আজ ১৬ ডিসেম্বর। আমাদের গৌরবের মহান বিজয় দিবস। স্বাধীনতা যুদ্ধপর্বের অবিস্মরণীয় একটি দিন। লাখো শহীদের রক্তস্নাত বিজয়ের দিন। বিশ্বের মানচিত্রে নতুন স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসাবে বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ৪১ বছর পূর্তি আজ। পাকিস্তানি শাসকদের শোষণ, নিপীড়ন আর দুঃশাসনের কুহেলিকা ভেদ করে ১৯৭১ সালের এই দিনটিতে বিজয়ের প্রভাতী সূর্যের আলোয় ঝিকমিক করে উঠেছিল বাংলাদেশের শিশির ভেজা মাটি। অবসান হয়েছিল পাকিস্তানী শাসক গোষ্ঠীর শোষণ, বঞ্চনা আর নির্যাতনের কৃষ্ণতম অধ্যায়। নারী-পুরুষ-শিশু সবার চোখে ঠাঁই পেয়েছিল সীমাহীন আনন্দের অশ্রু। বিজয়ের অনুভূতির ঝিলিক। সেই মুহূর্তের প্রাপ্তির অনুভূতি ভাষার জালে কি সবটুকু তুলে আনা যায়!
১৭৫৭ সালে পলাশীর আম্রকাননে স্বাধীনতার যে সূর্য অস্তমিত হয়েছিল সেটির উদয় ঘটে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর। বিজয়ের মহামুহূর্তটি সূচিত হয়েছিল আজকের এই দিনে। ৯১ হাজার ৫৪৯ পাকিস্তানি সৈন্য প্রকাশ্যে আত্মসমর্পণ করেছিল। ঢাকার ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আমির আব্দুল্লাহ খান নিয়াজী মিত্র বাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডের সর্বাধিনায়ক লেফটেন্যান্ট জেনারেল জগজিত্ সিং অরোরার কাছে আত্মসমর্পণের দলিলে স্বাক্ষর করেছিলেন। দেনদরবার নয়, কারও দয়ার দানে নয়, এক সাগর রক্তের বিনিময়ে অর্জিত বিজয়ের পর নত মস্তকে পাকিস্তানি বাহিনী পরাজয় মেনে নেয়। পৃথিবীতে নতুন একটি রাষ্ট্র হিসেবে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে। আর এই বিজয়ের মহানায়ক হিসাবে যিনি ইতিহাসে চির অম্লান ও ভাস্বর হয়ে আছেন তিনি হলেন হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। আনন্দ অনেকভাবেই আসতে পারে জীবনে। কিন্তু মাতৃভূমির পরাধীনতার শৃঙ্খলমুক্তির জন্য প্রাণ উত্সর্গ করা যুদ্ধজয়ের আনন্দের কোনো তুলনা হয়! ৫৫ হাজার বর্গমাইলের এই সবুজ দেশে ৪১ বছর আগে আজকের এই দিনে উদিত হয়েছিল বিজয়ের লাল সূর্য। মুক্তিপাগল বাঙালি পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙ্গে স্বাধীনতার সূর্য ছিনিয়ে এনেছিলো। যে সূর্য কিরণে লেগে ছিল রক্ত দিয়ে অর্জিত বিজয়ের রং। সেই রক্তের রং সবুজ বাংলায় মিশে তৈরি করেছিল লাল সবুজ পতাকা। সেদিনের সেই সূর্যের আলোয় ছিল নতুন দিনের স্বপ্ন, যে স্বপ্ন অর্জনে অকাতরে প্রাণ দিয়েছিল এ দেশের ৩০ লাখ মানুষ। নয় মাসের জঠর-যন্ত্রণা শেষে এদিন জন্ম নেয় একটি নতুন দেশ, স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ।
বস্তুত:বাংলাদেশের স্বাধীনতার মাহেন্দ্রক্ষণ একদিনে আসেনি। এর পেছনে রয়েছে এই জাতির ঘাম ঝরানো সংগ্রাম। সেই সংগ্রামের মহান সেনাপতি হিসেবে কাউকে বিবেচনা করতে গেলেই উচ্চারিত হবে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাম। বঙ্গবন্ধু মানেই বাংলাদেশ। বঙ্গবন্ধু মানেই স্বাধীনতা। বঙ্গবন্ধু মানেই আমাদের নতুন অস্তিত্ব। ৫৫ হাজার বর্গমাইল জুড়েই তাঁর অস্তিত্ব বিদ্যমান।
ঔপনিবেশিক ইংরেজ শাসনামলে বাঙালি রক্ত দিয়েছে। লড়াই করেছে শোষণ বঞ্চনার বিরুদ্ধে। সোয়া ২শ’ বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি সংগ্রাম ও লড়াইয়ে রক্ত দিয়েছে এই বাঙালি জাতি। ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান নামক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পেছনেও ছিলো বাঙালিদের অবদান। বাঙালিরাই ছিলো পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মূল কারিগর। কিন্তু কয়েক বছরেই বাঙালির মোহভঙ্গ হয়। যে শোষণ বঞ্চনার বিরুদ্ধে তারা ইংরেজদের বিতাড়িত করেছিলো সেই একই রকম শোষণ বঞ্চনার মুখোমুখি হয়ে পড়ে কয়েক বছরের মধ্যেই। শুরু হয় সংগ্রামের নতুন যুগ। পাকিস্তানীরা এ ভূখন্ডের মানুষকে তাদের তাঁবেদার মনে করতো। অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক সর্বক্ষেত্রেই তারা বঞ্চিত করতো বাঙালিদের। এমনকি নির্বাচনের ফলাফল মেনে নিতেও তারা অস্বীকার করতো। ৫২’র ভাষা আন্দোলন, ৬৬’র ঐতিহাসিক ৬ দফা আন্দোলন, ৬৯’র গণ অভ্যুত্থান এ সবই ইতিহাসের বাঁক ঘুরিয়ে দেয়। ১৯৭০ সালের নির্বাচন সব পরিণতিকে দিয়ে দেয় চূড়ান্ত রূপ। শুরু হয় নতুন অধ্যায়। