যুক্তরাষ্ট্রে রিপাবলিকানদের অব্যাহত সমালোচনার মুখে অবশেষে ওবামা প্রশাসনের দ্বিতীয় মেয়াদে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পদের প্রার্থিতা থেকে সরে দাঁড়ালেন সুসান রাইস। এর ফলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে জন কেরির। ২০০৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক পার্টির পক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন কেরি। খবর বিবিসি ও রয়টার্সের।
সুসান জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত এবং প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার ঘনিষ্ঠজন বলে পরিচিত। বৃহস্পতিবার প্রেসিডেন্ট ওবামার কাছে পাঠানো এক চিঠিতে নিজের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করার কথা জানান রাইস। আগামী জানুয়ারিতে বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন তার দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াবেন। গত ১১ সেপ্টেম্বর লিবিয়ার বেনগাজিতে মার্কিন কূটনৈতিক মিশনে হামলার পর রাইসের মন্তব্য বিতর্কের জন্ম দেয়। ওই হামলায় লিবিয়ায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টোফার স্টিভেন্সসহ চার মার্কিন নাগরিক নিহত হন। হামলার পর সুসান জানিয়েছিলেন, ইসলামবিরোধী একটি চলচ্চিত্র নির্মাণের প্রতিবাদে স্বতস্ফূর্ত জনতার মিছিল থেকে চালানো হামলায় রাষ্ট্রদূতসহ চারজন নিহত হন। পরে তদন্তে তার এ বক্তব্য ভুল প্রমাণিত হয়। এতে যুক্তরাষ্ট্রের রিপাবলিকান কংগ্রেস সদস্যরা রাইসের তীব্র সমালোচনা করে তার পররাষ্ট্রমন্ত্রী হওয়াতে বাধা দেয়ার ঘোষণা দেয়। পররাষ্ট্রমন্ত্রী পদে রাইসকে মনোনয়ন দেয়া হলে রিপাবলিকানদের পক্ষ থেকে কংগ্রেসে এর বিরোধিতা করা হবে বলে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেয় দলটি।
ওবামাকে পাঠানো চিঠিতে রাইস বলেছেন, আপনি যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে আমাকে নিয়োগ দিতে চাওয়ায় আমি খুব সম্মানিত বোধ করেছি। যোগ্যতার সঙ্গে কার্যকরভাবে এই পদে কাজ করে দেশের সেবা করতে পারবো বলে আমি আত্মবিশ্বাসী ছিলাম। যদি মনোনীত হতাম, আমার ধারণা এটি নিশ্চিত করতে দীর্ঘ সময় লেগে যেতো এবং এটি বিরক্তিকর ও ব্যয়বহুলও হতো। ধারণা করা হচ্ছে রাইসের এই সিদ্ধান্তের কারণে ওবামা আবার ডেমোক্রেটিক পার্টির ম্যাসাচুসেটসের সিনেটর জন কেরির দিকেই ঝুঁকবেন। কেরি বর্তমানে সিনেটের বৈদেশিক সম্পর্ক বিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান। ওয়াশিংটন পোস্টে’র এক মন্তব্য প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জন কেরি গত তিন দশক ধরে সিনেটের বৈদেশিক সম্পর্ক বিষয়ক কমিটির সঙ্গে জড়িত রয়েছেন। আমেরিকা এবং বিশ্বে তার উজ্জ্বল ভাবমূর্তি রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্য সম্পর্কেও রয়েছে তার ভাল ধারণা। আফগানিস্তান এবং পাকিস্তানে বিভিন্ন দায়িত্ব সফলতার সঙ্গে পালন করেছেন কেরি যা ওবামার জন্য সহায়ক ছিল। তবে হিলারির মতো কেরি ব্যক্তিগতভাবে ওবামার সঙ্গে এতটা ঘনিষ্ঠ নন।
