাকাটায় নতুন দুইটি রাবার ড্যামের নির্মাণ কাজসম্পন্ন হওয়ায় শত কোটি টাকারও বেশি মূল্যের ধান উত্পাদনের দ্বার উন্মোচিত হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রায় ৭ লাখ জনসংখ্যা অধ্যুষিত ওই দুই উপজেলায় খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশগত সুফল পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়,বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রায় ৫২ কোটি টাকা ব্যয়ে রাবার ড্যাম দু’টি নির্মাণ করা হয়। ২০০৯ সালের জানুয়ারিতে ২৯ কোটি টাকা ব্যয়ে বাঘগুজারা পয়েন্টে ও ২৩ কোটি টাকা ব্যয়ে রামপুর পালাকাটা পয়েন্টে ড্যামের কাজ শুরু হয়। গত বছর পালাকাটা পয়েন্টে এবং চলতি বছরের জুন মাসে বাঘগুজারা পয়েন্টের কাজ প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। কক্সবাজার পাউবো’র নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাঈনউদ্দিন জানান, চলতি শুষ্ক মৌসুম থেকেই কৃষকেরা এ ড্যাম দু’টির সুবিধা সরাসরি ভোগ করতে পারবেন। জানা গেছে, ১৯৭২ সালে সর্বপ্রথম বঙ্গবন্ধু সরকার সবুজ বিপ্লবের আওতায় মাতামুহুরী নদীতে উজান থেকে নেমে আসা পানি ধরে রেখে ইরি চাষের সূচনা করে। এ জন্য ভাঙ্গার মুখে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করে মাতামুহুরী নদীর একটি গতিপথ বন্ধ করে দেয়া হয়। অপর গতিপথটি বেতুয়াবাজার নামক স্থানে গিয়ে আবার ২টি শাখায় বিভক্ত হয়ে পড়ে। একটি বাঘগুজারা হয়ে, অন্যটি পালাকাটা হয়ে মহেশখালী চ্যানেল দিয়ে বঙ্গোপসাগরে মিলিত হয়েছে। সূচনালগ্ন থেকে নদীর বাঘগুজারা, পালাকাটা ও সোনাইছড়ি খালে অস্থায়ী মাটির বাঁধ নির্মাণ করে ইরি-বোরো চাষাবাদ করা হতো। এজন্য প্রতিবছর সরকারি বরাদ্দের দিকে তাকিয়ে থাকতে হতো। ফলে প্রায় প্রত্যেক বছর সময় মতো বাঁধ নির্মিত না হওয়ায় কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ জমিতে চাষাবাদ করা সম্ভব হতো না। কিংবা বিলম্বে চাষাবাদ করলেও অকাল বৃষ্টি বা বাঁধ ভেঙ্গে হাজার হাজার একর জমির ধান বিনষ্ট হতো। এতে কৃষকরা মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হতেন। আবার কোন কোন বছর দেখা গেছে, চাষাবাদ করার পর প্রয়োজনীয় মিঠা পানি সংরক্ষণ সম্ভব না হওয়ায় চাষাবাদকৃত হাজার হাজার একরের ইরি ক্ষেত নষ্ট হয়ে গেছে। এনিয়ে ওই দুই উপজেলার কৃষকরা প্রতি বছরই উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাতেন। বৃহত্ দু’টি রাবার ড্যাম নির্মিত হওয়ায় তাদের উদ্বেগ-উত্কণ্ঠার অবসান হলো বলে মন্তব্য করেছেন চকরিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান রেজাউল করিম এবং পেকুয়া উপজেলা চেয়ারম্যান শাফায়াত আজিজ রাজু।