একচল্লিশ বছরে কৃষি ও কৃষক

আপডেট : ১৫ ডিসেম্বর ২০১২, ২১:০৫
দেশ স্বাধীনের একচল্লিশ বছর। বিভিন্ন ক্ষেত্রে যোগ হয়েছে নানা সফলতার গল্প। অর্জিত হয়েছে কাঙ্খিত খাদ্য নিরাপত্তা। স্বাধীনতার একচল্লিশ বছর পর এ গর্বে আমাদের বুক ফুলে ওঠে। তবে কৃষি ক্ষেত্রে যেমন সফলতা এসেছে তেমনি কৃষিকে যারা এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে তাদের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হয়নি। এই একচল্লিশ বছরে দেশের জনসংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে। আর এর পরিপ্রেক্ষিতে খাদ্য উত্পাদন বেড়েছে তিনগুণ। তবে আবাদি জমি কমেছে। এই কম জমিতে বেশি ফসল উত্পাদনের কারণ হচ্ছে আমাদের দেশে আধুনিক কৃষির হাওয়া লেগেছে। যদিও কৃষক গরু-লাঙল এখনো পুরোপুরি ছাড়তে পারেনি। তবে উচ্চফলনশীল জাতের ধান আবাদের সুবাদে আমাদের খাদ্য নিরাপত্তার অনেক উন্নতি সাধিত হয়েছে। এক্ষেত্রে একটি কথা আমাদের মনে রাখ েত হবে যে, অন্যান্য ফসল বাদ দিয়ে শুধু ধান চাষ করা কখনই কৃষকের কাম্য হতে পারে না। ধানের পাশাপাশি গম, ভুট্টা, আলু, ডাল জাতীয় ফসল, তেল জাতীয় ফসলসহ অন্যান্য ফসলের চাষ করতে হবে। পাটের চাষ ধরে রাখতে হবে। কৃষক তার উত্পাদিত ফসলের প্রকৃত মূল্য পাচ্ছে না এ কথা আজ আর কেউ অস্বীকার করে না। কেন এমনটি হচ্ছে তা খতিয়ে দেখতে হবে। কৃষক যাতে তার ফসলের মূল্য পায় তার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সজাগ দৃষ্টি দিতে হবে। একজন কৃষকের কথা বলতে চোখের সামনে ভেসে ওঠে কঙ্কালসার একটা শরীর। সে শরীরে পুষ্টি নেই, পেটে ভাত নেই, পরিবারের খাদ্য নিরাপত্তা নেই, ছেলেমেয়ে লেখাপড়া শিখতে পারছে না ইত্যাদি সমস্যা আজ তাকে মোকাবিলা করতে হচ্ছে। রোদে পুড়ে বৃষ্টিতে ভিজে সে ফসল উত্পাদন করলেও তার পরিবারের খাদ্যের নিশ্চয়তা সে দিতে পারছে না। প্রাকৃতিক দুর্যোগ, অভাব-অনটনসহ হাজারো সমস্যায় কৃষক আজ অবহেলিত ও সুবিধাবঞ্চিত। একচল্লিশ বছরে কৃষিতে উন্নতি হলেও উন্নতি হয়নি কৃষকের। প্রাকৃতিক দুর্যোগ, জলবায়ু পরিবর্তন, ঝুঁকি বেশি, পরিবেশ দূষণ, কৃষি উপকরণের অভাব, দাম বেশি, ভেজাল, উত্পাদন খরচ বেশি, কৃষি পণ্যের দাম কম, সংরক্ষণের অভাব, দারিদ্রতা, মূলধনের অভাব, কৃষি জমি হ্রাস, মাটির উর্বরতা হ্রাস, সেচ সংকটসহ হাজারো সমস্যার জন্য প্রতি বছর জিডিপিতে কৃষির অবদান কমছে। কৃষি সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় এ পেশা ছেড়ে অন্য পেশায় চলে যাচ্ছে কৃষক। কৃষকের নিশ্চয়তা থাকতে হবে তার উত্পাদিত ফসলের প্রকৃতি মূল্য পাওয়ার। পাশাপাশি তার জীবন ব্যবস্থার উন্নতি করতে হবে। তার পরিবারের নিরাপত্তা দিতে হবে। কৃষির যেমন উন্নতি হয়েছে তেমনি কৃষকেরও উন্নতি দরকার। আমাদের মনে রাখতে হবে যে, কৃষিকে বাঁচাতে হলে কৃষক বাঁচাতে হবে আগে।