মেসি নিশ্চয়ই গোলের হিসাব কষে বছর শুরু করেননি। তারপরও রেকর্ডের পেছনে তিনি ছুটছেন। আর নতুন নতুন দাবি উঠছে। সর্বশেষ জার্ড মুলারের রেকর্ড ভেঙে এক পঞ্জিকাবর্ষে সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার পর পৃথিবীর নানা প্রান্ত থেকে দাবি উঠল, তাদের কাছে আরও বেশি গোলদাতার খবর আছে। বিশেষ করে জাম্বিয়ার গডফ্রে চিতালুর ১০৭ গোল নিয়ে দাবিটা জোরদার হয়ে উঠেছিল।
কিন্তু ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা ফিফা জানিয়ে দিয়েছে, তারা মেসি কিংবা চিতালু; কারো পক্ষ নিতে পারবে না। তারা পরিষ্কার করে দিয়েছেন, ফিফার হিসাবের বাইরের এসব দাবির সত্যতা যাচাই করা সম্ভব না।
জাম্বিয়ার পক্ষ থেকে ফিফার সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে দাবি জানানোর ঘোষণা দিয়েছিল দেশটির ফুটবল ফেডারেশন। তারা বলেছিল সে দেশের কিংবদন্তী গডফ্রে চিতালুর এই ১০৭ গোলেরই রেকর্ড আছে তাদের কাছে। কিন্তু শুক্রবার ফিফা জানায়, এ হিসাব তারা গ্রহণ করতে পারে না। একই সঙ্গে তারা মেসির রেকর্ড হয়েছে কিনা, মুলার আগের রেকর্ডের মালিক ছিলেন কিনা; এসব আলোচনা থেকেও নিজেদের দূরে রাখতে চেয়েছে। এই ঘোষণা দিয়ে ফিফা’র যোগাযোগ বিভাগ তাদের টুইটার অ্যাকাউন্টে বলেছে, ‘গডফ্রে চিতালুকে নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় ধন্যবাদ। আমাদের অফিসিয়াল পরিসংখ্যান শুধুমাত্র ফিফা প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যে সীমাবদ্ধ। তাই আমরা এ রেকর্ডের সত্যতা যাচাই করতে পারব না।’ আরো যোগ করা হয়,‘আমরা ফিফার সব প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য রেকর্ড রাখি।’
এদিকে ফিফার মুখপাত্র অ্যালেক্স স্টোন বিবিসিকে বলেছেন, ‘আমরা ঘরোয়া ফুটবলের রেকর্ড রাখি না। তাই অত্যন্ত দুঃখজনকভাবে আমরা এই আলোচনায় কোনো পক্ষ নিতে পারছি না। এটা নিতান্তই সমর্থকদের তৈরি করা হিসাব। আমি জানি, সমর্থক ও সংবাদ মাধ্যমের এ ধরনের রেকর্ড পেতে পছন্দ হয়। কিন্তু আমরা নিরূপায়।’
রোববার বার্সেলোনা ফরোয়ার্ড মেসি ১৯৭২ সালে গড়া জার্ড মুলারের এক বছরে সর্বোচ্চ ৮৫ গোলের রেকর্ড ভেঙে ছাড়িয়ে যান। এ বছর এখন পর্যন্ত আর্জেন্টিনা তারকার গোলের সংখ্যা ৮৮। আচমকা বৃহস্পতিবার দাবি ওঠে, জাম্বিয়া কিংবদন্তী চিতালু মুলারের রেকর্ডের বছরেই সব মিলিয়ে ১০৭টি গোল করেন। এমনকি একটি সাদা-কালো ফটোগ্রাফ ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়া হয়, যেখানে ‘১৯৭২ গডফ্রে চিতালু ১০৭ গোল’ লেখা সংবলিত একটি বল হাতে দাঁড়িয়ে আছেন স্যুট পরিহিত হাস্যোজ্জ্বল চিতালু।
এখন দেখার বিষয়; এই বিতর্ক কিভাবে শেষ হয়। নাকি আরেকটি ক্ল্যাসিক ফুটবল-বিতর্ক হিসেবে থেকে যায় এটিও!
