বিজয় দিবস উপলক্ষে গতকাল বিএনপি আয়োজিত আলোচনাসভায় দলের নেতারা বলেছেন, এই সরকারের সময় ফুরিয়ে এসেছে। মামলা হামলা গ্রেফতার করে কর্মীদের দমন করা যাবে না। একজন কর্মী গ্রেফতার করলে একশত কর্মী রাস্তায় নামবে। নেতৃবৃন্দ বলেন, যে দলটি নিজেদেরকে স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি দাবি করে তাদের হাতেই স্বাধীনতার চেতনা ভুলুণ্ঠিত। স্বাধীনতার চেতনা এখন বুটের তলায় পিষ্ট। ছাত্রলীগের চাপাতির কোপে লণ্ডভণ্ড । বিরোধীদলকে দমনের জন্য সরকার তার পেটোয়া বাহিনীর হাতে চাপাতি দিয়ে নামিয়ে দিয়েছে।
বিকালে রাজধানীর মহানগর নাট্যমঞ্চে বিএনপি আয়োজিত এই আলোচনাসভায় সভাপতিত্ব করেন বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ও দলের প্রধান সমন্বয়ক তরিকুল ইসলাম। প্রধান অতিথি বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, সরকারের বিরুদ্ধে সত্য কথা বলার জন্যই বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবকে জেলে যেতে হয়েছে। হাজার হাজার দলীয় নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। নাজিমউদ্দিন আলম গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারকের স্কাইপি কথোপকথন ছাপানোর দায়ে ‘আমার দেশ’ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। তারা ‘আমার দেশ’ বন্ধ করতে চায়। ড. মোশাররফ বলেন, যে দলটি নিজেদেরকে স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি দাবি করে তাদের হাতেই স্বাধীনতার চেতনা ভুলুণ্ঠিত। স্বাধীনতার চেতনা এখন বুটের তলায় পিষ্ট। ছাত্রলীগের চাপাতির কোপে লণ্ডভণ্ড । বিরোধীদলকে দমনের জন্য সরকার পেটোয়া বাহিনীর হাতে চাপাতি দিয়ে নামিয়ে দিয়েছে। এই স্বাধীনতার জন্য এদেশের বীর মুক্তিযোদ্ধারা যুদ্ধ করেননি। তরিকুল ইসলাম বলেন, আওয়ামী লীগ জিয়াউর রহমানকে স্বাধীনতার ঘোষক স্বীকার করতে চায় না। তার ঘোষণার কারণেই আমরা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ি। এই বিষয়টিকে তারা স্বীকার না করে মিথ্যা প্রচার চালায়।
ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, এই সরকার গত চার বছরে চরমভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছে। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নেই বললেই চলে। মাহমুদুর রহমানের ওপর যে অত্যাচার নির্যাতন চলছে তা আওয়ামী লীগের ফ্যাসিবাদী চরিত্রের বহিঃপ্রকাশ। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ডিসেম্বর মাসে আমরা আন্দোলন করছি। তিনি ভুলে গেছেন ’৯৪, ’৯৫ ও ২০০৬ সালে ডিসেম্বর মাসে তিনি লাগাতার হরতাল দিয়েছিলেন। তখন বিজয়ের মাসের কথা মনে ছিল না। এই সরকারের সময় ফুরিয়ে এসেছে। মামলা-হামলা-গ্রেফতার করে কর্মীদের দমন করা যাবে না। একজন কর্মী গ্রেফতার করলে একশত কর্মী রাস্তায় নামবে। একজনকে হত্যা করলে এক হাজার কর্মী জন্ম নেবে। অন্যদের মধ্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এমকে আনোয়ার, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিঞা, ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজউদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর বীর উত্তম, মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব আবদুস সালাম, মুক্তিযোদ্ধা সাদেক আহমদ খান বক্তব্য দেন।
