রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে সেমিনার

‘মিয়ানমারের সঙ্গে আলোচনায় আরও কঠোর হতে হবে’

আপডেট : ২৮ এপ্রিল ২০১৯, ২১:৩৯

রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে মিয়ানমারের সঙ্গে আলোচনায় বাংলাদেশের ভাষা আরও কঠোর হওয়া উচিত বলে মনে করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্ন্তজাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ও সেন্টার ফর জেনোসাইড স্টাডিজের পরিচালক অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ। 

রবিবার রাজধানীর বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশাল অ্যান্ড স্ট্যাটেজিক স্টাডিজ (বিস্) মিলনায়তনে ডিক্যাব আয়োজিত সেমিনারে তিনি এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকারের বডি ল্যাংগুয়েজ পরিবর্তন করা উচিৎ। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুর মতো সংকট নিয়ে কূটনৈতিক তৎপরতা চালানো বেশ কঠিন এবং জটিল। বিশ্বের আন্যান্য শরণার্থী সংকটের ক্ষেত্রেও একই ধরনের জটিলতা আছে। কিন্তু বাংলাদেশ বরং অন্যদের চেয়ে সংকট মোকাবেলায় অনেক বেশি মানবিকতা দেখিয়েছে, সাফল্যেরও পরিচয় দিয়েছে।
 
গণমাধ্যমের কূটনৈতিক প্রতিবেদকদের সংগঠন ডিক্যাব ‘রোহিঙ্গা ক্রাইসিস: ইন্টারন্যাশনাল রোল ফর টেনজিবল সলিউশন ইন রাখাইন’ শিরোনামের এই সেমিনারের আয়োজন করে। সেমিনারে আলোচনায় অংশ নেন পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক, জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাই কমিশনের (ইউএনএইচসিআর) বাংলাদেশে প্রতিনিধি স্টিভেন কর্লিস, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সমুদ্রসীমা বিষয়ক সচিব খুরশীদ আলম। ডিক্যাব সভাপতি রাহীদ এজাজ সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন ডিক্যাব সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম হাসিব। 

অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, বাংলাদেশ রোহিঙ্গা সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধান চায়। এ জন্য মিয়ানমারের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার পাশাপাশি আর্ন্তজাতিক অঙ্গনেও কূটনৈতিক তৎপরতা চালাচ্ছে। কিন্তু এখন সময় এসেছে মিয়মানমারের সঙ্গে আলোচনায় ‘বডি ল্যাংগুয়েজ’ পরিবর্তন করা, কঠোর ভাষা ব্যবহার করা। 

আরো পড়ুন: রোহিঙ্গা শিবিরে রাখাইনের শীর্ষ ইয়াবা গ্রুপ

তিনি বলেন, রাখাইনে মিয়ানমার গণহত্যা চালিয়েছে। এ ব্যাপারে জাতিসংঘের প্রতিবেদনেই তথ্য প্রমাণ রয়েছে। মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ শুধু রোহিঙ্গাদের ওপর নয়, অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর ওপরও একই ধরনের জাতিগত নিধনযজ্ঞ চালিয়েছে। তাই আর্ন্তজাতিক আদালতে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গণহত্যার বিচার অনেক বেশি সহজ। 

ইউএনচসিআর প্রতিনিধি স্টিভেন কর্লিস বলেন, জাতিসংঘ চায় রোহিঙ্গারা দ্রুত মিয়ানমারে ফেরত যাক। কিন্তু সেক্ষেত্রে তাদের নিরাপদ বসবাস এবং নাগরিক অধিকারের নিশ্চয়তা নিশ্চিত হতে হবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশে অবস্থানের সময় তাদের মানবিক চাহিদা যথাযথভাবে পূরণ করতে হবে। বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের মানবিক আশ্রয় দিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে এবং এ সংকট ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রেও যথেষ্ট সাফল্যের পরিচয় দিয়েছে। ভাসানচরে স্থানান্তরের ক্ষেত্রে রোহিঙ্গাদের শরণার্থী হিসেবে পূর্ণ সুরক্ষা দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করার জন্য বাংলাদেশের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে। 

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে স্থানান্তরের বিরুদ্ধে জাতিসংঘ, এটা মনে করার কারণ নেই। কেন ভাসানচরে স্থানান্তর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে তা জাতিসংঘের কাছে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। জাতিসংঘের তিনটি সংস্থার কর্মকর্তারা ভাসানচরের ব্যাপারে সন্তুষ্ট হয়েছেন। এর আগে জাতিসংঘের মহাসচিবের বিশেষ দূত সফরেরর পর যে প্রতিবেদন দিয়েছেন সেখানেও ভাসানচর নিয়ে কোন নেতিবাচক মন্তব্য নেই। 

তিনি বলেন, বাংলাদেশ রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আশ্রয় দিয়ে যে মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে, অন্য কোন দেশের ক্ষেত্রে তা কল্পনাও করা যায় না, এমন বক্তব্য জাতিসংঘের কর্মকর্তারাই দিয়েছেন। অতএব বাংলাদেশ এ সংকট মোকাবেলায় একশ’ নম্বরের মধ্যে একশ’ দশ নম্বর পাওয়া উচিত। এ ধরনের জটিল শরণার্থী সংকট নিয়ে কূটনীতি সব সময়ই কঠিন। বাংলাদেশের কূটনৈতিক তৎপরতাও সঠিক পথেই এগুচ্ছে। 

ইত্তেফাক/এমআই