আদালতে রাষ্ট্রদ্রোহ ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনে মামলা দায়েরের পর গ্রেফতার আতঙ্কে বৃহস্পতিবার রাত অফিসেই কাটিয়েছেন দৈনিক ‘আমার দেশের’ ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমান। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত তিনি অফিসেই ছিলেন। সেখানেই তিনি সাংবাদিক, রাজনীতিবিদসহ শুভাকাঙ্ক্ষীদের সঙ্গে কথা বলেছেন। তবে সাংবাদিকদের তিনি বলেছেন, গ্রেফতারের জন্য তিনি প্রস্তুত হয়ে আছেন।
গতকাল রাজধানীর কারওয়ান বাজারের বিসিআইসি ভবনের ১১ তলায় আমার দেশের সম্পাদকের কার্যালয়ে বসে মাহমুদুর রহমান বলেন, আমি যেকোনো সময় গ্রেফতার হতে পারি। তাই এই কার্যালয় থেকে বের হচ্ছি না। আমাকে গ্রেফতার করতে হলে পুলিশকে এখানে ১১ তলায় এসে নিয়ে যেতে হবে। না হলে মামলা প্রত্যাহার করতে হবে।
গতকাল সকালে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য তরিকুল ইসলামসহ বেশ কয়েকজন নেতা আমার দেশ অফিসে গিয়ে মাহমুদুর রহমানের সঙ্গে কথা বলেন। বের হয়ে তরিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, সরকার গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না। তাই তারা আমার দেশ পত্রিকার উপর আঘাত হেনেছে। তিনি বলেন, এই সরকারের আচরণ দেখে পাকিস্তানের কথাই মনে পড়ে যাচ্ছে। তিনি সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেয়ার আহ্বান জানান।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর সদ্য পদত্যাগী চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হক নাসিমের স্কাইপিতে করা সংলাপ প্রকাশের অভিযোগে আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমান ও প্রকাশক হাসমত আলীর বিরুদ্ধে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাষ্ট্রদ্রোহ এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনে ঢাকার সিএমএম আদালতে মামলা করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর সাহিদুর রহমান। মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এসএম আশিকুর রহমান মামলাটি এজাহার হিসেবে গণ্য করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তেজগাঁও থানার অফিসার ইনচার্জকে (ওসি) নির্দেশ দিয়েছেন। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য রাতেই মামলার কপি তেজগাঁও থানায় পাঠানো হয়। এরপর থেকেই মাহমুদুর রহমান গ্রেফতার হচ্ছেন বলে খবর ছড়িয়ে পড়ে।
এদিকে মামলা দায়েরের প্রতিবাদে পত্রিকা অফিসটির সামনে কারওয়ান বাজারে গতকাল দুপুরে মানববন্ধন করেছে বিএনপি-জামায়াত সমর্থিত বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) এবং ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইজে)। তারা মাহমুদুর রহমানের বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন।
