‘তিরিশ বছর ভিজায়ে রেখেছি দুই নয়নের জলে’-চরণটির অর্থ বুঝিয়ে বলো

আপডেট : ১৫ ডিসেম্বর ২০১২, ১৮:৫৪
কবর : জসীমউদ্দীন ১. নিচের অনুচ্ছেদটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও আবরার রহমান এবং তাঁর ভাই সপরিবারে দেশের বাড়ি ঈদ করতে যাওয়ার সময় ট্রেন দুর্ঘটনার কবলে পড়েন। পরিবারের সাত জনের ছয় জনই মারা গেল। বেঁচে রইল আবরার সাহেবের ছোট ছেলে আবির। বাবা-মাসহ পরিবারের সবার কবরের সামনে আজ সে নিঃস্ব, একা। পৃথিবীতে তাকে একা ফেলে রেখে সবাই চলে গেছে। ক.‘কবর’ কবিতাটি প্রথম কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়? ১ খ.‘তিরিশ বছর ভিজায়ে রেখেছি দুই নয়নের জলে’-চরণটির অর্থ বুঝিয়ে বলো। ২ গ.উদ্দীপকের কোন দিকটি ‘কবর’ কবিতায় প্রতিফলিত হয়েছে - ব্যাখ্যা করো। ৩ ঘ. ‘আবির এ পৃথিবীতে আজ নিঃস্ব একা’ ‘কবর’ কবিতা অবলম্বনে এ উক্তিটির তাত্পর্য তুলে ধরো। ৪ ১নম্বর প্রশ্নের ‘ক’-এর উত্তর ‘কবর’ কবিতাটি ‘কল্লোল’ পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়। ১ নম্বর প্রশ্নের ‘খ’-এর উত্তর ‘তিরিশ বছর ভিজায়ে রেখেছি দুই নয়নের জলে’ পঙিক্তর মাধ্যমে বৃদ্ধের স্ত্রী হারানোর বেদনার স্থায়িত্বকে বোঝানো হয়েছে। ত্রিশ বছর আগে বৃদ্ধের স্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে। ত্রিশ বছর ধরে শোকার্ত বৃদ্ধের চোখের জলে তাঁর স্ত্রীর কবর সিক্ত হয়েছে। স্ত্রীর মৃত্যু বৃদ্ধকে জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত শোককাতর করে রাখে। ১ নম্বর প্রশ্নের ‘গ’-এর উত্তর উদ্দীপকের আবিরের বেদনার সাথে ‘কবর’ কবিতায় স্বজন হারানোর বেদনা প্রতিফলিত হয়েছে । ‘কবর’ কবিতায় বৃদ্ধ দাদু এক এক করে হারিয়েছেন তাঁর আপনজনদের। প্রিয়জনের স্মৃতিধারণ করে একমাত্র নাতিকে নিয়ে বেঁচে আছেন এক বুক যন্ত্রণা নিয়ে। বয়সের ধারাক্রমে তাঁর আগে কবরদেশে যাওয়ার কথা থাকলেও প্রিয়জনরা তাঁকে একা করে চলে গেছে। উদ্দীপকে আবিরের পরিবারের সকল সদস্য নিহত হয়েছে এক মর্মান্তিক ট্রেন দুর্ঘটনায়। আবিরের প্রিয়জন হারানোর বেদনার সঙ্গে ‘কবর’ কবিতার বৃদ্ধ দাদুর বেদনার মিল আছে। আবিরের মতো তিনিও তাঁর পরিবারের প্রায় সবাইকে একে একে হারিয়েছেন। তাঁর চোখের সামনে মৃত্যু ঘটেছে স্ত্রী, পুত্র, কন্যা, পুত্র-বধূ ও নাতনির। প্রিয়জন হারানোর বেদনা নিয়ে তাই তিনি মৃত্যুর জন্যে প্রতীক্ষা করেছেন। তবে তাঁর সকল বেদনার কথা প্রকাশ করার মতো বৃদ্ধ বয়সের একমাত্র অবলম্বন নাতিটি বেঁচে ছিল। স্বজন হারানোর দিক থেকে আবিরের সঙ্গে বৃদ্ধ দাদুর সাদৃশ্য থাকলেও আবিরের কষ্টের অনুভূতি আরও গভীর। কেননা পৃথিবীতে তাকে একা রেখে সবাই চলে গেছে। আবিরের এ প্রিয়জন হারানোর বেদনাই বৃদ্ধ দাদুর মাধ্যমে ‘কবর’ কবিতায় প্রতিফলিত হয়েছে। ১ নম্বর প্রশ্নের ‘ঘ’-এর উত্তর জসীমউদ্দীন-এর ‘কবর’ কবিতায় স্বজনের মৃত্যুতে বৃদ্ধ দাদুর বেদনার সঙ্গে তুলনীয় উদ্দীপকের আবিরের স্বজন হারানোর বেদনা। ট্রেন দুর্ঘটনায় আবিবের পরিবারের সকল সদস্য নিহত হওয়ায় এ পৃথিবীতে সে আজ একা। ‘কবর’ কবিতায় বৃদ্ধ দাদুর পরিবারের একমাত্র নাতি ছাড়া আর কেউ বেঁচে নেই। তাঁর চোখের সামনে একে একে তাঁর স্ত্রী, পুত্র, পুত্রবধূ, কন্যা ও নাতনির মৃত্যু ঘটেছে। প্রিয়জন হারানোর বেদনা তাঁকে হতবিহ্বল করেছে। উদ্দীপকের আবিরকেও স্বজন হারানোর বেদনা স্পর্শ করেছে। এক মর্মান্তিক ট্রেন দুর্ঘটনায় তার পরিবারের প্রায় সবাই নিহত হয়েছে। মৃত স্বজনদের কবরের পাশে দাঁড়িয়ে কান্না ছাড়া তার দ্বিতীয় কোনো উপায় নেই। সে আজ চরম একতা। তার আর আপন বলতে কেউ নেই। পৃথিবী তার কাছে এখন যেনো বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। ‘কবর’ কবিতায় বৃদ্ধ দাদু অন্তত নাতিকে তাঁর যন্ত্রণার কথা বলতে পেরেছিলেন। কিন্তু আবিরের সে সুযোগও নেই। মাতা-পিতাকে হারিয়ে সে আজ পৃথিবীতে একা। স্বজন হারানোর বেদনা তাকে অনেক বেশি দগ্ধ করেছে। কারণ ‘কবর’ কবিতার দাদুর চেয়ে সে অনেক বেশি অসহায়। দাদুর দুঃখ প্রকাশ করার অন্তত একটি অবলম্বন টিকে আছে। দাদু তাঁর ত্রিশ বছরের জমানো বেদনার কথা প্রকাশ করতে পারেন নাতির কাছে। কিন্তু আবিরের তেমন কেউ আছে বলে আমরা উদ্দীপকে পাই না তাই আমরা বলতে পারি কবিতার সাথে গভীর বেদনার মিল রয়েছে উদ্দীপকের।