বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কে গতকাল শনিবার পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় চারজন নিহত ও সাতজন আহত, টাঙ্গাইলে দুই জন নিহত ও ৩০ জন আহত, কিশোরগঞ্জে ৩ জন এবং চট্টগ্রামে গত শুক্রবার আরো দু’জন মারা গেছে। গতকাল সকাল ৯টার দিকে বরিশালে রহমতপুর বিমানবন্দর এলাকায় মানিককাঠিগামী যাত্রীবাহী টেম্পোকে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি বালুভর্তি ট্রাক ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনা স্থলে রতন, রিপন হাওলাদার এবং বৃষ্টি নামের এক শিশু নিহত হয়। আহত হয় জেসমিন বেগম, টেম্পোচালক শাহিন, যাত্রী আ. কুদ্দুস, আনোয়ার জমাদ্দার, শাখাওয়াত হোসেন, আরিফ ও হানিফ। পুলিশ ঘাতক ট্রাকটিকে আটক করলেও চালক পালিয়ে যায়। অপর ঘটনায় সকাল ১০টায় বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কের গড়িয়ারপাড় তিলক এলাকায় ঢাকাগামী মাইক্রোবাসে চাপা পড়ে মাফিয়া নামের এক শিশু নিহত হয়েছে। বিমান বন্দর থানা পুলিশ মাইক্রোবাসটি আটক করেছে। অপর ঘটনায় টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ সড়কের কালিহাতী উপজেলার রাজাবাড়ীতে গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় বাস ও পিকাপের মুখোমুখি সংঘর্ষে এক শিশুসহ দুইজন নিহত এবং কমপক্ষে ৩০ জন আহত হয়েছে।
গতকাল সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে টাঙ্গাইল থেকে সাগরদীঘিগামী একটি যাত্রীবাহী বাসের সাথে ঘাটাইল থেকে ঝিনাইদহগামী মালবোঝাই একটি পিকাপের মুখোমুখি সংঘর্ষ হলে বাস ও পিকাপ রাস্তার দুই পাশে খাদে পড়ে যায়। এত ঘটনাস্থলেই দু’জনের মৃত্যু হয়। নিহতরা হলেন- টাঙ্গাইল শহরের থানাপাড়ার জাহিদুল ইসলাম ও ঝিনাইদহের কালিগঞ্জ উপজেলার গাড়াবাড়িয়া গ্রামের সেনাসদস্য (ময়মনসিংহ ক্যান্টনমেন্টে কর্মরত) মহসীনের মেয়ে নূপুর (১০)। নিহত জাহিদুল এসএমজি এনিমাল হেলথ কোম্পানির মার্কেটিং অফিসার। আহত ৩০ জনকে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এদিকে চট্টগ্রাম নগরীতে গত শুক্রবার পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় ইকবাল হোসেন ও আমির হোসেন নামের দুই যুবক নিহত হয়েছেন।
গত শুক্রবার রাত ১১টার দিকে কর্ণফুলী তৃতীয় সেতুর উত্তর পাশে মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনা ঘটলে ইকবাল হোসেন গুরুতর আহত হন। পরে তিনি চমেক হাসপাতালে চিকিত্সাধীন অবস্থায় রাতেই মারা যান। তিনি নগরীর কর্ণফুলী থানার শিকলবাহা এলাকার আলো মিয়ার ছেলে। অপর ঘটনায় একই রাত ১০টায় নগরীর খুলশী থানা এলাকায় সংঘর্ষ হলে সিটি সার্ভিসের দুটি বাসের একটি পথচারী আমির হোসেনকে চাপা দিয়ে পালিয়ে যায়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় চমেক হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিত্সক আমিরকে মৃত ঘোষণা করেন।
কিশোরগঞ্জে নিহত ৩
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি: কিশোরগঞ্জে বাসচাপায় শ্যালক-ভগ্নিপতিসহ ৩ ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। গতকাল শনিবার সন্ধ্যা ৭টায় কিশোরগঞ্জ-ময়মনসিংহ সড়কে সদর উপজেলার সাদুল্লারচর বাজারে ঘটনাটি ঘটেছে। উত্তেজিত লোকজন আইভি পরিবহনের বাসটিতে অগ্নিসংযোগ করে। পরে জনতা ব্যারিকেড দিলে রাত ৯টায় এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত উক্ত সড়কে সকল প্রকার যানবাহন চলাচল বন্ধ ছিল।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ময়মনসিংহ থেকে কিশোরগঞ্জগামী বাসটি দ্রুতগতিতে সাদুল্লারচর বাজার অতিক্রম করার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে আলাপরত কয়েকজন পথচারীকে চাপা দেয়। ঘটনাস্থলেই সাদুল্লারচর গ্রামের ইসহাক ভুঁইয়ার ছেলে হাফেজ মো. নোমানের (২০) মৃত্যু হয়। পরে গুরুতর আহত হাফেজ মো. নোমানের ভগ্নিপতি খোকন মিয়াকে জেলা সদর আধুনিক হাসপাতালে এবং হেলিম ভুঁইয়ার ছেলে আব্দুল মালেককে ঢাকায় নেয়ার পথে মারা যান।
