সময়টা এখন পরিবর্তনের। রাজনীতিতেও সেই পরিবর্তন সূচিত হয়েছে। বাংলাদেশের তরুণ নেতৃত্বের অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে সেই পরিবর্তনে অগ্রণী ভূমিকা রেখেছে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীল রাজনৈতিক দলগুলো। তরুণ প্রজন্মের রাজনীতিতে অংশগ্রহণের ব্যাপারে বলতে চাই, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃতে বিগত নির্বাচনে ৩৯ বছরের নিচে আমরা ১৯ জন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছি। সেই প্রেক্ষাপটে এ কথা নিশ্চিত যে, তরুণ প্রজন্মের মাঝে নেতৃত্বের ক্ষেত্রে যে ব্যাপক উদ্দীপনা ও রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা এখন লক্ষ করা যাচ্ছে, সেটি তিনি অনুভব করতে পেরেছেন। এরই প্রেক্ষিতে তিনি তরুণ প্রজন্মের অনেক নেতাকে এবার প্রথম মনোনয়ন দিয়েছেন এবং সেই সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা প্রমাণের ধারাবাহিকতায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মুক্তিযুদ্ধের চেতনাভিত্তিক জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর অপূর্ণ স্বপ্ন যা, বাস্তবায়িত হতে পারেনি, তা বাস্তবায়নে ভিশন-২০২১ ঘোষণা করেছেন। এ ক্ষেত্রে বলা যায়, তিনি রাজনৈতিক নেতৃত্বে নতুন প্রজন্মের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেছেন।
বিগত নির্বাচনে ভোটের ফলাফল বিশ্লেষণে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, নতুন প্রজন্মকে সামনের কাতারে নিয়ে আসার ক্ষেত্রে এই সময়ের সিদ্ধান্ত ছিল যুগোপযুগী। নির্বাচনী ইশতেহারে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারসহ অন্য ইস্যুগুলো নতুন প্রজন্মকে আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছে বলেই মহাজোটের ভোটের ব্যবধানটি এত বিশাল ছিল। এটাই প্রমাণ করে, ৩৫ থেকে ৫০ বয়সের যে নেতৃত্ব তা ভোটারদের সিংহভাগই পছন্দ করে। এ ক্ষেত্রে অন্য রাজনৈতিক দলগুলো তাদের এই প্রাপ্তির জায়গায় পৌঁছাতে পারেনি। তাদের আদর্শ, বিশ্বাস এবং রাজনৈতিক দর্শন এর পেছনে ভূমিকা রেখেছে। নতুন প্রজন্ম হিসেবে আমাদের কমিটমেন্টের জায়গাটা ভিন্ন, আমরা চাই স্বাধীনতার সপক্ষের নেতৃত্বে প্রগতিশীল ধারাকে অব্যাহত রাখতে। আমরা চাই সকল কুসংস্কার, অশিক্ষা, ধর্মীয় গোড়ামি থেকে দেশকে রক্ষা করে একটি মুক্তচিন্তার দেশ গড়তে।
এটা বিজয়ের মাস। স্বাধীনতার ৪১ বছর পার হয়েছে এ মাসেই। আজ আমরা হিসাব মিলাতে পারি, যাতে আমরা খুঁজে পাব আমাদের প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি—কী হওয়ার কথা ছিল, কী হয়নি, বর্তমান বাস্তবতাটাই কিন্তু একটা মূল্যায়নের সময়। সেই প্রেক্ষাপটে এখন যা ঘটছে, তা খুবই দুঃখজনক। আজ যখন সারাদেশসহ বহির্বিশ্বেও জনমত গড়ে উঠেছে যুদ্ধপরাধীদের বিচারের, তখন বাস্তবতা হচ্ছে, আমরা এখনও তাদের বিচার করতে পারলাম না। এ জন্য আমাদের একাত্তরের প্রজন্মের কাছে নতুন প্রজন্মের মাথা নত হয়ে আছে।
এখন—আমাদের যখন দেশের উন্নয়নের বিষয় নিয়ে কাজ করার কথা—তখন আমাদের চিন্তা করতে হচ্ছে, এরকম অন্যায়ের বিচার সম্পন্ন করা নিয়ে; যা হবার কথা ছিল অনেক আগেই। মূলত ১৯৭৫-এর ১৫ অগাস্টের পর আমাদের নেতৃত্বের ওপর রাহুগ্রাসের মতো ধেয়ে এসেছে সামরিক শাসন। পরবর্তী সময়ে আবার স্বৈরশাসন। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নির্বাচিত হলেও নব্বই-পরবর্তী প্রথম সরকার নেতৃত্বের চেতনা উম্মেষে কখনোই যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে আন্তরিক ছিল না। কিন্তু এবার সুযোগ হয়েছে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করার।
আরেকটা বিষয় হচ্ছে, নেতা নির্বাচন করার ক্ষেত্রেও আমাদের অনেক বেশি সচেতন হতে হবে। তা না হলে খারাপ নেতৃত্ব সমাজে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার আশঙ্কা থেকে যায়। আমাদের রাজনৈতিক নেতৃত্বের চরিত্রগঠনে জনগণও অনেকাংশে দায়ী , অনেক সময় জনগণই অন্যায় দাবি নিয়ে নেতৃত্বের কাছে আসে—এসব ব্যাপারেও সবার দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করা দরকার। আর এ জন্যই বর্তমান প্রধানমন্ত্রী মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় তরুণ প্রজন্মকে উদ্বুদ্ধ করছেন। আমাদেরও দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য যার যার অবস্থান থেকে কাজ করে যেতে হবে।
লেখক :সংসদ সদস্য, নেত্রকোনা-০১