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে আসে বঙ্গবন্ধুর বজ নিনাদ ঘোষণা ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম’। এই ঘোষণা জাতির মনে বয়ে আনে অন্য এক প্রেরণা, জাগিয়ে তোলে মুক্তির উন্মাদনা। প্রায় ৯০ হাজার পাকিস্তানী বাহিনী আজকের এই দিনে রেসকোর্স ময়দানে আত্মসমর্পণের মধ্যদিয়ে পরাজয় বরণ করে।
মহান বিজয় দিবস পালনে যেন নতুন সাজে সেজেছে বাংলাদেশ। সারা দেশ ছেয়ে গেছে লাল-সবুজ পতাকায়। সেই ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের শিখা চিরন্তনের সামনে বিশাল মঞ্চ সাজিয়ে পালিত হচ্ছে মাসব্যাপী বিজয় উত্সব। আর এর প্রধান সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করছেন জাতীয় চার নেতার অন্যতম শহীদ ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলীর পুত্র মোহাম্মদ নাসিম। আজ রবিবার বিকালে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজিত বিজয় শোভাযাত্রায় সকলকে অংশগ্রহণ করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
আজ প্রত্যুষে ঢাকায় ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে মহান বিজয় দিবসের সূচনা হবে। আজ সরকারি ছুটির দিন। সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে নামবে শহীদদের প্রতি চিরকৃতজ্ঞ জনতার ঢল। বীর শহীদদের মহান ত্যাগের কথা স্মরণ করে কৃতজ্ঞ জাতি শহীদ বেদিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করবেন। দেশব্যাপী আজ বিভিন্ন ভবনের ছাদে পতপত করে উড়বে আমাদের জাতীয় পতাকা। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিরোধী দলীয় নেত্রী খালেদা জিয়া পৃথক বাণী দিয়েছেন।
রাষ্ট্রপতি : রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমান মহান বিজয় দিবসের বাণীতে দলমত নির্বিশেষে সকলকে মুক্তিযুদ্ধের লক্ষ্য ও চেতনা বাস্তবায়নে নিজ নিজ অবস্থান থেকে অবদান রাখার আহ্বান জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে মুক্তিযোদ্ধাদের অপরিসীম ত্যাগ ও বীরত্ব গাথা চিরদিন স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। দেশবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যে ঐতিহাসিক স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন, দীর্ঘ ৯ মাস সশস্ত্র যুদ্ধের মাধ্যমে তা এই দিনে চূড়ান্ত বিজয় অর্জনের মধ্যদিয়ে পরিপূর্ণতা পায়। তিনি আরো বলেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ একটি সুখী-সমৃদ্ধ সোনার বাংলায় পরিণত হোক এটাই আমার প্রত্যাশা।
প্রধানমন্ত্রী : এদিকে, মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বাণীতে বলেন, আমাদের মুক্তিযুদ্ধ ইতিহাসের কোন আকস্মিক ঘটনা নয়। জাতির জনকের অবিসংবাদিত নেতৃত্বে বাঙালি জাতির দীর্ঘ তেইশ বছরের স্বাধীনতা সংগ্রামের চূড়ান্ত ফসল ছিল একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ। আগামী দিনের বাংলাদেশ জাতির পিতার কাঙ্ক্ষিত সোনার বাংলা হবে এ প্রত্যাশা ব্যক্ত করে তিনি বলেন, সেখানে ধনী-দরিদ্র ভেদাভেদ থাকবে না এবং সকলের জন্য সম্ভাবনার দুয়ার থাকবে অবারিত। তিনি বলেন, ইতিমধ্যে বঙ্গবন্ধুর খুনীদের ফাঁসির রায় কার্যকর হয়েছে। জেলখানায় জাতীয় চার নেতা হত্যার পুনর্বিচার ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু হয়েছে। দেশে আইনের শাসন ও মানবাধিকার সমুন্নত রাখতে সব হত্যাকান্ডের বিচারে সরকার বদ্ধপরিকর।
