হাইকোর্টের জামিনে জেল থেকে বেরিয়ে গেল শীর্ষ সন্ত্রাসী বিকাশ

আপডেট : ১৪ ডিসেম্বর ২০১২, ২২:২৭
পুলিশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী বিকাশ কুমার বিশ্বাস ওরফে বিকাশ ১৪ বছর পর জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। জমিনে মুক্তির আদেশ পেয়ে গতকাল শুক্রবার সকাল সোয়া ৮ টার দিকে গাজীপুরে কাশিমপুর কারাগার-২ থেকে প্রশাসনের দৃষ্টি এড়িয়ে বেরিয়ে গেছেন। জেলগেট থেকে একটি দামি গাড়িতে করে তিনি চলে যান। জেলগেটে একজন প্রভাবশালী শিল্পপতির দুইটি গাড়ি অপেক্ষায় ছিল। ঐ দুই গাড়িতে মন্ত্রীর ভাগ্নে ও সহকারী পুলিশ সুপার ছিলেন বলে জেলগেটে কর্তব্যরত কারারক্ষীদের জানানো হয়। তবে তার জামিনের মুক্তি পাওয়ার বিষয়টি কারা কর্তৃপক্ষ ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ ও র্যাবকে অবহিত করেনি। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ১৯৯৭ সালে মিরপুরের পাইকপাড়া এলাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী বিকাশকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ গ্রেফতার করে। ২০০১ সালের ২৬ ডিসেম্বর ২৩ শীর্ষ সন্ত্রাসীর তালিকা প্রকাশ করে। এই তালিকায় বিকাশের ছোট ভাই প্রকাশ কুমার বিশ্বাসের নাম ৮ নম্বরে রয়েছে। তালিকা প্রকাশের পরই প্রকাশ আত্মগোপন করে। বিকাশের বিরুদ্ধে ছাত্রলীগ নেতা জরিপ, আগারগাঁওয়ে জোড়া খুনসহ ৫টি হত্যা মামলাসহ ১৬টি মামলা রয়েছে। এর আগে বিকাশ ২০০৯ সালের জুনে কাশিমপুর কারাগার-২ থেকে জামিনে মুক্তি পান। ঐ সময় জেলগেটের সামনেই গাজীপুর জয়দেবপুর থানা পুলিশ তাকে আবার গ্রেফতার করে। কাশিমপুর কারাগার-২ সূত্রে জানা গেছে, কারাগারে সকাল সাড়ে ৭টার দিকে বিকাশের সর্বশেষ মামলায় জামিনের কাগজ পৌঁছে। এর ৪৫ মিনিট পর সকাল সোয়া ৮ টার দিকে বিকাশ জেলগেট দিয়ে বেরিয়ে যান। কারাগারের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানান, বিকাশের জামিনে মুক্তি পাওয়ার নির্দেশনাটি তারা আগে থেকেই জানতেন। এ ক্ষেত্রে উপরের চাপের কারণেই তার জামিনের বিষয়টি গাজীপুর জেলা পুলিশ, র্যাব ও ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশকে অবহিত করা হয়নি। এ ব্যাপারে র্যাবের গোয়েন্দা ইউনিটের পরিচালক লে. কর্নেল জিয়াউল আহসান বলেনঃ ‘কারাগার থেকে কোন শীর্ষ সন্ত্রাসী বা শীর্ষ জঙ্গি নেতা জামিনে মুক্তি পেলে- বিষয়টি জেল কর্তৃপক্ষ র্যাবকে জানায়। কিন্তু বিকাশের জামিনের বিষয়টি র্যাবকে জানানো হয়নি। একই মন্তব্য করেছেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ-কমিশনার মনিরুল ইসলাম। তিনি বলেনঃ ‘বিকাশ জামিনে মুক্তি পাচ্ছে- এ বিষয়টি ডিবি পুলিশকে জানানো হয়নি। কাশিমপুর কারাগার-২ এর জেলার সুভাষ চন্দ বলেনঃ ‘কোন আসামির জামিনে মুক্তির কাগজ কারাগারে পৌঁছলে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নিতে হয়। বিকাশের ক্ষেত্রেও বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।’ এদিকে, বিকাশের জামিনে মুক্তির বিষয়টিতে একজন প্রভাবশালী শিল্পপতির হাত রয়েছে বলে কাশিমপুর কারাগার-২ সূত্রে জানা গেছে। ঐ শিল্পপতি গত দুই বছর ধরে চেষ্টা করছিলেন বিকাশকে জামিনে মুক্ত করতে। ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার শিবনগর গ্রামে বিকাশ ও প্রকাশের বাড়ি। ঢাকার মিরপুরের পাইকপাড়ায় তারা বসবাস করতো। পাইকপাড়া, কল্যাণপুর, নতুনবাজার, আনসার ক্যাম্প, পীরেরবাগ, আগারগাঁও ও শেওড়াপাড়া এলাকা ছিল বিকাশ-প্রকাশের নিয়ন্ত্রণে। ১৯৯৪ সাল থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত এই সহোদরের প্রকাশ্য সন্ত্রাসী কার্যক্রমে পুরো এলাকার মানুষ জিম্মি হয়ে পড়েছিল। ১৯৯৭ সালে বিকাশ গ্রেফতার হওয়ার পর ছোট ভাই প্রকাশ এককভাবে এইসব এলাকা নিয়ন্ত্রণ করতো। ২০০১ সালের ২৬ ডিসেম্বর ২৩ শীর্ষ সন্ত্রাসীর তালিকা প্রকাশ হলে প্রকাশ আত্মগোপন করে।