২০১৩ সালের এসএসসি পরীক্ষার চূড়ান্ত প্রস্তুতি

সাধারণ বিজ্ঞান

আপডেট : ১৫ ডিসেম্বর ২০১২, ১৮:৫২
প্রিয় শিক্ষার্থীরা, আজ তোমাদের জন্য প্রথম অধ্যায়ের আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর দেয়া হল। ১। নিচের উদ্দীপকটি পড় এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও ঃ শায়লা সমপ্রতি এম.বি.বি.এস পাশ করেছে। মেডিকেলে পড়ার সময় সে বিজ্ঞানের বিভিন্ন আবিষ্কারগুলোর আলোকে চিকিত্সাবিজ্ঞানের বিষয়গুলোর উপর বিস্তারিত জ্ঞান অর্জন করে। এখন শায়লা তাঁর অর্জিত জ্ঞানকে বিভিন্ন রোগীর চিকিত্সায় বাস্তব প্রয়োগ করছে। ক) বৈজ্ঞানিক কর্মপদ্ধতি কি? ১ খ) বৈজ্ঞানিক কর্মপদ্ধতি গ্রহণ করার সুবিধা কী? ২ গ) শায়লা কীভাবে বিজ্ঞানের আবিষ্কারগুলো ব্যবহার করে রোগীর চিকিত্সা করবে- ব্যাখ্যা কর। ৩ ঘ) শায়লা একজন বিজ্ঞানী না প্রযুক্তিবিদ- যুক্তিসহ বিশ্লেষণ কর। ৪ উত্তর ক.বৈজ্ঞানিক কর্মপদ্ধতি : বিজ্ঞানীরা যে বিশেষ পদ্ধতিতে কোন সমস্যা সমাধান করে থাকেন তাকে বৈজ্ঞানিক কর্মপদ্ধতি বলে। খ. বৈজ্ঞানিক কর্মপদ্ধতি গ্রহণ করার সুবিধা: বৈজ্ঞানিক কর্মপদ্ধতি গ্রহণ করার সুবিধাগুলো নিম্নরূপ- বিজ্ঞানীরা তাদের গবেষণা কর্মের জন্য সুশৃঙ্খল ও ধারাবাহিক নিয়ম-নীতি অনুসরণ করে থাকেন। এ পদ্ধতিতে সূক্ষ গাণিতিক যুক্তি, তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ, পরীক্ষালব্ধ ফলাফল ও এর তাত্পর্য অনুধাবন, নতুন তত্ত্ব ও তথ্যের অবতারণা, নব নব জ্ঞান সৃষ্টি, যান্ত্রিক উদ্ভাবন ইত্যাদি জটিল কর্মকাণ্ড সম্পৃক্ত থাকে। আর এজন্যই আমরা একটি নির্দিষ্ট নিয়মতান্ত্রিক কার্য শেষে খুব সহজেই সুনির্দিষ্ট ও নির্ভরশীল একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পারি। গ. বিজ্ঞানের আবিষ্কারগুলো ব্যবহার করে রোগীর চিকিত্সা : শায়লা একজন চিকিত্সক। সে বিভিন্নভাবে বিজ্ঞানের আবিষ্কারগুলোকে মানবকল্যাণে ব্যবহার করতে পারে। উন্নতমানের রোগ নির্ণয়ের জন্য বিজ্ঞানীদের বিভিন্ন যন্ত্রপাতি আবিষ্কারের কারণে শায়লা তথা চিকিত্সকরা খুব সহজেই বিভিন্ন জটিল রোগ নির্ণয়ে সমর্থ হয়। যেমন- এক্সরে, আল্ট্রাসনোগ্রাফি আবিষ্কারের ফলে অতি সহজেই শব্দতরঙ্গ ব্যবহার করে শরীরের ভিতরের অনেক জটিল সমস্যা চিহ্নিত করা সম্ভব হচ্ছে, ইসিজি-এর মাধ্যমে জটিল হূদরোগ নির্ণয় করছে, বিভিন্ন ক্ষেত্রে লেজার রশ্মি ব্যবহার করেও অস্ত্রোপচার করছে, ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ইনসুলিন ব্যবহার করা হচ্ছে, ক্যান্সার চিকিত্সায় ক্যামোথেরাপী, রেডিওথেরাপী ইত্যাদি ব্যবহার করছে। এভাবে বিজ্ঞানীদের আবিষ্কৃত উন্নতমানের ঔষধ, টিকা ইত্যাদিকে শায়লা রোগ নিরাময়ে ব্যবহার করছে। এর ফলে মানুষের মৃত্যুহার কমছে, বাড়ছে গড় আয়ু। ঘ. শায়লা বিজ্ঞানী না প্রযুক্তিবিদ- যুক্তিসহ বিশ্লেষণঃ আমরা জানি, যাঁরা গবেষণা কর্মের জন্য সুশৃঙ্খল ও ধারাবাহিক নিয়ম-নীতি অনুসরণ করে থাকেন এবং এ পদ্ধতির মাধ্যমে বিভিন্ন যন্ত্রপাতি আবিষ্কার করে থাকেন তাঁরাই বিজ্ঞানী। পক্ষান্তরে, যাঁরা বিজ্ঞানের নানাবিধ আবিষ্কারকে মানবকল্যাণে ব্যবহার করে থাকেন তাঁরাই প্রযুক্তিবিদ। প্রযুক্তিবিদরা কোন কিছু আবিষ্কার করেননা ঠিকই, কিন্তু তাঁরা বিজ্ঞানের তথা বিজ্ঞানীদের সুন্দর ও ফলপ্রসূ আবিষ্কারগুলোর যথাযথ ব্যবহার করেন। শায়লা একজন চিকিত্সক। চিকিত্সা ক্ষেত্রে সে বিজ্ঞানের অনেক অত্যাধুনিক আবিষ্কারকে মানবকল্যাণে ব্যবহার করে আসছে। আধুনিক ও কার্যকর চিকিত্সা সেবা দিতে গিয়ে তাকে প্রতিনিয়ত বিজ্ঞানের আবিষ্কারগুলোর দ্বারস্থ হতে হয়। যেহেতু বিজ্ঞানের আবিষ্কারগুলোর যথাযথ ব্যবহারের মাধ্যমেই শায়লা বিভিন্ন রোগ-ব্যাধির চিকিত্সা করে মানবসেবা করে আসছে, সেহেতু সে একজন প্রযুক্তিবিদ। সুতরাং সিদ্ধান্ত এই যে, শায়লা বিজ্ঞানী নয় বরং সে একজন প্রযুক্তিবিদ।