বিরোধী দলীয় নেতা : বিরোধী দলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়া তার বাণীতে দেশবাসীকে বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে বলেছেন, শোষণ-বঞ্চনামুক্ত একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় নিয়েই ১৯৭১ সালে এদেশের মানুষ স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ নিয়েছিল। স্বাধীনতার পর বিভিন্ন সময়ে আমাদের গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রা বাধাগ্রস্ত হয়েছে, জনগণের মৌলিক ও মানবিক অধিকার খর্ব হয়েছে। কিন্তু প্রতিবারই এদেশের গণতন্ত্রপ্রিয় মানুষ লড়াই-সংগ্রামের মাধ্যমে গণতন্ত্র ও মৌলিক অধিকার পুনরুদ্ধার করেছে। স্বাধীনতা যুদ্ধের শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন তিনি।
জাতীয় পার্টি (জেপি): জাতীয় পার্টির (জেপি) চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এবং মহাসচিব শেখ শহীদুল ইসলাম ৪১তম বিজয় দিবস উপলক্ষে দেশবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে এক বিবৃতিতে বলেছেন, জাতির এই ক্লান্তিলগ্নে ১৯৭১ সালের ন্যায় মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্দীপ্ত হয়ে জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে হবে এবং এই বিজয় দিবসে ঐক্যবদ্ধভাবে আগামী দিনে ক্ষুধা, দারিদ্র্য, নিরক্ষরতা ও পশ্চাত্পদ চিন্তার বিরুদ্ধে নতুন সংগ্রামে জয়ী হওয়ার শপথ গ্রহণ করতে হবে। বিবৃতিতে তারা স্বাধীনতা সংগ্রামের অমর শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানান এবং মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সকল মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তিযুদ্ধের সকল সহায়ক শক্তির প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। বিবৃতিতে জেপি নেতৃদ্বয় বলেন, আমরা এই মুহূর্তে বিনম্র শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে; যার নেতৃত্বে বাঙালি জাতি তার স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অর্জন করতে সক্ষম হয়েছিল। আমরা এই মুহূর্তে আমাদের মুক্তিযুদ্ধে সহায়তাকারী ভারতীয় সেনাবাহিনীর যারা নিহত হয়েছিলেন, তাদের অবদানও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করছি।
কর্মসূচী :যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান বিজয় দিবস উদযাপন উপলক্ষ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে ব্যাপক কর্মসূচী গ্রহণ করা হয়েছে। সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। চিকিত্সার জন্য যুক্তরাজ্যে যাওয়ায় রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমান এবার বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পারছেন না। দিবসটি উপলক্ষ্যে আজ সকালে তেজগাঁও পুরনো বিমানবন্দরের জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে সম্মিলিত বাহিনীর কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কুচকাওয়াজের সালাম গ্রহণ করবেন এবং পরিদর্শন করবেন।
হাসপাতাল, কারাগার, এতিমখানা, ভবঘুরে কেন্দ্রসমূহে আজ পরিবেশন করা হবে উন্নতমানের খাবার। দেশের অব্যাহত শান্তি, সমৃদ্ধি ও অগ্রগতি কামনা করে মসজিদ, মন্দির, গির্জা, প্যাগোডায় বিশেষ দোয়া মোনাজাত ও প্রার্থনা করা হবে।
সশস্ত্র বাহিনীর কর্মসূচি :তেজগাঁও পুরাতন বিমানবন্দর এলাকায় সূর্যোদয়ের সময় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে ৩১ বার তোপধ্বনি করে বিজয় দিবসের কর্মসূচি শুরু হবে। জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে মহান বিজয় দিবস কুচকাওয়াজ-২০১২ অনুষ্ঠিত হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কুচকাওয়াজে সালাম গ্রহণ করবেন। অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ক্যাপ্টেন (অব.) এবি তাজুল ইসলাম এমপি ও তিন বাহিনীর প্রধানগণ উপস্থিত থেকে প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানাবেন। কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত থাকবেন জাতীয় সংসদের স্পিকার, মন্ত্রী পরিষদের সদস্যগণ, সংসদ সদস্যগণ এবং ঊর্ধ্বতন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাগণ। এছাড়া বিজয় দিবস কুচকাওয়াজে উপস্থিত থাকবেন সশস্ত্র বাহিনীর ১৭ জন বীর যোদ্ধা, যারা আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে যুদ্ধ করে আমাদের বিজয়কে তরান্বিত করেছিলেন। লে. জেনারেল ভিকে সিং, পিভিএসএম (অব.) এর নেতৃত্বে ভারতীয় বীর সেনানায়করা সস্ত্রীক জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে উপস্থিত থেকে কুচকাওয়াজ উপভোগ করবেন।
বেলা ২টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় সেনাবাহিনীর বাদক দল কর্তৃক বাদ্য পরিবেশন, একই সময়ে সদরঘাট এলাকায় নৌবাহিনীর বাদ্য পরিবেশন, মিরপুর ২ নম্বর জাতীয় স্টেডিয়াম এলাকায় বিমান বাহিনীর বাদ্য পরিবেশন এবং একই সময়ে ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সেনা, নৌ, বিমানবাহিনী ও অন্যান্য সংস্থার সম্মিলিত বাদকদলের বাদ্য পরিবেশন হবে। এছাড়া বেলা ২টা থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত নৌবাহিনীর ঢাকার সদরঘাট, নারায়ণগঞ্জের বিআইডব্লিউটিএ জেটি মাতলা ঘাট ও পাগলা ঘাট, চট্টগ্রামের নেভাল জেটি, খুলনার বিআইডব্লিউটিএ রকেট ঘাট, বাগেরহাট মংলার দিগরাজ নেভাল বার্থ এবং বরিশালের বিআইডব্লিউটিএ জেটি রকেট ঘাট সর্বসাধারণের পরিদর্শনের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
আওয়ামী লীগের কর্মসূচি: আওয়ামী লীগের গৃহীত দুই দিনের কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে সূর্যোদয় ক্ষণে ৬টা ৪৪ মিনিটে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়, বঙ্গবন্ধু ভবন ও সারাদেশের সংগঠনের কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, সকাল ৬টা ৪৫ মিনিটে সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পার্ঘ্য নিবেদন, সকাল ৮টায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন, সকাল ১০টায় টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন, মাজার জিয়ারত, দোয়া ও মিলাদ মাহফিল এবং নগরীর বিভিন্ন এলাকায় থেকে বিজয় শোভাযাত্রা নিয়ে পাক হানাদারদের আত্মসমর্পণের স্থান ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জমায়েত এবং সেখানে স্থাপিত শিখা চিরন্তনে আত্মসমর্পণের সময় বিকেল ৪টা ২০ মিনিটে শ্রদ্ধা নিবেদন এবং আগামীকাল সোমবার বিকাল ৩টায় বিজয় দিবস উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আলোচনা সভা। এতে প্রধান অতিথি থাকবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বিএনপির কর্মসূচি : বিএনপির উদ্যোগে এবং জাসাসের ব্যবস্থাপনায় বিকাল ৩টায় নয়াপলটনস্থ দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে মহান বিজয় বিজয় দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। আগামীকাল সোমবার বিকাল ৩টা থেকে একই স্থানে বিজয় দিবসের মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হবে।
জেপির কর্মসূচি : মহান বিজয় দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের লক্ষ্যে জাতীয় পার্টি-জেপি’র পক্ষ থেকে দুই দিনব্যাপী কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। কর্মসূচির ১ম দিন আজ সকাল ৭টায় জেপি’র সকল কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন, সকাল সাড়ে ৮টায় সাভারস্থ জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ ও শ্রদ্ধা নিবেদন করা হবে। কর্মসূচির ২য় দিন আগামী ১৮ ডিসেম্বর বিকাল ৪টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি কনফারেন্স হলে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।
এছাড়া জাতীয় পার্টি (এ), ওয়ার্কার্স পার্টি, জাসদ, সিপিবি, সাম্যবাদী দল, গণফোরাম, গণতন্ত্রী পার্টিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং অগণিত সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
